অভিযুক্ত ফয়সালসহ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংকে ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন: সিআইডি

প্রকাশিত: ৯:০২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০২৫

অভিযুক্ত ফয়সালসহ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংকে ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন: সিআইডি

Manual7 Ad Code

হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ। ছবি: সংগৃহীত


মেইল ডেস্ক:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটিরও বেশি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

 

রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী অর্থ পাচার সংক্রান্ত পৃথক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি।

Manual5 Ad Code

 

তিনি জানান, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই বিপুল অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য উঠে আসে।

Manual1 Ad Code

 

প্রাথমিকভাবে এসব লেনদেন মানিলন্ডারিং, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

 

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরীফ ওসমান বিন হাদী মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ঘটনার পরপরই সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে।

 

ঘটনাস্থলে ক্রাইমসিন ইউনিটের দ্রুত উপস্থিতি, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, ঘাতকের ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধার এবং বিভিন্ন আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নানা দিক অনুসন্ধান করছে সিআইডি।

 

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গ্রেফতার অভিযানের সময় উদ্ধারকৃত বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা একাধিক চেকবইয়ে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থের উল্লেখ রয়েছে, যার চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন না হলেও এসব রেকর্ডের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ২১৮ কোটি টাকা।

 

সিআইডির প্রাথমিক বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে সংঘটিত ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেন। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল এখনো গ্রেফতার না হলেও মামলার আলামত গোপন এবং তাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তার পরিবারের সদস্যসহ একাধিক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

এছাড়া, অভিযুক্ত ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সিআইডি। একই সঙ্গে এসব অর্থের মূল উৎস ও সরবরাহকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শনাক্তে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

 

হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী অপরাধী নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা, অর্থায়ন এবং অস্ত্র সরবরাহে যুক্ত ছিল কি না- সে বিষয়েও সিআইডির একাধিক টিম একযোগে কাজ করছে। অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে মূলহোতাকে গ্রেফতার এবং পুরো অপরাধচক্র উন্মোচনে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

(সুরমামেইল/এফএ)

Manual5 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code