সিলেট ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গ্যাস সংকট নিরসনে নতুন করে অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি বাড়ানো এবং নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরীর ধোপাদিঘীরপাড় এলাকায় একটি হোটেলে কৃষিবিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চাইলেই এলএনজি আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল-এফএসআরইউ স্থাপন করতে হলে সময় লাগে। পাশাপাশি সমুদ্র থেকে জাতীয় গ্রিড পর্যন্ত পানির নিচ দিয়ে পাইপলাইন স্থাপনের কাজও করতে হয়। এসব প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।’
বর্তমান গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে মাটির নিচ থেকে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে দুটি এফএসআরইউ থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।’
বিদ্যুৎকেন্দ্র, মিল-কারখানা এবং নতুন শিল্প সংযোগের জন্য অপেক্ষমাণ চাহিদা বিবেচনায় এই পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বলে জানান তিনি।
গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে দেশের অভ্যন্তরে অনুসন্ধান বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে দীর্ঘদিন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের মাটির নিচে গ্যাস অনুসন্ধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। বাপেক্স এবং বাপেক্সের অধীন বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও এ কূপ খনন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। তবে অনুসন্ধান করে কবে কত পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।’
গ্যাস-সংকটের প্রভাব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুতের অভাবে বা গ্যাসের অভাবে কলকারখানা আর মিল-ফ্যাক্টরিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এটা তো বাস্তবতা। এটা নিয়ে দ্বিমত করার কিছু নেই, আমরা সবাই জানি। বাসাবাড়িতেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে; এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এই পরিস্থিতি বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সংকট। তবে সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।’
সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস পরিস্থিতির অবনতির কারণ হিসেবে দুটি এফএসআরইউর সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ থেকে ১০ দিনে পরিস্থিতি কিছুটা বেশি খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল দুটি এফএসআরইউর একটি থেকে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা এবং অন্যটির বয়লার নষ্ট হয়ে যাওয়া। এরই মধ্যে একটি এফএসআরইউতে আবার গ্যাস ভরা শুরু হয়েছে এবং অন্য এফএসআরইউর একটি বয়লার মেরামত করা হয়েছে। আরেকটি বয়লার মেরামতের কাজ চলছে।’
দুটি এফএসআরইউ থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস পাওয়া গেলে পরিস্থিতি প্রায় এক মাস আগের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিকল্প উদ্যোগ হিসেবে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে বড় জাহাজে এলএনজি এনে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে পেট্রোনাসের জাহাজগুলো বর্তমানে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকায় অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
(সুরমামেইল/এফএ)
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি