সিলেটে সর্বস্তরের শ্রদ্ধায় কিংবদন্তি ফুটবলার রণজিৎ দাসকে শেষ বিদায়

প্রকাশিত: ১২:২০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬

সিলেটে সর্বস্তরের শ্রদ্ধায় কিংবদন্তি ফুটবলার রণজিৎ দাসকে শেষ বিদায়

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের সর্বস্তরের নাগরিকরা শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে বিদায় নিলেন বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক রণজিৎ দাস।

 

Manual2 Ad Code

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেট নগরীর তালতল এলাকার পার্ক ভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানান মেয়ে নাট্যকার রীমা দাস। মৃত্যুকালে রণজিত দাসের বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

 

রীমা দাস বলেন, ‘দীর্ঘদিন বাবার বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভোগছিলেন। সর্দি-কফ দেখা দিলে তাকে শনিবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন সোমবার ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়।’

 

মরদেহ নগরীর করেরপাড়া এলাকার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে নগরীর চালিবন্দর এলাকার শশ্মানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

 

সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমদ বলেন, রাত ৮টার দিকে রনজিত দাসের মরদেহ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। সেখানে সর্বস্তরের নাগরিকরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর মরদেহ যাবে রামকৃষ্ণ মিশনে। পরে চালিবন্দর মহাশশ্মান ঘাটে তার শেষকৃত্য হবে।

 

সিলেটের বাসিন্দা রণজিত দাস স্বাধীনতা উত্তরকালে ফুটবলার হিসেবে ক্রীড়া জগতে বিপুল সম্মান ও খ্যাতি অর্জন করেন। এ ছাড়া হকি ও ক্রিকেট খেলোয়াড় হিসেবেও খ্যাতি ছিল তার। ১৯৩২ সালের ২৯ অক্টোবর সিলেট শহরের জিন্দাবাজার কুড়িটুলা এলাকায় তার জন্ম হয়। তিনি পেশায় ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন।

 

Manual4 Ad Code

রণজিত দাস:
১৯৫৫ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান ফুটবল দলের গোলকিপার হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তিনি দুবার পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন।

 

এছাড়া তিনি ঢাকায় প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ১৯৫৭ সালে কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলেছেন।

 

ফুটবলারের পাশাপাশি একজন হকি খেলোয়াড় হিসেবেও রণজিত দাসের যশ ও সুনাম ছিল। পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছেন ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত। এছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান হকি দল, প্রথম বিভাগ হকি লিগসহ নানা খেলায় অংশ নেন।

 

খেলাধুলার পাশাপাশি একজন ক্রীড়াসংগঠক হিসেবেও রণজিত দাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সভাপতি, পূর্ব পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশন ঢাকার নির্বাহী কমিটির সদস্য, ঢাকার আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল সম্পাদক ও কোচ, পূর্ব পাকিস্তান যুব ফুটবল দলের কোচসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

Manual3 Ad Code

 

রণজিত দাস ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন। এ ছাড়া ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০০৬ সালে প্রথম আলো-গ্রামীণফোন আজীবন সম্মাননা এবং ২০০২ সালে ‘৫০-৬০ দশকের কৃতী ফুটবলার’ হিসেবে প্রথম আলো-স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের উদ্যোগে গুণীজন সংবর্ধনা পান।

 

এর বাইরেও তিনি অসংখ্য পদক-সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ‘ক্রীড়াঙ্গনের ফেলে আসা দিনগুলো’ (২০২৫) নামে তার একটি স্মৃতিচারণমূলক বইও প্রকাশিত হয়েছে।

 

Manual1 Ad Code

(সুরমামেইল/এমকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code