হঠাৎ তামাবিল সীমান্তে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন

প্রকাশিত: ৮:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২৫

হঠাৎ তামাবিল সীমান্তে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক :
গুম বিষয়ক তথ্যচিত্রের শুটিংয়ের জন্য সিলেটে এসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

শনিবার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার ফ্লাইটে সিলেট আসার পর তিনি তামাবিল সীমান্ত এলাকায় যান। সেই স্থান পরিদর্শন করেন, তাঁকে যে পথ দিয়ে গুম করে ভারতে নেওয়া হয়েছিল।

Manual3 Ad Code

 

২০১৫ সালের ১০ মে সন্ধ্যায় তাকে এই পথে ভারতের শিলং নেওয়া হয় বলে দাবি করেন সালাউদ্দিন।

 

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম-খুন নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরি করা হচ্ছে। তার শুটিংয়ে অংশ নিতে তিনি তামাবিল সীমান্তে আসেন।

হঠাৎ তামাবিল সীমান্তে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন

সিলেট বিএনপি সূত্রে জানা গেছে- দলীয় কোনো কর্মসূচিতে নয়, সালাহউদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগ আমলে গুম হওয়ার ঘটনায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গুম কমিশনের উদ্যোগে করা তথ্যচিত্রের শুটিংয়ে অংশ নিতে এসেছেন। এ সময় তিনি ২০১৫ সালে তার গুম হওয়ার ঘটনার স্মৃতিচারণা করেন।

 

সূত্রে জানা গেছে- সালাহউদ্দিন আহমদকে চোখ বেঁধে কাদামাটি দিয়ে হাঁটিয়ে নেওয়া হয়েছিল। একপর্যায়ে তাকে সিঁড়ি বেয়ে কোনো উঁচু জায়গায় উঠিয়ে বাড়িতে রাখা হয়েছিল। সেখানে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ইংরেজিতে ও হিন্দি ভাষায় কথা বলেছিলেন। সেই বিষয়গুলো সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন।

 

বিএনপি নেতা আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ সিলেটের দলীয় নেতাকর্মী এবং দলের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এর বাইরে দলীয় কোনো কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেননি। শনিবার রাত ৮টার ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় ফিরবেন।

 

সকালে বিমানবন্দরে সালাহউদ্দিন আহমদকে স্বাগত জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য আবুল কাহের শামীম, বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমেদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা এম এ মালিক ও কামরুল হাসান চৌধুরী শাহীন।

 

২০১৫ সালের ১০ মার্চ গুম হওয়ার ৬৩ দিন পর সালাহউদ্দিন আহমদকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং শহরে পাওয়া যায়। আইনি জটিলতা ও মামলা মোকাবিলার কারণে তিনি প্রায় নয় বছর সেখানে অবস্থান করেন। দেশে ফেরার পথ সুগম হয় ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর। ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন।

Manual3 Ad Code

 

Manual5 Ad Code

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুমের ঘটনার তদন্ত করতে হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়েছে।

 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি, অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি, বিশেষ শাখা, গোয়েন্দা শাখা, আনসার ব্যাটালিয়ন, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা-এনএসআই, প্রতিরক্ষা বাহিনী, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর-ডিজিএফআই, কোস্ট গার্ডসহ দেশের আইন প্রয়োগকারী বা বলবৎকারী কোনো সংস্থার সদস্যের হাতে জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান ও তদন্তের জন্য এই কমিশন গঠন করা হয়েছে।

 

Manual2 Ad Code

দেশে ফেরার ১০ মাস পর ৩ জুন সালাহউদ্দিন আহমদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code