ঘোষিত কিছু প্রার্থীর কর্মকাণ্ডে বিব্রত বিএনপি, পরিবর্তনের আভাস

প্রকাশিত: ৮:০৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০২৫

ঘোষিত কিছু প্রার্থীর কর্মকাণ্ডে বিব্রত বিএনপি, পরিবর্তনের আভাস

Manual8 Ad Code

সুরমামেইল ডেস্ক :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে গত ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় সংসদের মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টিতে দলীয় প্রার্থীর সম্ভাব্য একটি তালিকা প্রকাশ করে।

 

এ তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্নস্থানে বিদ্রোহের দানা বেঁধে উঠে। বিশেষ করে কিছু আসনে বিতর্কিত, বার্ধক্যজনিত সমস্যা, সংস্কারপন্থি, অযোগ্য ও হাইব্রিড নেতা মনোনয়ন পাওয়ায় তৃণমূলে বাড়ছে দলীয় কোন্দল। এসব আসন নিয়ে কিছুটা বেকায়দায় পড়েছে দলটি।

Manual5 Ad Code

 

এছাড়া ঘোষিত কিছুর প্রার্থীর কর্মকাণ্ডে বিব্রত হচ্ছে বিএনপি। তাদের কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

 

দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক আসনেই ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং যারা দীর্ঘ দেড়দশক রাজপথে ছিলেন না এবং দেশের বাইরে অবস্থান করছেন তারাই মূল্যায়িত হয়েছেন।

 

Manual8 Ad Code

এদিকে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই ভাবিয়ে তুলছে বিএনপির হাইকমান্ডকে। সবকিছু মিলিয়ে কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে।

 

অনেক আসনে ঘোষিত প্রার্থী বিরুদ্ধে এলাকার সকল প্রার্থী একাট্টা হয়ে করেছেন বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ। সড়ক-রেলপথ অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি বিএনপির নয়াপল্টন, গুলশান কার্যালয় এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের বাসভবনের সামনেও বিক্ষোভ হয়েছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা উপেক্ষা করছেন এসব বিদ্রোহীরা। অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী ইতিমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন।

 

বিএনপির গুলশান কার্যালয় সূত্র জানায়, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অংশ হিসাবে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন মাঠপর্যায়ে তাদের অবস্থান নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। তারেক রহমান অনেক বিদ্রোহী প্রার্থীদের ডেকে ভবিষ্যৎ মূল্যায়নের কথা বলছেন। এবং কিছু কিছু আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তবে, এ সংখ্যা খুব একটি বেশি নয়।

 

Manual2 Ad Code

মনোনয়ন বঞ্চিত দিনাজপুর জেলার এক মনোনয়ন প্রত্যাশী বলেন, আমার আসনে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সে দীর্ঘ দেড়যুগ রাজপথে কোন আন্দোলন সংগ্রামে ছিলো না। এমনকি বিএনপির কোন নেতাকর্মীদের সাথে সম্পৃক্তও ছিলেন না। বরং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাথে লিয়াজো করে চলেছেন অথচ, দল তাকেই মনোনয়ন দিলো। আমি বিশ্বাস করি বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে তারেক রহমান রাজপথের ত্যাগের মূল্যায়ন করবেন এবং সত্যিকারের ত্যাগীদেরই মনোনয়ন দিবেন।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, অতিদ্রুত এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনেক বিচক্ষণ। দেশের প্রতিটি জেলা উপজেলায় তিনি নিজে কথা বলছেন। তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এখানে অনেক যোগ্য প্রার্থী আছেন। কিন্তু সবাইকে মনোনয়ন দেওয়ারতো সুযোগ নেই। তবে, যারা মনোনয়ন পাবেন না, তাদেরকেও বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এটি আমাদের কমিট মেন্ট।

 

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের অনেকের মাঝে একটু মান অভিমান থাকতেই পারে। তবে, এগুলো সাময়িক। অল্প সময়ের মধ্যে তা স্তিমিত হয়ে যাবে। শেষ মুহুর্তে সবাই দল ও দেশের স্বার্থে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করার জন্য কাজ করবে।

 

দলটির বিভিন্ন জেলা নেতারা অভিযোগ করে জানান, সিলেট-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া ইমরান আহমেদ চৌধুরীর এলাকামুখী নন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে নেই সম্পৃক্ততা। সম্প্রতি তার একটি অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, আপনার অবগত হয়েছেন যে বিএনপির যে মনোনয়নগুলি ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রয়োজনবোধে অধিকতর বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোনও কোনও বিশেষ ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। আমরা এখন সেই প্রক্রিয়ার অপেক্ষার রয়েছি।

 

চাঁদপুর ৪ আসনেও বিদ্রোহ চরমে পৌঁছেছে। এখানেও পরিবর্তন হতে পারে দলীয় প্রার্থী। এছাড়াও সুনামগঞ্জ-১, মাগুরা-২, কুষ্টিয়া-৪, নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা উপজেলা), সিরাজগঞ্জ-৩, নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া), চট্টগ্রাম-২, ৪, ১২, ১৩ ও ১৬, ফেনী-২, গাইবান্ধা-৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, দিনাজপুর-১, ২ ও ৪, সাতক্ষীরা-২ ও ৩; জামালপুর-২, টাঙ্গাইল-১, নীলফামারী-৪, কুষ্টিয়া ২ ও ৩; বান্দরবান, শেরপুর-২, হবিগঞ্জ-৪, জয়পুরহাট-১ ময়মনসিংহ-৩,৬, ৯ ও ১১, মুন্সীগঞ্জ-১, কিশোরগঞ্জ-৫; কুমিল্লা-৫, ৬ ও ১০, কুড়িগ্রাম-১ ও ৩; রাজশাহী-১, ৩ ও ৪; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫; রাজবাড়ী-২, নওগাঁ-১, ৩ ও ৪, পাবনা-৪; এবং মৌলভীবাজার-২ এসব আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন চলছে। এরমধ্যে কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিএনপির ভেতরে আলোচনা আছে।

 

বিএনপির যেসব ডাকসাইটের নেতারা মনোনয়ন বঞ্চিত হলেন-
বিএনপি রাজনীতিতে আলোচিত সেসব নেতা মনোনয়ন বঞ্চিত তারা হলেন- দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী (যদিও অনেকে বলছেন তিনি নিজেই মনোনয়ন চাননি), যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, চট্টগ্রাম-৪ আসনে লায়ন আসলাম চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনে ড. এনামুল হক চৌধুরী, গাজীপুর-১ আসনে কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, শওকত চেয়ারম্যান, জামালপুর-৫ আসনে নিলোফার চৌধুরী মনি, টাঙ্গাইল-৫ আসনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, নাটোর-১ আসনে তাইফুল ইসলাম টিপু, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে আবদুস সালাম আজাদ, ঢাকা-১০ আসনে ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম ও শেখ রবিউল আলম, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে মীর সরফত আলী সপু, পটুয়াখালী ২ আসনে মো. মুনির হোসেন, রাজশাহী-৫ আসনে আবু বকর সিদ্দিক, চট্টগ্রাম-৩ আসনে মিজানুর রহমান ভুঁইয়া মিল্টন, টাঙ্গাইল-৪ আসনে প্রকৌশলী বাদলুর রহমান খান, ঝিনাইদহ-৪ আসনে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, বরিশাল-৫ আসনে আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, নোয়াখালী-১ আসনে মামুনুর রশিদ মামুন, নোয়াখালী-৫ আসনে বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, চাঁদপুর-২ আসনে অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, ঢাকা-১৮ আসনে এসএম জাহাঙ্গীর, জয়পুরহাট-২ আসনে প্রকৌশলী আমিনুর ইসলাম (সিআইপি), ময়মনসিংহ-৯ আসনে মামুন বিন আব্দুল মান্নান, মৌলভীবাজার-২ আসনে বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, ভোলা-৪ আসনে নাজিম উদ্দিন আলম, নেত্রকোনা-৩ আসনে প্রকৌশলী মো. মোস্তাফা-ই জামান সেলিম, দিনাজপুর -৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর) আসনে ছাত্রদলের স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা নূরুল হুদা বাবু, বগুড়া-৫ আসনে ফজলুর রহমান খোকন, নরসিংদী ৫ ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ। সূত্র: ঢাকা টাইমস

 

Manual2 Ad Code

(সুরমামেইল/এমকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code