ঋণ খেলাপিদের ছবি প্রকাশ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে চায় ব্যাংকগুলো

প্রকাশিত: ১০:৪৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০২৬

ঋণ খেলাপিদের ছবি প্রকাশ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে চায় ব্যাংকগুলো

Manual8 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ হ্রাস ও নগদ আদায় বাড়াতে ঋণ খেলাপিদের জনসম্মুখে লজ্জিত করার পাশাপাশি কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব জমা দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)।

Manual3 Ad Code

 

গত বছরের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে বৈঠকের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সংগঠনটি এই বিস্তারিত প্রস্তাবনা জমা দেয়।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দেওয়া প্রস্তাবে ঋণখেলাপিদের নাম ও ছবি প্রকাশের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঋণখেলাপিরা যেন আদালতের নির্দেশনা ছাড়া বিদেশ যেতে না পারেন এবং তারা যাতে কোনো ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন- এমন প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

খেলাপি ঋণ কমাতে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) একগুচ্ছ প্রস্তাবনা দিয়েছে। এসব প্রস্তাবের লক্ষ্য খেলাপি ঋণ হ্রাস, নগদ অর্থ আদায় বৃদ্ধি, বন্ধকী সম্পদ বিক্রি সহজ করা এবং মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করা।

Manual8 Ad Code

 

খেলাপি ঋণ কমাতে তিন প্রস্তাব
১. আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী খেলাপি ঋণ আংশিক অবলোপনের সুবিধা প্রদান। ২. লিয়েন করা শেয়ার নগদায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা। ৩. মৃত্যু, মরণব্যাধি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত ঋণ, গৃহঋণ, ক্রেডিট কার্ড এবং একক মালিকানাধীন কুটির, ক্ষুদ্র ও ছোট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সুদ মওকুফের মাধ্যমে দ্রুত ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে হেড অব আইসিসির মতামত নেওয়ার শর্ত শিথিল করা।

 

নগদ অর্থ আদায়ে প্রস্তাব
১. ব্যাংক বা আদালতের নির্দেশনা ছাড়া খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা। ২. খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নাম ও ছবিসহ তালিকা প্রকাশে ব্যাংকগুলোকে অনুমোদন। ৩. খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের যে কোনো ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা।

 

বন্ধকী সম্পদ বিক্রি সহজ করতে প্রস্তাব
১. ব্যাংকের নিলামে বিক্রয় বা কেনা সম্পত্তি হস্তান্তরে সব ধরনের আয়কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার। ২. নিলামে সম্পদ কেনায় উৎসাহ দিতে ক্রেতাদের আয়কর রেয়াত বা অন্যান্য প্রণোদনা। ৩. স্থানভেদে নিলামে বিক্রিত সম্পদ কেনায় জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা বাতিল। ৪. নিলামে বিক্রিত সম্পদ হস্তান্তরে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত। ৫. বন্ধকদাতার অনুপস্থিতিতে নিলামের সুবিধার্থে ব্যাংক কর্তৃক জমির খাজনা ও জরিপ সম্পন্নের সুযোগ। ৬. অর্থঋণ আদালত আইনের ৩৩(৭) ধারায় আদালত কর্তৃক ব্যাংকের নামে হস্তান্তরিত জমির নামজারি ও বায়নানামা বিনা খরচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন।

 

মামলার রায় কার্যকরে প্রস্তাব
১. খেলাপি ঋণগ্রহীতা ও জামানতদাতাদের আমানত, সঞ্চয়পত্র, সম্পদ, আয়কর রিটার্ন, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম-মৃত্যু সনদ ও পাসপোর্টসংক্রান্ত তথ্য আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তির ব্যবস্থা। ২. ব্যাংক বা আদালতের যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতে গেলে নির্দিষ্ট অঙ্কের ডাউন পেমেন্ট জমার শর্ত। ৩. সিআইবি প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের স্টে-অর্ডার পাওয়ার সুযোগ আইনগতভাবে বাতিল। ৪. উচ্চ আদালতের স্টে-অর্ডারে কিস্তিভিত্তিক উল্লেখযোগ্য অঙ্ক পরিশোধের শর্ত এবং শর্ত ভঙ্গ হলে স্টে-অর্ডার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল। ৫. স্টে-অর্ডার প্রদানের আগে উভয় পক্ষের শুনানি নিশ্চিত করা। ৬. খেলাপি ঋণগ্রহীতা বেশি এমন জেলাগুলোতে পৃথক অর্থঋণ আদালত স্থাপন। ৭. থানায় খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের আটকাদেশ জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন। ৮. আদালত থেকে থানায় সাত দিনের মধ্যে আটকাদেশ প্রেরণ নিশ্চিত করা। ৯. অর্থঋণ মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা ছাড়া মামলা পরিচালনার সুযোগ বাতিল। ১০. অর্থঋণ মামলায় দেওয়ানি আটকাদেশের মেয়াদ ছয় মাসের পরিবর্তে ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছর করা। ১১. স্বল্পতম সময়ে অর্থঋণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধন প্রণয়ন।

 

Manual6 Ad Code

খেলাপি ঋণ না বাড়াতে প্রস্তাব
১. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ভূমি জরিপকারী ও মূল্যায়নকারীর তালিকা দ্রুত প্রকাশ। ২. নিবন্ধক বা তহবিল অফিসে বন্ধকী সম্পদের তালিকা সহজে যাচাইয়ের ব্যবস্থা। ৩. সিআইবি ডেটাবেজের মতো ব্যক্তিগত সম্পদের ডেটাবেজ তৈরি ও সহজ যাচাইকরণ সুবিধা।

 

বর্তমানে দেশে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের বড় অংশই খেলাপি। প্রতি মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। সর্বশেষ হিসাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ সময়ে মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা।

 

Manual2 Ad Code

ব্যাংকারদের মতে, খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে এসব প্রস্তাব কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যথায় ফাঁকফোকর গলে খেলাপিরা আবারও সুযোগ নিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code