পিলখানা হত্যা : ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ১৮৫ জনের

প্রকাশিত: ৬:৪২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০১৭

পিলখানা হত্যা : ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ১৮৫ জনের

Manual1 Ad Code

তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদন্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া মোট যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে ১৮৫ জনকে। আর ১৯৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় খালাস পেয়েছেন ৪৯ জন।

সোমবার (২৭ নভেম্বর) বিচারপতি মো. শোকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই রায় দেন। বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতি হলেন মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। আদালত এই রায়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন। এই মামলায় আদালত এক হাজার পৃষ্ঠারও বেশি পর্যবেক্ষন দিয়েছেন। সম্পূর্ণ রায় প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার।

Manual7 Ad Code

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহে অভ্যন্তরীণ ও বাইরের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। আদালত বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে গণতন্ত্র ধ্বংস করাই ছিল বিদ্রোহের অন্যতম উদ্দেশ্য।ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে রায়ে বিভিন্ন সুপারিশও করা হয়েছে।

আজ হাইকোর্টের রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ শেষ হলো। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহে  পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে  ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান।

বিচারের মুখোমুখি করা হয় ৮৪৬ বিডিআর জওয়ানকে। মামলার অন্য চার আসামি বিচার চলাকালে মারা যান। আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা।

Manual1 Ad Code

২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর এই মামলায় ১৫২ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুর আদেশ দেন বিচারিক আদালত। এঁদের একজন ছাড়া সবাই তৎকালীন বিডিআরের সদস্য। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় ১৬ জনকে। সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পান আরও ২৫৬ জন। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান ২৭৮ জন আসামি। মোট সাজা হয় ৫৬৮ জনের।

Manual6 Ad Code

বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় এক নম্বরে ছিলেন বিদ্রোহের অন্যতম পরিকল্পনাকারী উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) তৌহিদুল আলম। বিডিআরের বাইরে দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। এঁরা হলেন বিএনপির সাবেক সংসদ  সদস্য নাসির উদ্দীন আহম্মেদ পিন্টু ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা তোরাব আলী। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে কারাগারে মারা যান নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু। নিম্ন আদালতের রায়টি ছিল মোট চার হাজার পৃষ্ঠার।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক তখন বলেছিলেন, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা। একটি বিদ্রোহ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে যে কারণে এ বিদ্রোহ হয়েছে, তা ছিল অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন। সেনাবাহিনীর মনোবল নষ্ট করা, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়াই ছিল হত্যাকাণ্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code