দেশ পুনর্গঠন করতে যে তিনটি খাতে গুরুত্ব দিবে জামায়াত

প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬

দেশ পুনর্গঠন করতে যে তিনটি খাতে গুরুত্ব দিবে জামায়াত

Manual7 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে কর্পোরেট থেকে রাজনীতি সব জায়গায় কোনোরূপ বৈষম্য ছাড়াই নারীদের মেধার মূল্যায়ন হবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

Manual8 Ad Code

 

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এই কথা বলেন তিনি।

Manual2 Ad Code

 

এসময় জামায়াত আমির বলেন, ‘যে সমাজ নারীর মর্যাদা রক্ষা করতে পারে না, সেই সমাজ কখনো সমৃদ্ধ হতে পারে না। আমরা ক্ষমতায় এলে নারীরা কেবল ঘরের ভেতরে নয়, সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে থাকবেন সগৌরবে। কর্পোরেট জগত থেকে রাজনীতিড়ৎ সবখানে তাদের মেধার মূল্যায়ন হবে কোনো বৈষম্য ছাড়াই। আমরা এমন এক দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যেখানে কোনো মা বা বোনকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে না। আপনাদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আমাদের সঙ্গী হোন। একটি উন্নত ও আধুনিক দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে আমাদের নির্বাচিত করুন।’

 

এছাড়া, দেশকে পুনর্গঠন করার জন্য তিনটি খাতে জামায়াতে ইসলামী গুরুত্ব দিবেন বলে জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। এই তিন খাত হলো শিক্ষা ও প্রযুক্তি, বিচারঙ্গণ ও অর্থনীতি।

 

Manual6 Ad Code

শিক্ষা ও প্রযুক্তি সম্পর্কে বলেন, ‘শিক্ষা হতে হবে নৈতিকতা ভিত্তিক এবং সেটা হতে হবে টেক বেইজড। এখনকার সারা দুনিয়া প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার উপর নির্ভরশীল, আমরা সেই শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। আমাদের সন্তানদের হাতকে আমরা দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলতে চাই এবং তাদের হাতে হাতে আমরা কাজ দিতে চাই। কোনো বেকার ভাতা তাদেরকে তুলে দিতে চাই না।’

 

বিরাঙ্গণ সম্পর্কে বলেন, ‘ন্যায়বিচার সমাজে প্রতিষ্ঠা হলেই কেবল আমরা আমাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে পারব। অন্যথায় দুঃশাসন এবং দুর্নীতির কণ্ঠরোধ মোটেই সম্ভব হবে না। অতএব, বিচার বিভাগকে আমূল ঢেলে সাজাতে হবে। সেখানে অবশ্যই সৎ, দক্ষ এবং কমিটেড যে সমস্ত লোকেরা আছেন তাদের বিচারের আসনে বসাতে হবে।’

 

শক্তিশালী অর্থনীতি তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘এই ভঙুর অর্থনীতি নিয়ে দেশকে আগানো সম্ভব নয়। সুতরাং অর্থনীতিতে ব্যাপক সংস্কার সাধন করতে হবে। বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টরে এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক যে সমস্ত খাত রয়েছে সে জায়গাগুলোতে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে আমাদের হাত দিতে হবে। আমাদের ব্যবসাকে করতে হবে বিনিয়োগবান্ধব। বিনিয়োগবান্ধব হলেই দেশে কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং আমাদের বেকারত্ব দূর হবে। এই তিনটা জায়গায় আমাদের গুরুত্ব দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমরা আশা করবো দেশবাসী আমাদেরকে তাদের মূল্যবান ভোটের আমানত অর্পন করে আমাদের দেশকে প্রত্যাশার আলোকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবেন।’

 

এছাড়া, আন্তর্জাতিক এবং জলবায়ু সম্পর্কে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সম মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক তৈরি করবো। আমরা অন্যের ভৌগলিক অখন্ডতাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করবো, তেমনি সকল দেশের সাথে বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিবো। তবে আমাদের জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা, জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নির্মাণে প্রধান ভূমিকা রাখবে। বৈশ্বিক উন্নয়ন চ্যালেঞ্জসমূহ, বিশেষতঃ জলবায়ু পরিবর্তন, নিরসনে আমরা সাধ্যমতো ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। নিপীড়নের শিকার হয়ে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্টীকে তাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য সব ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হবে।’

 

(সুরমামেইল/এফএ)


 

Manual1 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code