সিলেট ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৫১ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সিলেট সার্কিট হাউসে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, ‘মাজারে সচ্ছতার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। ১২ সদস্যের কমিটি এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি যৌক্তিক কাঠামো নির্ধারণ করবে।’
বাণিজ্যমন্ত্রীকে প্রধান করে গঠিত কমিটির সদস্যরা হলেন- সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবারের দুজন সদস্য এবং মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুজন প্রতিনিধি। কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন সিলেটের জেলা প্রশাসক।
সম্প্রতি শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে তালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দরগাহর উন্নয়ন এবং দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ‘দরগাহর উন্নয়ন, দানের অর্থের ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক কার্যক্রমের যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে সবাই ঐকমত্যে পৌঁছেছেন এবং মাজার কর্তৃপক্ষও এতে সম্মতি দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সবার মতামতের ভিত্তিতে আমরা একটি যৌক্তিক কাঠামো তৈরি করেছি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে কমিটি ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে।’
পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপাতত এই কমিটিই প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দানের অর্থ গণনা করবে এবং তা জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।’
বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারা অতীতের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চান না, বরং সামনে এগিয়ে যেতে চান।’
তিনি বলেন, ‘কাজ করার একটি পদ্ধতি হলো এককভাবে কাজ করা, আরেকটি হলো সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা। সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে স্বচ্ছতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় এবং কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়।’
সার্কিট হাউসের এ বৈঠকে দরগাহর ঐতিহ্য, ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে রাজনীতিবিদ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, মাজার কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
(সুরমামেইল/এফএ)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি