সিলেট ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
মেইল ডেস্ক:
চলতি মাসের শেষে তফসিল ঘোষণা করে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা ছিল নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। তবে নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় এ দুই মাসে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে এসে নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা করে আগামী বছরের জানুয়ারিতে ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটির।
ইসি সূত্র জানায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে জানা যায়, পুরো নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে স্কুলগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা চলবে। যার কারণে ভোটে শিক্ষকদের পাওয়া যাবে না। আবার বিদ্যালয়ের ভবনগুলোকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সে ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রগুলোও পাওয়া যাবে না। সবকিছু বিবেচনা করে নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা করে জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে ইসি। কারণ, জানুয়ারিতে ভোট করতে হলে আমাদের মিনিমাম ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। এজন্য নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, তবে জানুয়ারিতে একটি সময় পাওয়া যাবে। সে সময় কিছুটা ইউনিয়ন বৃদ্ধি করে ভোট করার সুযোগ রয়েছে। কারণ এরপর রোজা। রোজা শেষ হলে মার্চ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হবে। এরপর আবার কিছু সময় পাওয়া যাবে। কিন্তু ৬ জুন থেকে আবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হবে। এজন্য প্রথম ধাপ জানুয়ারিতে করে এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর মে মাস থেকে আবার একাধিক ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদ জানান, পরীক্ষা ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে জানুয়ারি থেকে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ইসি।
এর আগে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে পরীক্ষা থাকায় নির্বাচন আয়োজনের জন্য সময়ের ‘স্পেস’ খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। আগে তো আমাকে স্লটটা পেতে হবে নির্বাচন করার জন্য। এবারে আমাদের স্পেশালিটি হচ্ছে, পুরো নভেম্বর এবং ডিসেম্বরজুড়ে পরীক্ষা হচ্ছে। পুরো অলমোস্ট খুবই গ্যাপ কম পাওয়া গেছে। আমরা দুটো জায়গায় ঢুকিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আবার দেখতে হবে, আমাদের আজকে প্রাপ্ত উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে যেগুলো আদৌ সম্ভব কি না। আমরা জানুয়ারিতে ফাঁকা সময় পাচ্ছি কিছুটা এবং আপনারা এটাও জানেন যে ৭ বা ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার রোজা শুরু। রোজা শেষ হওয়ার মাত্র এক দিন পর থেকে আবার এসএসসি পরীক্ষা শুরু। এসএসসি শুরু শেষে আবার গিয়ে ওই জুন মাসের ৬ তারিখে এইচএসসি শুরুর মাঝখানে আবার একটা সময় পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় নির্বাচনে ৯৮ হাজার কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের জন্য আলাদা ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যেখানে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ১৯৬টি। এসব ভোটকেন্দ্রে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
স্থানীয় নির্বাচনে ভোটার প্রায় ১২ কোটি ৮৮ লাখ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তালিকা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দেশে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫, নারী ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৬৭ জন।
ইউনিয়ন পরিষদের রোডম্যাপে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের আগে ২৮৯টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৮১টি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১১০টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মামলা, সীমানা-জটিলতাসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়নি। দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ ৪ হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই ৩ হাজার ৯৮১টি নির্বাচন উপযোগী হবে। বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে।
পৌরসভার রোডম্যাপ অনুযায়ী, দেশের মোট ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী। আইনি জটিলতার কারণে ১০টি পৌরসভা এখনো নির্বাচন উপযোগী নয়।
উপজেলা পরিষদের রোডম্যাপ থেকে জানা যায়, নতুন ৫টি উপজেলাসহ দেশে মোট উপজেলা ৫০০টি। কোনো উপজেলাতেই নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সব উপজেলাই নির্বাচন উপযোগী।
রোডম্যাপ অনুযায়ী, নতুন সিটি করপোরেশন বগুড়াসহ ১৩টি সিটি করপোরেশনের কোনোটিতেই নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সব সিটিই নির্বাচন উপযোগী।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ৬১টি জেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধাপে ধাপে ৫৬টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে পৌরসভাগুলোও প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন।
(সুরমামেইল/এমএইচ)
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি