কানাইঘাটে ভয়াবহ ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে ঘর-বাড়ী, হুমকির মুখে যোগাযোগ ব্যবস্থা

প্রকাশিত: ৮:২৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০১৭

কানাইঘাটে ভয়াবহ ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে ঘর-বাড়ী, হুমকির মুখে যোগাযোগ ব্যবস্থা

Manual4 Ad Code

সুরমা নদীর হঠাৎ ভয়াবহ তীব্র ভাঙ্গনের মুখে ধসে পড়েছে সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভার বায়মপুর (গৌরিপুর) সুরমা ডাইকের প্রায় ৫শ ফুট বিস্তৃর্ণ এলাকা। তীব্র ভাঙ্গনে মুখে বিলীন হয়ে গেছে কয়েকটি বাড়ী ঘর ও পাকা সড়ক। যোগাযোগ বিচ্ছিহ্ন হয়ে পড়েছে সাতবাঁক ইউপির খেয়াঘাট টু ভবানীগঞ্জ পাকা সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গত বুধবার রাত ৯টার দিকে সুরমা নদীর ভাঙ্গন কবলিত গৌরিপুর ডাইকে হঠাৎ করে ভাঙ্গন দেখা দেয়। একপর্যায়ে খেয়াঘাট টু ভবানীগঞ্জ পাকা সড়কের সুরমা ডাইকের অংশ সহ কয়েকটি বসত বাড়ী, গাছপালাসহ সুরমা নদীর করালঘ্রাসে বিলীন হয়ে গভীরভাবে তলিয়ে যায়। সুরমা ডাইকের গৌরিপুর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় সড়ক যোগযোগ ঐ এলাকায় বন্ধ হয়ে গেছে। ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন দেখে আতংকিত হয়ে পড়েছেন লোকজন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বায়মপুর গৌরিপুর সুরমা ডাইকের অংশ ভাঙ্গন প্রতিরোধে তারা বার বার পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন সহ সংলিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু মেয়র নিজাম উদ্দিন এব্যাপারে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নি। যার কারনে ভাঙ্গন প্রতিরোধে গত বর্ষা মৌসুমে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম রানা, সাতবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান মস্তাক আহমদ পলাশ ও পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজী শরিফুল হক এলাকার লোকজনদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে বাঁশের গড় ও বালুর বস্তা সেখানে ফেলেন। সময়মতো পৌর কর্তৃপক্ষ গৌরিপুর সুরমা ডাইকের মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করলে আজকে এত বড় ভয়াবহ ভাঙ্গনের সৃষ্টি হত না।

Manual1 Ad Code

নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়া গৌরিপুর গ্রামের বাবুল আহমদ, সেলিম, নুর উদ্দিন, আব্দুল করিম, শাহীন আহমদ সহ কয়েকজন কান্না জড়িত কন্ঠে জানিয়েছেন, বুধবার রাতের ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনে তাদের বসত বাড়ী বিলীন হয়ে গেছে। সময়মতো পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পৌর কর্তৃপক্ষ গৌরিপুর সুরমা ডাইকের ছোট ভাঙ্গন অংশটি মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করলে তারা আজ বাড়ী ঘর হারাতেন না। বর্তমানে আতংকের মধ্যে বিলীন হয়ে যাওয়া বিট বাড়ীর একাংশে তারা বসবাস করছেন। বায়মপুর গৌরিপুর সুরমা ডাইকের প্রায় কিলোমিটার জুড়ে এমনিতেই ভয়াবহ ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকদিন পূর্বে পৌর সভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার শরিফুল হক সহ অনেকের বাড়ীর সুরমা নদীর তীরবর্তী অংশে ভয়াবহ ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়ে বসত বাড়ীর একাংশ ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গন রোধে কোন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে সুরমা ডাইকের বায়মপুর গৌরিপুর ডাইকের প্রায় ৫’শ ফুট এলাকা জুড়ে ভয়াবহ ভাঙ্গনে রাস্তা-ঘাট, বাড়ী ঘর বিলীন হওয়ার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল গতকাল পরিদর্শন করেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা ও পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা নদী ভাঙ্গনে যারা বাড়ী ঘর হারিয়েছেন, তাদের শান্তনা প্রদান করে বলেন, কানাইঘাটের প্রধান সমস্যা হচ্ছে নদী ভাঙ্গন। পানি উন্নয়ন বোর্ডে উদ্যোগে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় বাঁধ নির্মাণে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।

এব্যাপারে পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিনের সযোগাযো করা হলে তিনি বলেন, গৌরিপুর সুরমা ডাইকের ভাঙ্গন প্রতিরোধে গত বছর পৌরসভার উদ্যোগে কাজ করা হয়েছিল। গত বুধবার থেকে সেখানে বাঁশের গড় মেরামত সহ অন্যান্য কাজ চলমান থাকা অবস্থায় এই ভয়াবহ ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে।

Manual6 Ad Code

ভাঙ্গন প্রতিরোধে পৌর কর্তৃপক্ষের কোন ধরনের গাফলাতি ছিল না, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলার শরিফুল হককে দায়ী করে তিনি বলেন, সে বরাদ্দে প্রাপ্ত টাকার কাজ করতে গড়িমসি করেছে। যাদের বাড়ী ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে তাদেরকে পৌরসভার পক্ষ থেকে নগদ ২১ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে তাৎক্ষণিক ভাবে। ভাঙ্গনের বিষয়টি তিনি স্থানীয় এমপি সেলিম উদ্দিন ও সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ারকে অবগত করেছেন।

Manual8 Ad Code

তারা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিবেন বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর শরিফুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি বার বার পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিনকে গৌরিপুর সুরমা ডাইকের ভাঙ্গন কবলিত অংশটি পৌর ফান্ড দিয়ে মেরামতের জন্য বলেছি। আমার এলাকার লোকজন বার বার মেয়র সাহেবের স্মরনাপন্ন হলেও তিনি ভাঙ্গন প্রতিরোধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। সময় মতো ভাঙ্গন ঠেকাতে উদ্যোগ করা হলে আজকে আমার এলাকায় এতবড় নদী ভাঙ্গনের ঘটনা ঘটত না।

Manual1 Ad Code

গত বছর ভাঙ্গন প্রতিরোধে মেয়র নিজাম উদ্দিন ১৬ হাজার টাকা দিয়েছলেন, বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করলে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এলাকার লোকজন মেয়রের স্মরনাপন্ন হলেও তিনি একটি বারাও এই ব্যাপারে উদ্যোগ নেননি। ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম রানা ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে চাঁদা তুলে প্রায় ৭০ হাজার টাকা কাজ আমি করেছিলাম। কিন্তু আজকের মেয়র সাহেব তার ব্যর্থতা আমার উপর চাপাচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code