৩টি চক্রের কবলে জৈন্তাপুর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ‘লাল শাপলা’র রাজ্য

প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৭

৩টি চক্রের কবলে জৈন্তাপুর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ‘লাল শাপলা’র রাজ্য

Manual6 Ad Code

সিলেটের জৈন্তাপুরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে সাজিয়ে উঠা লাল শাপলার রাজ্যের ৪টি বিল চেরাকারবারি, ভূমিখেকো, মৎস্য খেকোদের কবলে পড়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সৌন্দর্য্যময় এই লাল শাপলার রাজ্য। ফিরে যাচ্ছে সৌন্দর্য্য পিপসুরা। স্থানীয়দের দাবী ভূমিখেকো, মৎস্যখেকো এবং চোরাকারবারীদের টেকাতে পারলে বিলগুলো প্রকৃতিক সৌন্দর্য্য ফিরে পাবে।

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ডিবির হাওর এলাকার লাল শাপলার রাজ্যের ‘ইয়াম বিল, হরফকাটা বিল, কেন্দ্রী বিল ও ডিবি বিল’ সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ ৪টি বিল মিলে প্রায় ৯শত একর জায়গা জুড়ে প্রতি বৎসর প্রকৃতিক ভাবে লাল শাপলায় ভরে উঠে। ফলে এলাকায় লাল শাপলার রাজ্যে হিসাবে পরিচিতি পায়।

Manual2 Ad Code

এদিকে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভোর হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের দূর-দুরান্ত হতে বিগত বছরে হাজার হাজার পর্যটকের ঢল নেমেছিল বিলগুলোতে। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদুর রহমানের আমলে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করার নামে এলাকাটি চিহ্নিত করা হলে খেকোদের তৎপরতা বৃদ্ধিপায়। এরই প্রতিবাদে তৎকালীন সময়ে স্থানীয় এলাকাবাসীসহ পরিবেশ বাদীরা গ্রাম ও বিল রক্ষার জন্য সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধনসহ আন্দোলনে নামলে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তাবনাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে জেলা প্রশাসন। কিন্তু প্রকল্প বাতিল করা হলেও প্রভাবশালী এক নেতার পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ইশারায় কতিপয় ভূমিখেকো চক্র ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ সিলেটের ডিবিহাওরের লাল শাপলার ৪টি বিল দখল বাণিজ্যে মেতে উঠেন।

Manual2 Ad Code

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, পর্যটক বিমুখ করতে এবং নিজেদের ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে বিলগুলোর সৌন্দর্য্য ধ্বংসের জন্য তাদের তৎপরতা অব্যাহৃত রেখেছে। চলতি বছরের শুরু থেকেই বিলগুলোতে যাতে লাল শাপলা তার সৌন্দর্য্য বিস্তার করতে না পারে তাই কৌশল অবলম্বন করে ৩টি চক্র শাপলা বিলে মহিষ নামিয়ে লাল শাপলার গাছ ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। পর্যকটদের আনাগোনার কারনে চোরাকারবারীরা তাদের কর্মতৎপরতা বাঁধা গ্রস্থ্য হওয়ায় শাপলা ধ্বংসে মেতে উঠে ওই অসাধু চক্রটি। পরিবেশবাদী সংগঠন বিলগুলোর ইজারা বাতীলের দাবী করায় প্রভাবশালী মৎস্য আহরনকারীরা বিল শুকিয়ে লাল শাপলা ধ্বংস করছে। অপরদিকে, মৎস্যজীবিদের নামে বিলগুলো লীজ গ্রহণ করে চোরাকারবারীরা তাদের বাণিজ্যে অবাধে চালাচ্ছে।

Manual4 Ad Code

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, চোরাকারবারীরা প্রতিদিন সন্ধ্যা হতে না হতে স্থানীয় ডিবির হাওর রাস্তা ব্যবহার করে ভারত থেকে বিভিন্ন অবৈধ মালামাল পাচার করছে। তারা আরও জানান, বিলগুলো সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ার ফলে চেরাকারবারীরা কৌশলে বিল লীজ গ্রহণ করে নেয়। বিল পাহারার নামে প্রতিদিন সীমান্তের অপার থেকে মাদকসহ বিভিন্ন পন্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তাদের কর্মতৎপরতার কারনে সৌন্দর্য্য পিপাসুরা প্রতিনিয়ত লাল শাপলার বিল হতে ফিরে যেতে হচ্ছে।

ডিবিরহাওর এলাকার ৪টি বিল (ইয়াম বিল, হরফকাটা বিল, কেন্দ্রী বিল ও ডিবি বিল) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ফিরে পেতে ওই অসাধু চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা খুবই প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code