ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ জনের মৃত্যু: দিরাইয়ে ৪ পাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: ৮:৫৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ জনের মৃত্যু: দিরাইয়ে ৪ পাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা

Manual3 Ad Code

দালাল মুজিব ও সালেহ আহমদ। ফাইল ছবি


দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দিরাইয়ে ‘দালাল চক্রের’ বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

Manual3 Ad Code

 

দিরাইয়ের জগদল ইউনিয়নের বাসুরী গ্রামের নিহত সুহানুর রহমান এহিয়ার বাবা সালিকুর রহমান বাদী হয়ে সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে দিরাই থানায় মামলাটি করেন।

 

মামলায় চার জনের নামোল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- উপজেলার তারাপাশা গ্রামের মৃত আকিব উল্লাহর ছেলে মুজিবুর মিয়া, জগদল গ্রামের মাওলানা ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে ইতালিপ্রবাসী সালেহ আহমেদ, জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাও গ্রামের ছায়েক আহমেদ, ছাতক উপজেলার জসিম মিয়া। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছেন কয়েকজন।

Manual6 Ad Code

 

মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দিরাই থানা ওসি এনামুল হক চৌধুরী। তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।

 

ওসি বলেন, সন্তান হারানো সালিকুর রহমান মামলায় দালাল চক্র প্রতারণা করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে গ্রিস পাঠানোর কথা বলে তার ছেলেসহ অন্যান্য যুবকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

Manual5 Ad Code

 

গত শনিবার ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয়ের অভাবে দিরাইয়ের ৬ জনসহ সুনামগঞ্জের ১২জন যুবক মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তাদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

 

নিহতদের মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন, তারা হলেন- চিলাউড়ার শামছুল হকের ছেলে ইজাজুল হক রেজা (২৩), একই গ্রামের দুলন মিয়ার ছেলে নাইম মিয়া (২৪), রানীগঞ্জ ইউনিয়নের টিঁয়ারগাঁও গ্রামের আখলুছ মিয়ার ছেলে শায়েক আহমদ জনি (২৫), পাইলগাঁও (হাড়গ্রাম) গ্রামের প্রাক্তন শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (২৬) ও ইছগাঁও গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে আলী আহমদ (২২)।

Manual3 Ad Code

 

দিরাই উপজেলার ছয়জন নিহত হয়েছেন, তারা হলেন- কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের সাইদ সরদারের ছেলে নূরুজ্জামান ময়না (৩০), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫) ও আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮); রাজানগর ইউনিয়নের ররনারচর গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে উপজেলা যুবদলের সদস্য মজিবুর রহমান (৩৮), জগদল ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের সোহানুর রহমান এহিয়া (২৮), করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া (৩০)। এছাড়াও দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিমও মারা গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

নিহতদের স্বজনরা জানান, ১-৫ মাস আগে তারা লিবিয়া গিয়েছিল। লিবিয়া থেকে তাদেরকে ‘গেইমে তুলে’ গ্রিসের উদ্দেশ্যে বোটে পাচার করা হচ্ছিল। এ জন্য ১২-১৩ লাখ টাকা পর্যন্ত দালালকে দিতে হয়েছে।

 

মামলার বাদী সালিকুর রহমান বলেন, জগদল গ্রামের মাওলানা ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে ইতালি প্রবাসী সালেহ আহমদের প্রলোভনে পড়ে আমার ছেলে ইউরোপ যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। তার সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে পাঠিয়েছিলাম। গত ২২ মার্চ ছেলের সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে বলছিল আব্বা আমার কষ্ট হচ্ছে। খাবার নেই, পানি নেই। এরপর থেকে আমি দালাল সালেহ আহমদকে ফোন দিলে সে ফোন ধরেনি।

 

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলের মৃত্যুর খবর জেনে তাকে একাধিক বার ফোন দিলেও সে এখন পর্যন্ত ফোন রিসিভ করেনি।

 

একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাটিয়াপুর গ্রামের নিহত মেহেদী হাসান তায়েফের পিতা আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ছেলেকে শিপে নেয়ার জন্য ১২ লাখ টাকার কন্ট্রাক্ট হয়। ছেলেকে সেইফে নিতে আরও এক লাখ টাকা বাড়িয়ে ১৩ লাখ টাকায় কন্ট্রাক্ট করি। কিন্তু দালাল হাওয়ার বোটে তাদেরকে পাঠিয়েছিল। বোটেই খাবার ও পানির অভাবে মারা যায়। আমরা তার বিচার চাই।

 

তবে মামলার আসামিদের মোবাইলের নম্বর বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

 

(সুরমামেইল/এইচএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code