সিলেট ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:১৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৮
মুঠোফোন আর সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে এখন নতুন শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভুয়া খবর (ফেক নিউজ)। যেকোনো আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বস্তুনিষ্ঠ খবরের মাঝে দু’-একটা ভুয়া খবর ভাইরাল হওয়া এখন আর নতুন কিছু নয়।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমগুলোয় এই ভুয়া খবর ঠেকানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার ঢাকার হোটেল আমারিতে “বাংলাদেশের নির্বাচনে ভুয়া খবর প্রতিরোধের চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করে বিবিসি বাংলা।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিবিসির এশিয়া অঞ্চলের প্রধান জুলিয়ানা ইউত্তি এবং বিবিসি বাংলার সম্পাদক সাবির মুস্তফার সভাপতিত্বে সেমিনারে অংশ নেন দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, নাগরিক টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, এনটিভি অনলাইনের প্রধান ফখরুদ্দিন জুয়েল এবং মানবাধিকারকর্মী তাহমিনা রহমান।
কিভাবে ভুয়া খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং এক্ষেত্রে সচেতনতার জায়গাগুলো কোথায় এ ব্যাপারে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে নিজেদের মতামত দেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরিন জোর দেন সাংবাদিকদের সচেতন ভূমিকার ওপর। তিনি বলেন, “এখন মানুষের চেহারা কণ্ঠ সবই বদলে দেয়ার মতো প্রযুক্তি এসেছে। এতে মিথ্যা থেকে সত্যকে আলাদা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অনেক বলিষ্ঠ হওয়া প্রয়োজন।”
দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন মত প্রকাশের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “কোনো খবর পাওয়ার পর সেটার নিচে মন্তব্য করার বা শেয়ার করার ক্ষেত্রে আমাদের কিছু দায়িত্ব আছে – সেটা মাথায় রাখতে হবে।”
ভুয়া সংবাদ ছড়ানো ঠেকাতে যে আইন রয়েছে, সেটা নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কিনা সেটা দেখাও জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন মাহফুজ আনাম।
এসব ক্ষেত্রে কোনটা সংবাদ আর কোনটা মতামত- সেই পার্থক্য করাটা জরুরি বলে মত দেন নাগরিক টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক। তিনি বলেন, ”আমাদের মগজও দূষিত হয়ে গেছে। আমরা সেটাই দেখি, সেটাই পড়ি যেটা আমরা দেখতে চাই, পড়তে চাই, শুনতে চাই। তাই আমি কি পড়বো, কাদের বন্ধু বানাবো, কাদের কথা বিশ্বাস করবো সেটার ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়াটা সবচেয়ে জরুরি।”
ভুয়া খবর কী এবং কীভাবে ছড়ায়?
সেমিনারে বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবর এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনা এবং কিভাবে এ ধরনের খবর সনাক্ত করা যায় বিষয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন সময়ের বেশ কয়েকটি ভাইরাল খবরের ওপর আলোকপাত করা হয়, যার অনেক তথ্যই অতিরঞ্জিত হয়ে ভাইরাল হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে, রামুর বৌদ্ধ মঠে ভাঙচুর, শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে হতাহতের সংখ্যা, নাসিরনগরের হিন্দু মন্দিরে হামলা এবং সবশেষ ঝিগাতলায় নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে হত্যা ও ধর্ষণের গুজব ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাগুলো।
মূলত চারটি উপায়ে এই ভুয়া খবরগুলো ছড়িয়ে থাকে।
১. ফেসবুক
২. ইউটিউব
৩. ভুয়া ওয়েবসাইট
৪. গণমাধ্যম।
আর এসব মাধ্যমে প্রকাশিত ভুয়া খবরগুলো ইউজারদের লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের কারণে ভাইরাল হয়ে যায়। আবার অনেক গণমাধ্যম এসব সামাজিকমাধ্যমের তথ্য যাচাই বাছাই না করেই খবর প্রকাশ করে।
ভুয়া খবর ছড়ানোর কারণ
ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ার পেছনে তিনটি কারণকে তুলে ধরা হয়।
১. বিরোধী রাজনৈতিক দলকে কোণঠাসা করা।
২. ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়া।
৩. রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল।
ভুয়া খবর শনাক্তের উপায়
পাঁচটি উপায়ে সনাক্ত করা সম্ভব ভুয়া খবর।
১. কমন-সেন্স ব্যবহার করুন।
২. খবরের কন্টেন্ট বা তথ্য নিয়ে সন্দেহ হলে, প্রতিটি যাচাই করুন।
৩. অনলাইনে সার্চ দিয়ে যাচাই বাছাই করে দেখতে পারেন।
৪. খবরের তথ্যসূত্র বা ছবি/ভিডিওর উৎস বের করুন।
৫. খবরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন।
সূত্র: বিবিসি।
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি