নিষিদ্ধই থাকছে আ. লীগের কার্যক্রম, সংসদে বিল পাস

প্রকাশিত: ৬:৪৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২৬

নিষিদ্ধই থাকছে আ. লীগের কার্যক্রম, সংসদে বিল পাস

Manual7 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বিল (সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬) জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এর ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে।

 

২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সত্তার বা সংগঠন নিষিদ্ধ করার বিধান ছিল। অধ্যাদেশের সংশোধনীতে সত্তা বা সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়। সত্তা বা সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান রেখে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে ২০২৫ সালের ১১ মে। পরদিন ১২ মে নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার।

 

অধ্যাদেশে কোনও সত্তার কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়েছিল এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তার মিছিল, মিটিং, প্রকাশনাসহ যেসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যাবে তার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

Manual2 Ad Code

 

‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিলের ৩ ধারায় বলা হয়, ‘ওই সত্তা কর্তৃক বা তার পক্ষে বা সমর্থনে যেতে কোনও প্রেস বিবৃতির প্রকাশনা বা মুদ্রণ কিংবা গণমাধ্যম, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনও মাধ্যমে যেকোনও ধরনের প্রচারণা অথবা মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বা জনসম্মুখে বক্তৃতা নেওয়া নিষিদ্ধ করবে।

Manual6 Ad Code

 

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু সন্ত্রাসী কার্য প্রতিরোধ এবং তাদের কার্যকর শাস্তির বিধানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন করার নিমিত্ত ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯’ প্রণয়ন করা হয়। ওই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, কোনও ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কার্যের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে যুক্তিসঙ্গত কারণের ভিত্তিতে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ওই ব্যক্তিকে তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারে বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারে। তবে বর্তমান আইনে কোনও সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণের বিষয়ে কোনও বিধান নেই। ওই বিষয়টি স্পষ্ট করাসহ বিধান সংযোজন আবশ্যক হেতু ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯’-কে সময়োপযোগী করে ওই আইনের অধিকতর সংশোধন সমীচীন ও প্রয়োজন প্রতীয়মান হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ আইনটির ১৮ ও ২০ ধারা সংশোধনপূর্বক ১১/০৫/২০২৫ তারিখে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ সংসদে উত্থাপনের পর বিলটি পাসের সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য দিতে চাইলে তা বিধিসম্মত না হওয়ায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনুমতি দেননি। তবে এই সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি শিট আমরা তিন-চার মিনিট আগে হাতে পেয়েছি। এখনও পড়তে পারিনি। যেহেতু আইনটা অবশ‌্যই একটি সেনসেটিভ আইন, আমরা কি অনুরোধ করতে পারি বিলটি পাসের আগে সময় রেখে একটু সুযোগ দেওয়া হোক।

 

Manual5 Ad Code

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রুলিং দিয়ে বলেন, বিলের এই পর্যায়ে এসে আপত্তি করার সুযোগ নেই। বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে আপত্তি বা প্রস্তাব দেওয়ার প্রয়োজন ছিল, যা দেওয়া হয়নি।

Manual3 Ad Code

 

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, এই বিলটা হলো একটি গণহত‌্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধ করা সংক্রান্ত একটি অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধনী)। আগের যে আইন ছিল, সন্ত্রাসবিরোধী আইন সেটার সংশোধনের জন‌্য। বিরোধীদলীয় নেতার স্মরণে থাকার কথা যে তারা এবং এনসিপির বন্ধুরা মিলে আন্দোলনের মাধ্যমে একটি জনমত তৈরি করেছিলেন। সেই জনমতের পরিপ্রেক্ষিতেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই আইনের বলেই একটি রাজনৈতিক দলের (আওয়ামী লীগ) রেজিস্ট্রেশন বর্তমানে স্থগিত আছে। এমনকি আইসিটি অ্যাক্টেও পরিবর্তন আনা হয়েছে সংগঠনের বিচারের জন্য।

 

মন্ত্রী আরও বলেন, সংশোধনী দেওয়ার সময় পার হয়ে গেছে। এখন আলোচনা করতে চাইলে বিলের প্রথম বা দ্বিতীয় পাঠের সময় প্রস্তাব দেওয়া উচিত ছিল।

 

মন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকারের নির্দেশনায় বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করা হয় এবং কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

 

(সুরমামেইল/এমকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code