নগরবাসীকে কোনোভাবেই ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না: সিসিক প্রশাসক

প্রকাশিত: ১১:১৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২৬

নগরবাসীকে কোনোভাবেই ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না: সিসিক প্রশাসক

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নগরবাসীকে কোনোভাবেই ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না জানিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন সড়ক উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলকভাবে কাজ করতে হবে।

Manual3 Ad Code

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে নগর ভবনের ষষ্ঠ তলার সভাকক্ষে সিসিক প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত তিন মাসের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে আয়োজিত মূল্যায়ন সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, যেখানে কোনো সমস্যা দেখা দেবে সেখানেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যায় পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবেন। প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া হবে। প্রকৌশল বিভাগের পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়েও আজকের মূল্যায়ন সভা করা হয়েছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অতীতে নেওয়া কিন্তু অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নতুন সড়ক নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত এবং নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নগরবাসীর অন্যতম বড় সমস্যা সুপেয় পানির সংকট। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার একটি পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এর আগে যেসব এলাকায় তীব্র পানির সংকট রয়েছে, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী গভীর নলকূপ স্থাপনসহ বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাজস্ব বাজেট থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করেও নাগরিকদের ন্যূনতম পানির চাহিদা পূরণে আমরা কাজ করব। কোথায় কোথায় গভীর নলকূপ স্থাপন করা প্রয়োজন, তা দ্রুত চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

সিসিক প্রশাসক বলেন, নগরীর যেসব স্থানে খোলা জায়গায় বর্জ্য জমে থাকে, সেখানে নতুন ডাস্টবিন ও সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ করা হবে। অস্থায়ীভাবে যেখানে বর্জ্য রাখা হয়, সেখান থেকে দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করতে পরিবহন বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি অভিযোগ করেন ভাঙাচোরা সড়ক নিয়ে। তাই সড়ক মেরামত ও উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। নাগরিকদের জরুরি চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নেরও নির্দেশ দেন তিনি। এই নগরীকে আমরা একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন নগরীতে রূপ দিতে চাই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে সরকারের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং নগরবাসী উন্নত সেবা পাবেন।

Manual8 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

তিনি বলেন, বিমানবন্দর থেকে সার্কিট হাউস এবং ভিআইপি সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে আধুনিক ও নান্দনিক সড়কবাতি স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। একই সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের সম্প্রসারিত এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে নতুন সড়কবাতি স্থাপন করা হবে। নগরীর যানজট নিরসনে হকারদের নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা পরিচালনা এবং অবৈধভাবে সড়ক দখল করে চলাচলকারী অননুমোদিত সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

 

প্রশাসক বলেন, সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেকেই অস্থায়ীভাবে কাজ করছেন। ইনশাআল্লাহ, আগামীতে আপনাদের চাকরি স্থায়ীকরণ হবে। ব্যক্তি বা নেতৃত্ব পরিবর্তন হলেও সিসিক ও নাগরিক সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এছাড়া উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়নের জন্য প্রতি মাসে অন্তত একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

 

সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবরের পরিচালনায় মূল্যায়ন সভায় উপস্থিত ছিলেন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ উল্লাহ সজীব, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রজি উদ্দিন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী (পানি) এনামুল হক তাপাদারসহ, প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

Manual1 Ad Code

 

এদিকে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সকল পরীক্ষার্থীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

 

(সুরমামেইল/এমকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code