সুরঞ্জিত হত্যাচেষ্টা মামলা: একজনের মৃত্যুদণ্ড, আরিফ-গউছ-বাবর খালাস

প্রকাশিত: ৯:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২৬

সুরঞ্জিত হত্যাচেষ্টা মামলা: একজনের মৃত্যুদণ্ড, আরিফ-গউছ-বাবর খালাস

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

 

একইসঙ্গে এ মামলায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সরকার দলীয় হুইপ জি কে গউছ এবং সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরসহ অন্য আসামিদের বেকসুর খালাসের রায় দেওয়া হয়েছে।

 

মামলার একমাত্র আসামি হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ ওরফে নিমুকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

Manual7 Ad Code

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরের দিকে সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই রায় ঘোষণা করেন।

 

Manual8 Ad Code

এ তথ্য জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘সকালে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, জি কে গউছসহ মামলার আসামিরা আদালতে উপস্থিত হন। শুনানি শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাসের আদেশ দেন।’

 

খালসপ্রাপ্তরা অন্যরা হলেন- মুহিব উল্লা ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি, মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজা, মো. আব্দুল মাজেদ বাট ওরফে ইউসুফ বাট, মো. নাজিউর রহমান নাজু ওরফে নাজমুল হক নাজু ওরফে নাজিমুল হক ও মাওলানা তাজ উদ্দিন।

 

তাদের মধ্যে তাজ উদ্দিন পলাতক রয়েছেন ও খালাসপ্রাপ্ত আব্দুস সালামের মৃত্যু হয়েছে।

 

আসামীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছিল। এর মধ্যে ৩ জনের আগেই অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। বাকি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র আসামি হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ ওরফে নিমুর বিরুদ্ধে ৩টি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়; পরে আদালত ৩০২ ধারায় তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন।’

 

Manual2 Ad Code

২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে তখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সেই ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পান এ আওয়ামী লীগ নেতা।

 

তবে গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হন। ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন এসআই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন। সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করা হয়।

Manual2 Ad Code

 

এসব মামলায় ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জিকে গৌছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়।

 

মামলায় ১২৩ জন সাক্ষী ছিলেন। এর মধ্যে ৬৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এদিকে মামলার রায়ের পর আদালতে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘অন্যায়ভাবে এই মামালায়, আমাদেরকে যড়ষন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে দীর্ঘদিন হয়রানি করা হয়েছে। আমরা কারাবরণ করেছি, আজকে আমরা নিদোর্ষ প্রমাণিত হয়েছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি আমরা।’

 

সরকার দলীয় হুইপ জি কে গউছ বলেন, ‘সাড়ে ২৬ মাস আমি এবং আরিফ ভাই এই মামলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করেছি। আজকে যে গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের ভোট দ্বারা নির্বাচিত হওয়ার পর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণেই আজকে কোর্ট স্বাধীনভাবে সত্যের ভিত্তিতে এবং স্বাক্ষীর ভিত্তিতে মামলাটি নিষ্পতি করেছেন আদালত। আজকে আমরা বেকসুর খালাস পেয়েছি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনুরোধ করব রাজনৈতিক কারণে যারা মানুষকে ক্ষতি করে, যেমন নেতা ইলিয়াস আলী আজকে আমাদের মধ্যে নেই, উনার ভাগ্যে কি ঘটেছে আমরা জানি না। শুধু মাত্র রাজনৈতিক কারণে ইলিয়াস আলী আমাদের মধ্য থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি আমাদের যত মানুষ কষ্ট পেয়েছেন, আরও মিথ্যা মামলা রয়েছে আমাদের নামে, অন্যান্য ভাইদের নামে রয়েছে। আমরা সকলে যেন ন্যায়বিচার পাই।’

সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে হলেও ন্যায় বিচার প্রমাণিত হয়েছে। আপনারা জানেন আমাকে ধরা হয়েছিল ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায়, যাতে আমাদের তখনকার দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে এবং জনাব তারেক রহমানের নামে মিথ্যা স্বাক্ষী দেওয়ার জন্য। আমি মিথ্যা স্বাক্ষী দেইনি, তখনকার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও অন্য যারা টিমে ছিলেন, তারা আমাকে বলেছিলেন আপনি যদি কোনোভাবে আমাদের কথামত কাজ না করেন, আপনাকে সবগুলো মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে এবং যতগুলো গ্রেনেড মামলা আছে, সবগুলোতে জড়িত করা হবে। সেটারই ধারাবাহিকভাবে আমাকে দশ ট্রাক মামলায় আসামি করা হয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘দেখেন সিলেটের যেটার সাথে আমি বা গউছ, আরিফ কেউ জড়িত না। ওই একই কারণে আমাদেরকে আসামি করা হয়েছে। আল্লাহর দুনিয়া অনেক বড়, আল্লাহর বিচার হয়েছে। আজকে দেখেন শেখ হাসিনা কোথায়, আর আমরা কোথায়।’

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code