কুশিয়ারার ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে ৫শ বছরের পুরনো মাজার

প্রকাশিত: ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২৬

কুশিয়ারার ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে ৫শ বছরের পুরনো মাজার

Manual2 Ad Code

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিলেটের গোলাপগঞ্জে প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো শাহ সৈয়দ শদাই (রহ.) মাজার ও মাজার সংলগ্ন মসজিদটি কুশিয়ার নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে আজ হুমকির মুখে। ইতিমধ্যেই মাজার ও মসজিদের সীমানা প্রাচীরের বেশ কিছু অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। মাজারে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটিও বিলীন হয়ে গেছে। শিগগিরই নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ঐতিহ্যবাহী এই মাজারটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

 

শুধু এই মাজার ও মসজিদই নই আশপাশের নদী তীরবর্তী ঘরবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন স্থাপনা নদী ভাঙ্গনে হুমকির মুখে রয়েছে। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অনেক স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

 

জানা যায়, উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের পনাইচক গ্রামে অবস্থিত শাহ সৈয়দ শদাই (রহ.) মাজার ও মাজার সংলগ্ন মসজিদটি দীর্ঘদিন থেকেই কুশিয়ারা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে হুমকির মুখে ছিল। সম্প্রতি কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করলে মাজারের সীমানা প্রাচীরের বড় একটি অংশ ভেঙ্গে নদীগর্ভে চলে গেছে। এছাড়াও দেখা দিয়েছে বড় ধরনে ভাঙ্গন।

 

মাজারের খাদিম শামসুল ইসলাম গেদাই জানান, মাজার ও মসজিদ ভাঙ্গনের বিষয়ে অনেকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ এই স্থানটি পরিদর্শন করেন। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প পাস হলেও ঠিকাদার না পাওয়ায় কাজ শুরু হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কিছুই রক্ষা করা যাবে না।

 

কুশিয়ারা এলাকার সন্তান জেড রহমান জুনু বলেন, এই মাজার শুধু আমাদের ধর্মীয় অনুভূতির স্থান নয়, এটি আমাদের এলাকার বহু পুরনো ঐতিহ্যের অংশ। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসে। কিন্তু এখন আমরা অসহায়ের মতো ভাঙন দেখছি- মনে হচ্ছে চোখের সামনে ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে।

 

গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্প গ্রহণ করেছে। জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৫০ মিটার এলাকায় কাজের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

Manual1 Ad Code

 

এ বিষয়ে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, শাহ সৈয়দ শদাই (রা.)-এর মাজার আমাদের অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

 

Manual3 Ad Code

ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৫০ মিটার এলাকায় কাজের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। খুব দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Manual3 Ad Code

তিনি আরও বলেন, নদীর তীরবর্তী এলাকায় যেসব পরিবারের বসতবাড়ি ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। মানুষের জীবন রক্ষা সর্বাগ্রে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা কাজ করছি।

 

(সুরমামেইল/এআরকে)

Manual1 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code