এক বছরে সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭৫ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২৫

এক বছরে সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭৫ জনের মৃত্যু

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সদ্য বিদায়ী বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেট বিভাগের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটি। ২০২৪ সালে এ বিভাগে ৩৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৭৫ জন। দুর্ঘঘটনাগুলোতে আহত হয়েছেন ৭০৯ জন। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকলে চালক ও আরোহী। বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলায় সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়েছেন।

Manual8 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

২০২৪ সালে সিলেট জেলায় ১৫৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫৭ জন নিহত ও ৩১৪ জন আহত হয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলায় ৬৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৬ জন নিহত ও ১০৮ জন আহত হয়েছেন। মৌলভীবাজার জেলায় ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ৭২ জন আহত হয়েছেন ও হবিগঞ্জ জেলায় ৮৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯৫ জন নিহত ও ২১৫ জন আহত হয়েছেন।

 

সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৭ জন, সিএনজি লেগুনা চালক ও যাত্রী ৮৫জন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৬১ জন, পথচারী ৬৯ জন, বৈদ্যুতিক খুটি ও গাছের সঙ্গে ধাক্কায় ৩০ জন নিহত হয়েছেন।

 

সিলেট জেলার সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে সিলেট-তামাবিল সড়কে ২০টি দুর্ঘটনায় ৩১ জন, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কে ২২টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন, সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে ১৩টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন, দরবস্ত-কানাইঘাট সড়কে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন, গোয়াইনঘাট সড়কে ৭টি দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে ২৮৭ জন পুরুষ, ৫৮ জন মহিলা ও ৩০ জন শিশু রয়েছে।

 

প্রতিবেদনে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে সিলেট বিভাগে ২৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬১ জন নিহত ও ৪৬৪ জন আহত হয়েছিলেন।

Manual5 Ad Code

 

নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট-চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মিশু গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, স্থানীয় ৫টি দৈনিক পত্রিকা, ২টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন পত্রিকার তথ্য, অনুমেয় অনুজ্জ বা অপ্রকাশিত ঘটনা ও নিসচার শাখা সংগঠনগুলোর রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও নিসচা সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন তৈরী করেছে।

 

প্রতিবেদনে সড়কে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ে অভাব, ট্রাস্কফোর্স কর্তৃক প্রদত্ত ১১১টি সুপারিশনামা বাস্তবায়ন না হওয়া, চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে ওভারটেকিং করা, লাইসেন্স ছাড়া চালক নিয়োগ, পথচারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব, সিটবেল্ট ব্যবহার না করা, বিরতি ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালানো, চালকেরা মাদকের আসক্তি, মহাসড়কে নির্মাণ ত্রুটি, গাড়িতে শিশুদের উপযোগী আসন না থাকা, সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও তিন চাকার গাড়ি বৃদ্ধি পাওয়া, মোটরসাইকেল চালকদের মানসম্মত হেলমেট ব্যববহার না করা, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, রোড মার্কিং পর্যাপ্ত না থাকা, রাস্তার পাশে হাটবাজার ও দোকানপাট বসানো ও চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানোকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এছাড়াও রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার অভাব, সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া, অশিক্ষিত ও অদক্ষ চালক দ্বারা গাড়ি চালানো ইত্যাদি দুর্ঘটনা মূল কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া জেলা পর্যায়ে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে অতিরিক্ত লোক সংখ্যা, অপর্যাপ্ত রাস্তা, মোটরসাইকেল ও রিক্সার আলাদা লেন না থাকা, অবৈধ ব্যাটারীচালিত যান, সড়ক-মহাসড়কে উঠে বেপরোয়া গতিতে চলা, পথচারীদের নিয়ম না মানার প্রবণতা, জেব্রাক্রসিং, ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস ব্যবহার না করে যত্রতত্র পারাপার ও রাস্তা চলাচল, রাস্তা পারাপার ও গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করাকে দায়ী করা হয়েছে।

Manual8 Ad Code

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code