সামুদ্রিক শুঁটকির মধ্যেও মাইক্রো প্লাস্টিক

প্রকাশিত: ১০:৩৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২৬

সামুদ্রিক শুঁটকির মধ্যেও মাইক্রো প্লাস্টিক

Manual8 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
দেশের চার উপকূলীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হওয়া সামুদ্রিক শুঁটকির সব পরীক্ষিত নমুনায় মাইক্রো প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের নতুন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

সুন্দরবন, কুয়াকাটা, টেকনাফ ও কক্সবাজার থেকে সংগ্রহ করা শুঁটকিতে এসব কণার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। গবেষকেরা বলছেন, সামুদ্রিক পরিবেশের পাশাপাশি শুঁটকি শুকানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের সময়ও দূষণ ঘটছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

 

‘মেরিন পলিউশন বুলেটিন’ সাময়িকীতে ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত গবেষণাটিতে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিভাগের গবেষকেরা। গবেষণায় ছয় প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ও চিংড়ি পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ছিল লইট্টা, রূপচাঁদা গোত্রের জোয়ার মাছ, চুলা মাছ, পোয়া মাছ, বাগদা চিংড়ি ও হরিণা চিংড়ি।

 

গবেষণায় প্রতি গ্রাম শুকনো শুঁটকিতে ০.২৫ থেকে ১.৩০টি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। অঞ্চলভিত্তিক গড় হিসাবে সুন্দরবনের শুঁটকিতে প্রতি গ্রামে সর্বোচ্চ ০.৯১টি এবং টেকনাফের শুঁটকিতে সর্বনিম্ন ০.৫৭টি কণা শনাক্ত হয়েছে। তবে চার অঞ্চলের মধ্যে দূষণের মাত্রায় পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ কোনো একটি অঞ্চলকে অন্যগুলোর তুলনায় নিশ্চিতভাবে বেশি দূষিত বলার মতো প্রমাণ মেলেনি।

 

গবেষণায় পাওয়া কণাগুলোর মধ্যে সুতার মতো আঁশ ছিল সবচেয়ে বেশি। নীল ও কালো রঙের কণাও উল্লেখযোগ্য হারে দেখা গেছে। পরীক্ষাগারে বিশেষ আলোক বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে সাত ধরনের প্লাস্টিক শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে পলিথিনের উপস্থিতি ছিল ৩০ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং পলিপ্রোপিলিনের ২৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এসব প্লাস্টিক সাধারণত প্যাকেট, মোড়ক ও বিভিন্ন ব্যবহার্য সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

 

তবে অঞ্চলভেদে প্লাস্টিকের ধরন ও সম্ভাব্য বিপজ্জনক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য ছিল উল্লেখযোগ্য। পলিমার ঝুঁকি সূচক অনুযায়ী, সুন্দরবন অঞ্চলে এ মান ছিল ৮৬ দশমিক ৭; কুয়াকাটায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৬৪২ দশমিক ৭-এ। এই সূচক প্লাস্টিকের ধরন ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির ভিত্তিতে তৈরি। এটি সরাসরি মানুষের অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বা খাদ্য নিরাপত্তার চূড়ান্ত পরিমাপ নয়।

Manual6 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

ক্ষুদ্র প্লাস্টিক বা মাইক্রোপ্লাস্টিক বলতে সাধারণত পাঁচ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে বোঝায়। বড় প্লাস্টিক ভেঙে এসব কণা তৈরি হতে পারে। পানি, মাটি ও সামুদ্রিক পরিবেশের মাধ্যমে এগুলো খাদ্যশৃঙ্খলেও প্রবেশ করতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, খাবারে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক পাওয়া গেলেই তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই। তাই শুঁটকির মাধ্যমে মানুষের শরীরে কী পরিমাণ প্লাস্টিক প্রবেশ করছে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর কী প্রভাব হতে পারে, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

Manual1 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code