হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: ডব্লিউএইচও

প্রকাশিত: ১১:১৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০২৬

হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: ডব্লিউএইচও

Manual3 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
বাংলাদেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মূল্যায়ন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

 

প্রতিবেদনে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া, টিকার ঘাটতি এবং মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান হার তুলে ধরা হয়। বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি দেশের আগের অর্জনকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।



ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে দেশে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ হাজার ১৬১ সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৭৩ জনের। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১২ হাজার ৩১৮ জন চিকিৎসাধীন।

 

Manual6 Ad Code

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯১ শতাংশ জেলা এখন হামের কবলে। দেশের আট বিভাগে সংক্রমণ শনাক্ত হলেও ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত। ১৫ মার্চ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ৮ হাজার ২৬৩ জন সন্দেহভাজন রোগী।

 

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি দেখা গেছে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও বস্তি এলাকায়। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহী (৩,৭৪৭ জন), চট্টগ্রাম (২,৫১৪ জন) এবং খুলনা বিভাগে (১,৫৬৮ জন) সংক্রমণ তীব্র হচ্ছে।

 

Manual5 Ad Code

হামের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা। আক্রান্ত শিশুদের ৭৯ শতাংশের বয়স ৫ বছরের নিচে। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশের বয়স ২ বছরের কম এবং ৩৩ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে।

 

সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মৃত শিশুদের প্রায় সবাই টিকা না পাওয়া অথবা আংশিক টিকা পাওয়া (এক ডোজ)। ৯১ শতাংশ রোগী ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী, যা এই বয়সী শিশুদের মধ্যে বড় ধরনের রোগ প্রতিরোধ ঘাটতির প্রমাণ।

Manual2 Ad Code

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ২০২৪-২৫ সালে দেশে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতি এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ। ২০০০ সালে যেখানে টিকার কভারেজ ছিল ৮৯ শতাংশ, সেখানে ২০২৪-২৫ সালে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ২০২০ সালের পর থেকে দেশব্যাপী কোনো নিয়মিত সম্পূরক হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি (এসআইএ) পালিত না হওয়া এ ঝুঁকির পথ তৈরি করেছে।

 

এ ছাড়া অপুষ্টিতে ভোগা এবং ভিটামিন এ-এর ঘাটতি থাকা শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অন্ধত্ব ও মস্তিষ্কে প্রদাহের (এনসেফালাইটিস) মতো জটিলতা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

Manual4 Ad Code

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code