কানাইঘাটে আবাদি জমির মাটি কাটার হিড়িক, হুমকিতে কৃষি ও পরিবেশ

প্রকাশিত: ২:০০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২৬

কানাইঘাটে আবাদি জমির মাটি কাটার হিড়িক, হুমকিতে কৃষি ও পরিবেশ

Manual4 Ad Code

কানাইঘাট প্রতিনিধি:
সিলেটের কানাইঘাটে আইনের তোয়াক্কা না করে আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে অবৈধ ভাবে বিক্রির হিড়িক পড়েছে। ফলে উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে কৃষিজমি।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে- স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্র, জনপ্রতিনিধি, ট্রাক মালিক ও চালকদের যোগসাজশে উপজেলা-পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের ফসলি জমিতে কয়েক’শ এক্সকাভেটর (ভেকু) ও ফেলুডার দিয়ে নির্বিচারে ফসলী জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি ডাম্প ট্রাক ও নিষিদ্ধ ট্রাক্টর দিয়ে বিভিন্ন বসতবাড়ি, রাস্তা-ঘাট ও পুকুর ভরাটে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ভাবে মাটির টপসয়েল কেটে নেওয়ার ফলে জমির শ্রেণী পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ফসল উৎপাদন আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরী হচ্ছে।

 

Manual2 Ad Code

নির্বিচারে শত শত ভারী ট্রাক ও ট্রক্টার দিয়ে মাটি পরিবহণের কারনে কানাইঘাটের গ্রামীণ পাকা সরু রাস্তা ভেঙ্গে বেহাল দশায় পরিণত হচ্ছে এবং কাঁচা রাস্তা সমূহ দেবে যাওয়ার পাশাপাশি প্রধান প্রধান সড়ক সমূহ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। নির্বিচারে মাটি কাটা ও পরিবহনের ফলে পাশের ঘরবাড়ি ও সরকারি রাস্তাঘাট যেমন ঝুঁকিতে পড়ছে, তেমনি ধুলোবালিতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

 

এছাড়াও মাটি বহণেরর ট্রাক ও ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি মাটি বহণের ট্রাক্টরের চাকায় পৃষ্ট হয়ে এক স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

 

জানা গেছে- উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় রাজনৈতিক ঐক্যমত এবং প্রভাবশালী মাটি খেকো চক্রের যোগসাজসে এসব ফসলী মাটি কাটা হচ্ছে। এতে করে তারা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন। স্থানীয় জনসাধারণ এসবের প্রতিবাদ করেও প্রতিকার পাচ্ছেনা।

 

সম্প্রতি উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে এলাকার বিক্ষোব্দ লোকজন পরিবেশের ক্ষতি করে মাটি কাটার ফলে একটি পে-লুডার পুড়িয়ে দেন।

Manual5 Ad Code

 

অভিযোগ উঠেছে- দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি কাটার এসব ফেলুডার, এক্সকাভেটর ভাড়া নিয়ে এসে মাটি খোকোচক্র তাদের রমরমা অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পে-লুডার ও এক্সকাভেটর আটক করে মোবাইল কোট পরিচালনা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

এসব মাটি কাটার সাথে জড়িত প্রভাবশালীরা গর্ব করে বলেন, তারা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে অবৈধ এ ব্যবসা করে যাচ্ছেন।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহদী হাসান শাকিল জানান, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী কৃষিজমির টপসয়েল কাটা দন্ডনীয় অপরাধ, যার জন্য দুই বছরের কারাদন্ডের বিধান রয়েছে।

 

Manual2 Ad Code

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, জমির শ্রেণী পরিবর্তন করতে পূর্ব অনুমোদনের প্রয়োজন এবং গ্রামীণ সরু সড়কে ডাম্প ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসবে সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং এ অভিযান চলবে।

Manual7 Ad Code

 

(সুরমামেইল/এমআর)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code