গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ৩ ধাপ পেছাল বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ, মে ১, ২০২৬

গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ৩ ধাপ পেছাল বাংলাদেশ

Manual4 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশ এবার তিন ধাপ পিছিয়ে ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫২তম স্থানে অবস্থান করছে। গত বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৯তম।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ২০২৬ সালের সূচক প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) এ সূচক প্রকাশ করে।

Manual6 Ad Code


।আরও পড়ুন

Manual1 Ad Code


বাংলাদেশ এবার “খুবই গুরুতর” শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। স্কোরের ভিত্তিতে দেশগুলোকে “ভালো” থেকে “খুবই গুরুতর” শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।

 

Manual7 Ad Code

এবারের সূচকে বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী দেশ ভারতের চেয়ে ৫ ধাপ এবং পাকিস্তানের চেয়ে ১ ধাপ এগিয়ে রয়েছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। সূচকে নেপাল বাংলাদেশের চেয়ে ৬৫ ধাপ, শ্রীলঙ্কা ১৮ ধাপ এবং ভুটান ২ ধাপ এগিয়ে রয়েছে।

 

আরএসএফের সূচকে একটি দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নির্ধারণে পাঁচটি সূচক- রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আইনি কাঠামো, অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক গতিশীলতা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণ করা হয়।

 

বাংলাদেশের এই অবনতির প্রধান কারণ হিসেবে “রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট” সূচকে স্কোর ব্যাপকভাবে কমে যাওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

এই সূচকটি মূলত গণমাধ্যমের স্বায়ত্তশাসনের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন, রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক শক্তির চাপ ও ভিন্নমতের সাংবাদিকতাকে সহ্য করার ক্ষমতা পরিমাপ করে নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া জনস্বার্থে রাজনীতিবিদদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম কতটা সমর্থন পায়, তাও এখানে যাচাই করা হয়।

 

এদিকে, আরএসএফের সূচক প্রকাশের ২৫ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক গড় স্কোর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

 

এবারই প্রথমবারের মতো অর্ধেকের বেশি দেশ “কঠিন” বা “খুবই গুরুতর” শ্রেণিতে পড়েছে। ২০০২ সালে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা “ভালো” এমন দেশগুলোর জনসংখ্যা ছিল বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২০%। তবে ২০২৬ সালে এসে এই শ্রেণির দেশগুলোর মোট জনসংখ্যা ১%-এর নিচে নেমে গেছে।

 

এবারের সূচকে মাত্র ৭টি দেশ “ভালো” শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নরওয়েসহ উত্তর ইউরোপের দেশগুলো। ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত হওয়ার বছর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান “মোটামুটি ভালো” থেকে “সমস্যাপূর্ণ” পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। এ বছর দেশটি আরও ৭ ধাপ পিছিয়ে ৬৪তম স্থানে রয়েছে।

 

Manual4 Ad Code

অন্যদিকে, রাশিয়ার অবস্থান ১৭২তম। পুতিন সরকার সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা বিরোধী আইন ব্যবহার করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করছে বলে আরএসএফ সতর্ক করেছে। এ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ায় ৪৮ জন সাংবাদিক কারাবন্দী ছিলেন।

 

নরওয়ে টানা ১০ বছরের মতো সূচকে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে, আর ইরিত্রিয়া টানা তিন বছর ধরে তালিকার সর্বনিম্নে। ২০২৪ সালের শেষে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার উন্নতি হয়েছে চোখে পড়ার মতো। দেশটি ৩৬ ধাপ এগিয়ে ১৪১তম স্থানে এসেছে।

 

আরএসএফের সম্পাদকীয় পরিচালক আন বোকান্দে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনগুলো অবহেলিত হচ্ছে এবং অপরাধীরা দায়মুক্তি পাচ্ছে।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code