ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা নিয়েই রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের নির্বাচন প্রস্তুতি

প্রকাশিত: ৭:৫৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০২৫

ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা নিয়েই রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের নির্বাচন প্রস্তুতি

Manual3 Ad Code

নিজস্ব সংবাদদাতা :
রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের আগামী ২৯ নভেম্বর নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের মাঝে নানা জল্পনা-কল্পনা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

Manual6 Ad Code

 

৪৬৫৮ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ভোটার নির্বাচনের খবরই জানে না। অর্থাৎ অধিকাংশ আজীবন সদস্য বা ভোটার এ ব্যাপারে কোন চিঠি পাননি। এছাড়াও যে ভোটার লিস্ট রয়েছে সেখানে দেখা যায়- অধিকাংশ ভোটারের এনআইডি কার্ড নম্বার, মোবাইল নম্বার, ঠিকানা ও পিতার নাম নেই। মৃত ব্যক্তির নামও ভোটার তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

এদিকে রেডক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে একজন আজীবন সদস্য থাকার কথা থাকলেও তা রহস্যজনক কারণে কমিটিতে রাখা হয়নি। সাঈদা পারভিন, অমিত দত্ত ও বর্তমান উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জীবনকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করা হয় এবং যাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে তিনি রেডক্রিসেন্ট বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ দপ্তর সম্পাদক।

 

আওয়ামী সমর্থিত ৩ বারের ট্রেজারী পদে থাকা মোঃ আমিনুল ইসলাম, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার কমল পদপাল ও সৈয়দ ইমরুল হোসেনের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্য করেন বলে জানা গেছে এবং সৈয়দ ইমরুল হোসেনের স্ত্রী দিলরুবা জাহানও উক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। সৈয়দ ইমরুল হোসেন ও কমল পদপাল দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর যাবৎ একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

 

এদিকে ভুক্তভোগীরা জানান, রেডক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের সিন্ডিকেট না ভাঙ্গলে রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে দূর্নাম বয়ে আনবে। এছাড়াও সিলেট ইউনিটের এডক কমিটির সেক্রেটারী থাকা অবস্থায় রেডক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারী পদে নির্বাচন করার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। সেক্রেটারী পদপ্রার্থী মোঃ আমিনুল ইসলাম আওয়ামী দোসর বলে অনেকে জানান।

 

তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও সিলেট জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট নাসির উদ্দিন খানের অত্যন্ত আস্থাভাজন হওয়ায় বিভিন্ন দূর্ণীতি ও বদলি বাণিজ্য চালিয়ে যান বলে জানা গেছে।

 

এছাড়া তিনি টেজারার থাকা অবস্থায় ১২ জনকে অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে নিয়োগ বাণিজ্য সম্পর্কে রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের পরিচালক জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বা সবকিছুর দায়িত্ব রেডক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের উপ-পরিচালকের কাছে বলে জানান।

 

এদিকে সিলেট ইউনিটের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জীবন জানান, নিয়োগ বিষয়টি আমার দায়িত্বে নেই, এটা হাসপাতাল পরিচালকের দায়িত্ব। তবে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে জানান। তবে তিনি পত্রিকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখাতে পারেননি।

 

এছাড়াও ভোটার তালিকা ত্রুটি সম্পর্কে সিলেট ইউনিটের পরিচালক জানান, কিছু ত্রুটি রয়েছে, অনেক পুরাতন সদস্যের তথ্য আমরা সঠিক ভাবে পাইনি।

 

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে কথা হয় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এম এ মালেক খানের সাথে।

 

তিনি জানান, ১৯৮৮ সাল থেকে তিনি রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের আজীবন সদস্য। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে কিন্তু আমি এব্যাপারে কিছুই জানি না। অথচ তিনি একজন প্রবীণ আজীবন সদস্য। তবে এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

 

রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের উপ-পরিচালক জানান, যারা আজীবন সদস্য রয়েছেন তারা সবাই সচেতন হওয়া উচিত। এদিকে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে অনেকেই দ্বিমত পোষন করেছেন।

Manual2 Ad Code

 

তবে এ ব্যাপারে রেডক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের আজীবন সদস্য জালাল উদ্দীন শামীম, কামরুজ্জামান দিপু, আলাউদ্দিন, মজনুজ্জামান জানান, বর্তমানে ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ শাষিত দূর্নীতিবাজদের সাথে নিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনও সম্ভব নয়।

 

Manual1 Ad Code

আজীবন সদস্যকে সাথে নিয়ে ৫ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন ও সুষ্ঠু ভোটার তালিকা তৈরি করে নির্বাচনের দাবি জানান তারা।

 

অপর এক সদস্য আনিছুজ্জামান জানান, ভোটার লিস্টে একই মোবাইল নম্বার দিয়ে ১১ জনের নাম রয়েছে, পিতার নাম ছাড়া অনেকের নাম লিস্টে। ত্রুটিপূর্ণ ভোটার লিস্ট দিয়ে নির্বাচন হতে পারেনা। গত অক্টোবরের সভায় ৪৬৫৮ জন ভোটার এর মধ্যে মাত্র ৩০ জন ভোটার উপস্থিত ছিলেন। এডক কমিটির চেয়ারম্যান অনুপস্থিত ছিলেন। কিন্তু উপস্থিত ৩০ জনের মধ্যে অনেকেই ছিলেন নির্বাচনের বিরুদ্ধে। তারা অনেকেই চাননি যে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে রেডক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের নির্বাচন হউক।

 

তবে এ ব্যাপারে সিলেটের সচেতন মহল মনে করেন ভোটারদের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে নির্বাচন করা। কারণ ভোটার লিস্টের ত্রুটির কারণে অনেক ভোটাররা ভোট দিতে বঞ্চিত হবে।

 

(সুরমামেইল/এমএমকে)

Manual5 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code