সিলেট ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:২৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের ভবান চা-বাগানে কুঁড়ি তুলছেন অনিতা রানী।
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:
নদী, পাথর, পাহাড় আর চা বাগানের কি অপূর্ব সমন্বয়! সিলেটের বর্ণনা দেওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট। সিলেট মানেই যেন চা বাগান এবং চা বাগানের নারী শ্রমিকদের চা তোলার চিত্র।
সাজানো গোছানো চা বাগানের অবস্থানের কারণে সিলেটকে ‘দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ির’ দেশ বলে থাকেন অনেকেই। ভাগ্যে জোটে ৭৫!
পাহাড়ের কোলে সবুজময় শতবর্ষী চা বাগানগুলোতে মৌসুমে চায়ের নতুন পাতার সূচনা হয়, কিন্তু সঙ্কট মুক্ত হয় না নারী শ্রমিকদের জীবন।
চা বাগানের নারী শ্রমিকরা চা বাগানের অভ্যন্তরে ও বাইরে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করলেও তারা জানে না নারী অধিকারের কথা। এসব নারী চা শ্রমিক এই শিল্পে অবদান রাখলেও তারা বরাবরই অধিকার থেকে বঞ্চিত।
নারী চা শ্রমিকরা সকালে বাড়ির কাজ শেষ করে প্রতিদিন সকালে দলবেঁধে চা বাগানে চলে আসেন। সারাদিন দাঁড়িয়ে চা তুলে সন্ধ্যায় ফিরে ১০২ টাকার মালিক হন তারা। সমাজের সব পেশার নারীরা কমবেশি সম্মান পেলেও চা শ্রমিক নারীরা আজীবন উপেক্ষিত। ন্যায্য মজুরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, সুপেয় জল, স্যানিটেশনসহ কোনো কিছুরই সুবিধা পান না তারা। এক কথায় নারী হয়ে পাহাড়ের কোলে জন্ম নেওয়াটাই তাদের অপরাধ। অথচ তারা চা শিল্পের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন।
চা শ্রমিকদের ২০০৭ সালে মজুরি ছিল ৩২ টাকা। ২০০৯ সালে ১৬ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ৪৮ টাকা। ২০১৩ সালে বাড়ানো হয় ৬৯ টাকা, আর এখন ৭৫ টাকা। কিন্তু শ্রমিকদের দাবি প্রতিদিন যেন তাদের ২৫০-৩০০ টাকা পারিশ্রামিক দেওয়া হয়। বতর্মানে উৎসব ভাতা বেড়েছে। বৃদ্ধ চা শ্রমিকদের সমাজসেবা মন্ত্রণালয় থেকে বছরে মাত্র ৫ হাজার টাকার খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। সেটাও চা শ্রমিকরা অনেক আন্দোলন করে আদায় করেছেন।
পাহাড়ের কোলে জন্মের পর থেকেই চা বাগানে বসবাস অনিকা রাণীর। বয়স ৪০ বছর। নাম রাণী হলেও রাণীত্বের কোনো ছোঁয়া নেই তার মাঝে। নবীগঞ্জের ভবান চা বাগানে স্থায়ী চা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন তিনি। কথা হলো তার সাথে। ১৫ বছর বয়স থেকে চা বাগানে কাজ করেন তিনি। তার মা’ও ছিলেন চা শ্রমিক। চা বাগানের শ্রমিকদের ছেলেমেয়েরা খুব একটা লেখাপড়ার সুযোগ পায় না, সুযোগ না পাওয়ার দলে ছিলেন অণিকা রাণীও। বাংলা বর্ণমালা ছাড়া আর বেশিকিছু শেখার সৌভাগ্য হয়নি তার।
লেখাপড়া করার ইচ্ছে ছিল কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইচ্ছে তো ছিল। কিন্তু অভাবের সংসার আর স্কুল দূরে হওয়ার কারণে পড়তে পারি নাই। লেখাপড়া করলে কি আর আজ পোকার কামড় খেয়ে চা পাতা তুলতে হতো ?’ অনিকা রাণী দৈনিক ১৫/২০ কেজি চা পাতা তুলে আয় করেন ৭৫ টাকা। নির্দিষ্ট পরিমাণে চা পাতা তুলতে না পারলে আয়ের পরিমাণও কমে যায়। তবে ভালোভাবে সংসার চালানোর জন্য বাড়তি কাজ করে তিনি। বাড়তি কাজ করেও যেন সংসার চলে না ঠিকমতো। সীমিত আয় ও জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে সংসার চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে অনিকা রাণীর মতো হাজারো নারী চা শ্রমিকের। এই অর্থে কীভাবে সংসার চলে ? জানতে চাইলে রাজ্যের হতাশা ভর করলো অনিকা রাণীর মুখে।
তিনি বলেন, ‘চলাই যায় না। আমি আর আমার স্বামী কাজ করি, কিন্তু ঘরে ৬ জন নির্ভরশীল আছে। বর্তমানে যে রুজি পাই, তা দিয়ে কোনোমতেই চলে না। আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ।’
অনিকা রাণী কাছ থেকে জানা যায়, সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে নারী শ্রমিকরা পরিবারে জন্য খাবার প্রস্তুত করেন। সকাল ৯টায় ঘর থেকে বের হয়। খাবার বলতে লাল চা, শুকনো রুটি। যে নারী শ্রমিকরা চা বাগানে কাজে যান তারা সকালেই কিছু খাবার নিয়ে যান। দুপুরের সময় নারী শ্রমিকরা দলবেঁধে বাগানের ভেতরে খাবারের জন্য বসে পড়েন। এ খাবারের মধ্যে রয়েছে কচি কুঁড়ি চা পাতা, আলু, কাঁচা মরিচ ও মুড়ি। দেশের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় চা-শ্রমিকেরা সব দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে নিরক্ষরতা। দেশে বাজেটের একটা বিরাট অংশ যেখানে ব্যয় হচ্ছে শিক্ষা খাতে, সেখানে চা-বাগানের শিক্ষার হার অতি নগণ্য। দেশের অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে যেমন কোটা-সুবিধা রয়েছে, চা-শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য তেমন কিছু নেই। যাযাবরদের মত যাদের জীবন থাকার জন্য নেই নিজস্ব কোনো ভূমি। জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে যাদের ভোট অসামান্য অবধান রাখছে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যারা দিন রাত পরিশ্রম করে আসছে চলাচলে তাদের নেই কোনো ভাল সুযোগ সুবিদা নড়-বড়ে ভাঙ্গা কুঁড়ে ঘরে বসবাস। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে শোয়ার বিছানা বিজে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নাই বললেই চলে।
একই অবস্থা নবীগঞ্জের ইমাম বাওয়ানী চা বাগান শ্রমিকদের একই অবস্থা। কথা হয় ভবান চা বাগানের ম্যানাজার বিনয় চন্দ্র বর্মার সাথে।
তিনি বলেন, ওই বাগানে স্কুল ও হাসপাতাল নেই। রয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্টান নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। ভবান চা বাগানটি নতুন, বেশি দিন হয়নি। তবুও চা বাগানের শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধা সাধ্যমতো দেয়ার চেষ্টা করছি।
(সুরমামেইল/এমএএ)
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি