জি কে শামীম-খালেদের বিরুদ্ধে র‍্যাব’র অভিযোগপত্র

প্রকাশিত: ১:১২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৯

জি কে শামীম-খালেদের বিরুদ্ধে র‍্যাব’র অভিযোগপত্র

Manual3 Ad Code

সুরমা মেইল ডেস্ক : অবৈধ অস্ত্র মামলায় কথিত যুবলীগ নেতা ও ঠিকাদার জি কে শামীম এবং ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। মামলা করার এক মাসের মাথায় সম্প্রতি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

 

রোববার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-৩ এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন। মহানগর হাকিম দেবদাস অধিকারী অভিযোগপত্রটি ‘দেখিলাম’ বলে স্বাক্ষর করেন।

Manual7 Ad Code

 

ঢাকায় গত মাসে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর গ্রেফতারদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে এই প্রথম কোনো মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হল।

Manual1 Ad Code

 

আদালত সূত্র বলছে, জি কে শামীমসহ তাঁর সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় রোববার অভিযোগপত্র জমা দেন র‍্যাব-১ এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) শেখর চন্দ্র মল্লিক।

 

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ২০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন র‍্যাব-৩ এর সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন।

 

জি কে শামীমসহ তাঁর সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, জি কে শামীম একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, অবৈধ মাদক এবং জুয়ার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তাঁর সহযোগীরা উচ্চ বেতনভোগী দুষ্কর্মের সহযোগী। তাঁরা অস্ত্রের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে প্রকাশ্যে এসব অস্ত্রশস্ত্র বহন ও প্রদর্শন করেছেন। এর মাধ্যমে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করে বিভিন্ন ধরনের টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসাসহ স্থানীয় বাস টার্মিনাল ও গরুর হাট-বাজারে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। আসামি শামীম অস্ত্রের শর্ত ভঙ্গ করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাদক ব্যবসা ও মানিলন্ডারিং করে আসছিলেন। অস্ত্র মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত শামীমের সাত দেহরক্ষী হলেন নওগাঁর দেলোয়ার হোসেন, গোপালগঞ্জের মুরাদ হোসেন, বাড্ডার জাহিদুল ইসলাম, যশোরের শহিদুল ইসলাম, ভোলার কামাল হোসেন, নীলফামারীর সামসাদ হোসেন ও বাগেরহাটের আমিনুল ইসলাম।

 

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে অভিযান চালিয়ে যুবলীগ নেতা শামীমসহ তাঁর সাত দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

 

খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া অস্ত্র মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ১৯৯৬ সালে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ঢাকা মহানগর যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন। আর ২০১২ সালে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। তখন থেকে খালেদ বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন। ঢাকার মতিঝিলের ইয়ংমেনস ক্লাব, আরামবাগ ক্লাবসহ ফকিরাপুলের অনেক ক্লাবে ক্যাসিনোর আসর বসিয়ে রমরমা মাদক ব্যবসাসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলেন তিনি। এসব অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন।

 

Manual2 Ad Code

খালেদ খিলগাঁও–শাজাহানপুর চলাচলকারী গণপরিবহন থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন। কোরবানির ঈদের সময় শাজাহানপুর কলোনি মাঠ, মেরাদিয়া, কমলাপুর ও সবুজবাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখান থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে রাজউক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রেল ভবন, ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন, ফকিরাপুলসহ বেশির ভাগ এলাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন খালেদ মাহমুদ। মাদক ব্যবসা, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি করার জন্য গড়ে তোলেন বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী।

 

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, দুটি অস্ত্রের লাইসেন্সে ৫০টি করে গুলি কেনার হিসাব থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তার হেফাজত থেকে শটগানের সাতটি এবং পিস্তলের নয়টি অতিরিক্ত গুলি উদ্ধার করা হয়। এগুলো ২০১৭ সালের পর নবায়ন করা হয়নি। এগুলো অবৈধ অস্ত্র। অবৈধ টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা পরিচালনার জন্য খালেদ এসব অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করতেন। অবৈধ ব্যবসা ও রাজনৈতিক দাপটে পেশিশক্তি প্রয়োগ করার জন্যই দীর্ঘদিন অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার করে আসছিলেন। মামলায় ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

 

খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া মূলত অবৈধ ব্যবসা ও রাজনৈতিক দাপটে পেশি শক্তি প্রয়োগ করার জন্যই দীর্ঘদিন এই অস্ত্রের ব্যবহার করে আসছিলেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

 

Manual7 Ad Code

এক সময় ফ্রিডম পার্টি সম্পৃক্ত খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ১৯৯৬ সালে ঢাকা মহানগর যুবলীগে সম্পৃক্ত হন। এরপর ২০১২ সালে মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়ে ওই সব এলাকায় ‘বিশাল সস্ত্রাসী বাহিনী’ গড়ে তোলেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

 

গত ১৮ সেপ্টেম্বর মাদক, অস্ত্রসহ গ্রেফতার হন যুবলীগ নেতা যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ।খালেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনের পাশাপাশি মুদ্রাপাচার আইনে তিনটি মামলা করা হয় গুলশান থানায়। আর মতিঝিল থানায় মাদক আইনে করা হয় আরেকটি মামলা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code