মাছ ধরা ও না খাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার : জেলা প্রশাসক

প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০১৭

মাছ ধরা ও না খাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার : জেলা প্রশাসক

Manual1 Ad Code

শুভেন্দু শেখর দাস,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে এ্যামোনিয়া গ্যাসে আক্রান্ত মাছ না ধরা ও খাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মঙ্গলবার এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ আদায়ের নির্দেশনাও সুনামগঞ্জের ব্যাংকগুলোতে এসে পৌঁছেছে।

Manual1 Ad Code

স্বাস্থ ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলও হাওরের পানি পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন।

জেলার সিভিল সার্জন জানান, দুর্যোগের আশঙ্কায় জেলার ৮৭টি ইউনিয়নের জন্য ১টি করে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

এদিকে, একমাত্র বোরা ফসল হারিয়ে সর্বত্রই হাহাকার বিরাজ করছে। সর্বশেষ জামালগঞ্জ উপজেলার পাকনার হাওরে পিআইসি নির্মিত উড়ারবন্দ ও তাহিরপুর উপজেলার লালুর গোয়ালাসহ ৩টি ফসল রক্ষা বাধ ভেঙ্গে বিশাল হাওরগুলোর চারিদিকে পানিতে থৈ থৈ করছে এখন। জীবন বাঁচার একমাত্র বোরো সম্পদ বোরো ফসল চোখের সামনে পানিতে ডুবতে দেখে তাদের চোখের পানি একাকার হচ্ছে পাহাড়ী ঢলের পানির সাথে। আর তাদের আর্তনাদ, আহাজারিতে হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে পাকনার হাওর ও শনির হাওরপাড়ে। অথচ গত শনিবার পর্যন্ত সবুজের সমারোহে আবৃত ছিল এই হাওরটি।

জেলার ১৩৩ টি ছোট বড় হাওরের সবকটি ফসলই এখন পানির নীচে তলিয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ২৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিলো। ফলনও হয়েছিলো ভালো। প্রায় ৮ লাখ ৪৩ হাজার টন ধান পাওয়া যেত এই জমির ধান থেকে। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৪ হাজার ১৬ কোটি টাকা। সরকারি হিসেবে এ পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯০ ভাগ। যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

শুধু ধানই নয়, এই অকালের বর্ষণ ও ঢলে জেলার প্রায় ১১৯ হেক্টর জমির সবজিও নষ্ট হয়ে গেছে। যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা।  এই অঞ্চলের প্রধান খাদ্য শস্যের পাশাপাশি পরিবেশ, মাছ, গবাদিপশুসহ জলজ জীব বৈচিত্রের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খাদ্য শস্যের ক্ষয়ক্ষতি সাময়িক হলেও পরিবেশ ও  জীববৈচিত্রের ক্ষয়ক্ষতি এখনও নিরূপন করা যায়নি। যারা হাওরে পানি ও জীববৈচিত্র্য পরীক্ষা করে গেছেন তারাও আশঙ্কা করছেন প্রজনন মৌসুমে মাছ মারা যাওয়ায় আগামীতে এর বিরাট নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে আমন-বোরো মিলিয়ে প্রতিবছর প্রায় ৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৯৭ টন খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে জেলার চাহিদা চার লাখ ১৪ হাজার ৬১৫ টন। প্রতিবছর উদ্বৃত থাকে প্রায় পাঁচ লাখ ৪০ হাজার ৩৪৯ টন।

মৎস্য অধিদপ্তরের মতে, সুনামগঞ্জ জেলায় প্রতিবছর ৮৯ হাজার টন মাছ উৎপাদিত হয়। জেলার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত থাকে ৩৫ হাজার টন। সরকারি হিসেবে গত ১৭ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৫০ মাছ মারা যাওয়ার কথা বলা হলেও মৎস্যজীবী ও কৃষকদের মতে, এই দুর্যোগে প্রায় দুই হাজার টন মাছের ক্ষতি হয়েছে।

Manual3 Ad Code

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্যাালয় সূত্র জানায়, জেলায় প্রায় ১০ লাখ গবাদি পশু রয়েছে। যা চাষাবাসের প্রধান মাধ্যম। ২৫ লাখ হাঁস রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজারের মতো হাঁস মারা গেছে। এছাড়া আরো লক্ষাধিক বিভিন্নধরনের পশু-প্রাণী রয়েছে। সবগুলো হাওর তলিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশু খাদ্য সংকটে পড়েছে। ২০১৪ সালেও জেলায় বৈশাখে প্রায় হাজারো গবাদি পশু মারা গিয়েছিলো। এবছর গবাদি পশু মারা না গেলেও গো-খাদ্য সংকটের কারণে সস্তায় গবাদি পশু বিক্রি করে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে খাদ্য উদ্বৃত সুনামগঞ্জের কৃষি অর্থনীতি এখন হুমকীর মুখে।

Manual7 Ad Code

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকরা জানায়, এবছর নিকট অতীতের চেয়ে সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়লেও কয়েক বছর ধরে প্রায় প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। বিশেষ করে এক ফসলের উপর নির্ভরশীল কৃষকেরা গত ১০ বছরে পুরো ফসল কখনো ঘরে তুলতে পারেনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code