সিলেট ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সীমান্ত নদী জাদুকাটার পূর্ব পাড়ে কথিত ইজারা চুক্তিতে সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের শর্ত থাকলেও বাস্তবে ইঞ্জিনচালিত যান্ত্রিক সেইভ মেশিন দিয়ে খনিজ বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
“এ কার্যক্রমের নেপথ্যে ইজারাদার ও প্রশাসনের একটি অংশের গোপন সমঝোতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।”
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে দিনভর নদীর পূর্ব পাড়ে গড়ে ২১২ থেকে ২২০ সেট সেইভ মেশিন দিয়ে খনিজ বালু উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ টহল দল নিয়ে নদীর পূর্ব তীরে যান। সেখানে সেইভ মেশিন আটকের কার্যক্রমের আড়ালে চাঁদা আদায়কারী সোর্সদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় কাটান তিনি। এমন অভিযোগের তির বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই হোসাইন আরাফাতের দিকে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি সেইভ মেশিনের বিপরীতে একাধিক সোর্স নিয়োগ করে মঙ্গলবার আড়াই হাজার (২,৫০০) টাকা করে আদায় করা হয়েছে। চাঁদা আদায়ের বিষয়টিতে ওই পুলিশ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই হোসাইন আরাফাত বলেন, ‘আসলে আমার ডিউটির কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। আমি নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার জাদুকাটার পূর্ব তীরে গিয়েছি। কিছু সময় সেখানে ছিলাম।’
সেইভ মেশিনে বালু উত্তোলনের বিপরীতে সোর্সদের দিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদকের ভাষ্য।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, নদীর পশ্চিম তীরের ঘাগটিয়া এলাকার এখলাছের ছেলে রুবেল ও তাঁর চক্রকে তদন্ত কেন্দ্রে যোগদানের পর থেকেই রাতের আঁধারে নদীর পাড় ও পুকুর খুঁড়ে বালু উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, এ সখ্যতার কারণে রুবেলের সহোদর ভাই মোশাহিদ হোসেন রানু ওরফে ‘তক্ষক প্রতারক রানু’সহ একাধিক মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর আগাম তথ্য ফাঁস করে তা ব্যর্থ করে দেন ওই গুণধর এসআই হোসাইন আরাফাত।
(সুরমামেইল/এইচএসএ)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি