সিলেট ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:৪৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২৬
মেইল ডেস্ক:
বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসির কোনো কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে না পারলে জরিপের ভিত্তিতে সেখানে আবার পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছেড়ে পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব কেন্দ্রে ভুলত্রুটি হয়েছে, সেখানে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে পটুয়াখালী-২ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এইচএসসির পরীক্ষাগ্রহণ এবং শিক্ষামন্ত্রীর কথিত কটূক্তির প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানী ও বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন।
এদিন সংসদে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কোনো কেন্দ্রে পানি উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র ছাড়া অন্য যেসব জায়গায় পানি উঠেছিল, সেখানে পরিস্থিতি ততটা গুরুতর ছিল না। কয়েকটি ক্ষেত্রে দ্রুত কেন্দ্র পরিবর্তন করে পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
আমরা সবাই উদ্বিগ্ন বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা নিয়ে। পরীক্ষা নিয়ে আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে ছিলাম এবং আছি, সারাদিনই এ কাজটি করে থাকি। কোনো কেন্দ্রে পানি উঠে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র সরিয়ে দিই। স্থানীয় প্রশাসনকে আমরা এ দায়িত্ব দিয়েছি। তাছাড়া অন্যান্য যেসব জায়গায় পানি উঠেছে, তা তেমন বেশি নয়। গুটি কয়েক সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র পল্টানো হয়েছে। পরীক্ষাদের যে সুবিধা দেওয়ার, তা হয়েছে।
কোনো পরীক্ষার্থী দুর্যোগ বা প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান করা কঠিন কাজ নয়। বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং বিকল্প প্রশ্নপত্রও প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন হলে আবার পরীক্ষা নেওয়া যাবে। যেসব ক্ষেত্রে এখনো মনে করি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের শুধরিয়ে দেওয়া আমাদের জন্য বিরাট কাজ নয়। কারণ আমরা অনেক জায়গায় পরীক্ষা বন্ধ করেছি। আমাদের প্রশ্ন সেট রয়েছে। আমরা আবারও পরীক্ষা নেব।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে নেওয়া এবং দুর্যোগ মোকাবিলা করা নিয়ে সরকার তাদের চেয়েও বেশি উদ্বিগ্ন। শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করে বলব, যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যাক। আমরা আশ্বাস দিচ্ছি, যেসব পরীক্ষা কেন্দ্রে ভুলত্রুটি হয়েছে, সেখানে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিধান আমাদের রয়েছে। শিক্ষার্থীরা আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের আমরা বঞ্চিত করতে পারি না, বঞ্চিত করব না।
এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, এইচএসসি পরীক্ষা চলার মধ্যে গত তিন-চার দিন ধরে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোর অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা এক বা দুই দিনের জন্য পেছাতে কী সমস্যা ছিল?
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একই সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা দেখা দেওয়ার পর পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এবং পরে পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।
বৃষ্টির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল তথ্য দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা আর বৃষ্টি হবে না বলে জানিয়েছিল। বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরীক্ষা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসককে পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে একটি পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
দেশের অন্য কোথাও পরীক্ষা নিতে দুর্যোগজনিত গুরুতর সমস্যা হয়নি বলেও দাবি করেন শিক্ষামন্ত্রী। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দেরিতে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এক পরীক্ষার্থীর কাপড় ভিজে যাওয়ায় তাকে তার বাড়ি থেকে কাপড় এনে দেওয়া হয়। এক ঘণ্টা পর তাকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষার সময়ও বাড়ানো হয়।
পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল থাকার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল পাওয়া গেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে প্রশ্নপত্র তৈরি ও মডারেশনের কাজ শেষ হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন তৈরির সুযোগ ছিল না। আগের সরকারের সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মডারেটররাই ওই প্রশ্নপত্র তৈরি করেছিলেন। ভুল শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নান আরেক সম্পূরক প্রশ্নে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, বন্যা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।
শিক্ষাবর্ষ এগিয়ে বা পিছিয়ে বর্ষার বাইরে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া যায় কি না তা জানতে চান তিনি।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা কিছুটা এগিয়ে আনা হয়েছে। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভিত্তি ধরে পর্যায়ক্রমে পরীক্ষার সময় ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
(সুরমামেইল/এফএ)
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি