Untitled-1সুরমা মেইল নিউজ : পুর্ব বিরোধের জের ধরে নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কানাইপুর গ্রামে ভয়াবহ সংঘর্ষে একই পরিবারের ১০ জনসহ অন্তত অর্ধ শতাধিক মহিলা-পুরুষ আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ২০ জনকে সিলেট ও হবিগঞ্জ হাসপাতালে প্রেরন এবং বাকীদের উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ ও নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান স্থানীয়দেও সহযোগিতায় পরিস্থিতি সামাল দেন। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Manual3 Ad Code

স্থানীয় সুত্রে জানাযায়- বিগত পৌর সভা নির্বাচনে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে ওই এলকায় দূভাগে বিভক্তি দেখা দেয়। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেয় তৎকালীন ওয়ার্ড মেম্বার ইসমত আলী ও অপর পক্ষে সাবেক মেম্বার ফরজ আলী। ফরজ আলী মেম্বারের পক্ষে নেপথ্যে রয়েছেন পরাজিত জৈনক সাবেক কাউন্সিলর এবং শহরে অবস্থানরত জনৈক এক শিল্পপতি। এরই মধ্যে পৌর নির্বাচনের পর পরই ফরজ আলী মেম্বারের পক্ষের বারিক মিয়া ও তার লোকজন ইসমত মেম্বারের পক্ষের আসাম উদ্দিনের ভুমি জবর দখলকালে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষে মামলা মোকদ্দমা চলছে। এ সব বিষয় নিয়ে গ্রামটি দু’ভাগে বিভক্তি হয়ে পড়ে। শুরু হয় দলাদলি, গ্রুপিং লবিং। এ ঘটনায় কয়েক দফা শালিস তৈরী হলেও ফরজ আলীর পক্ষের লোকজন শালিসগণকে মধ্যখানে রেখে উস্কানীমূলক কথা বার্তাসহ হামলার ঘটনা ঘটায়। এতে ইসমত আলী পক্ষের আসাম উদ্দিনের দু’ মহিলা গুরুতর আহত হয়। আসাম উদ্দিন এ অবস্থায় আদালতে মামলা করলে পূণরায় শালিস গঠন হয়। উভয় পক্ষই শালিসের প্রধান কতিত ওই শিল্পপতির কাছে জায়ানতের টাকা জমা দেন। কিন্তু শালিস বিচারের তারীখ দিতে গড়িমশি শুরু করেন। এরই মধ্যে শুরু হয় ইউপি নির্বাচন। নির্বাচনে ইসমত আলী মেম্বারের সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন ফরজ আলী মেম্বারের ভাতিজা বিলাল মিয়া।

Manual1 Ad Code

এলাকাবাসী জানান- ফরজ আলী মেম্বারের লোকজন নিজেদেও আওয়ামীলীগ দাবী করে বুকে নৌকার ব্যাজ লাগিয়ে ধানের শীষের টাকা বিতরণ করলে এলাকায় টানটান উত্তেজনা দেখা দেয়। নির্বাচনে ইসমত মেম্বার ও তার লোকজন সরাসরি নৌকার পক্ষে অবস্থান নেয়। দীর্ঘদিন ধরে দু’পক্ষেও মধ্যে গ্রুপিং লবিং এবং সর্ব শেষ ইউপি নির্বাচনে দু’ মেম্বার প্রার্থী ইসমত আলী ও বিলাল মিয়া পরাজিত হওয়ায় তাদের বিরোধ চাঙ্গা হয়ে উঠে। গত মঙ্গলবার বিকালে ইসমত আলী মেম্বারের মামাতো বোনকে তার স্বামীর বাড়ির ( ফরজ আলী মেম্বারের ) লোকজন বেদরক মারপিট করলে স্থানীয় লোকদেও সহযোগিতায় তাকে হাসপাতাল নিয়ে ভর্তি করা হয়। ওইদিনই সন্ধ্যায় ইসমত মেম্বারের ভাই সাইদুর মিয়া বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে ফরজ মেম্বারের বাড়ির সামনে তার লোকজন তাকে ধাওয়া করে । ধাওয়া খেয়ে সে পালিয়ে আত্বরক্ষা করে। এ খবর বাড়িতে পৌছলে উত্তেজনা দেখা দেয়। রাতেই শালিসগণ গ্রামে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে শান্তনা দেন এবং কোন প্রকার দাঙ্গা-হাঙ্গামা থেকে বিরত থাকতে অনুরুধ করেন। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ইসমত আলী মেম্বার বাজারে আসার পথে ফরজ আলী মেম্বারের লোকজন তাকে ধাওয়া করে। এ খবর পেয়ে উভয় পক্ষেও লোকজনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষই দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে জানাগেছে। গ্রামবাসী বলেন, ফরজ মেম্বারের পক্ষ নিয়ে কেলী কানাইপুর গ্রামের মতিন, ইসমতসহ কিছু লোক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় সংঘর্ষ আরো ব্যাপক আকার ধারণ করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পৌছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। এ সময় পুলিশের গ্রেফতারের এড়াতে দু’ পক্ষের লোকজন পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ছুটে যান নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান সাজু চৌধুরী। তিনি সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত ইসমত মেম্বারের পিতা রঙ্গিলা মিয়া (৬৫), ভাই গোলাপ মিয়া (৪৫), সাইদুর রহমান (৩২), আকবর মিয়া (২০), মা লুৎফুন নেছা (৫৫), স্ত্রী হ্যাপী বেগম (২৫), বোন জয়গুন বিবি (২২), জয়ফুল বিবি (৪৮)সহ তার আত্বীয় ফরিদ মিয়া ( ৬০), সামছু মিয়া (৫৫), বুদও মিয়া ( ৩৫), রাজা মিয়া (৩৯), মোজাফ্ফর আলী ( ৪৫), তাজু মিয়া (১৫), বাচ্চু মিয়া (৪০), লিটন মিয়া (১৮), রাহেলা বেগম (৩৫), আজিম উদ্দিন (৩৫), নোয়াজ মিয়া (৫৫), রিনা বেগম (৪০), এলেমান (২০), শাকির মিয়া (২০), উমির আলী (১৮), জাহিদুর আমীন (১৩), রোহেনা (২৪), শাহাব আলী (১২), ছাতির আলী (৩০), মর্জিনা বিবি (২২), সুজন মিয়া (২০), তৈয়বুর নেছা (৪৫), আরব আলী (১৭), সহ উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক আহতদের হাসাপাতালে নিয়ে আসলে তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হবিগঞ্জ সদও হাসপাতালে প্রেরন এবং উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

Manual7 Ad Code