সিলেট ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০২৬
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
জেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের ইঞ্জিনচালিত নৌযানের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ চ্যানেলগুলোতে লাল নিশান টানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে হাউসবোট মালিক, নৌযান শ্রমিক ও পর্যটকদের জন্য ছয়টি নির্দেশনাসংবলিত বিলবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। হাওরের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সংরক্ষণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (২২ আগস্ট) পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হকের নেতৃত্বে হাওরের জয়পুর, গোলাবাড়ি ও রামসিংহপুর দাসপাড়া চ্যানেলের প্রবেশমুখে এসব লাল নিশান টানানো হয়। এসব চ্যানেল দিয়ে মধ্যনগর ও কলমাকান্দা এলাকা থেকে বিভিন্ন নৌযান টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রবেশ করে।
এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম, জয়পুর-গোলাবাড়ি ভিসিজি কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহমদ কবির, ইন্দ্রপুর ভিসিজি কমিটির সভাপতি অখিল তালুকদারসহ হাওরপাড়ের বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে পর্যটক ও হাউসবোট মালিকদের সচেতন করতে জয়পুর ও গোলাবাড়ি এলাকায় ছয়টি নির্দেশনাসংবলিত বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। নির্দেশনায় টাঙ্গুয়ার হাওরে সিংগেল-ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার, মাইক ও উচ্চ শব্দে গান বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সব হাউস বোটকে জয়পুর-গোলাবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়াচ টাওয়ার সংলগ্ন এলাকা এবং কোর জোনে হাউসবোট বা ট্রলার প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বিলবোর্ডে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হাওরে পাখি শিকার, পাখি ক্রয়-বিক্রয় ও বহন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। একই সঙ্গে হিজল, করচসহ কোনো ধরনের গাছপালা কাটা যাবে না। এসব নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফজলুল করিম সাইদ বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের ইসিএ এলাকায় পর্যটকবাহী হাউসবোট প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান। তবে এটি যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে।
তিনি বলেন, প্রশাসন প্রায়ই নির্দেশনা জারি করলেও হাওরে তার বাস্তব প্রয়োগ সব সময় দেখা যায় না। যারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাওরে ব্যবসা করতে এসেছেন, তাদের আচরণে মনে হচ্ছে তারা প্রশাসনের নির্দেশনাকে তোয়াক্কা করছেন না। তাই পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ চ্যানেলগুলোতে লাল নিশান টানানো হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটক ও হাউসবোট সংশ্লিষ্টদের কাছে বিধিনিষেধগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে এসব নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
(সুরমামেইল/এসডি)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি