১৬ দিন ধরে বন্ধ ক্যামেলিয়া হাসপাতাল হাসপাতাল, বিপাকে চা শ্রমিক পরিবার

প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২৬

১৬ দিন ধরে বন্ধ ক্যামেলিয়া হাসপাতাল হাসপাতাল, বিপাকে চা শ্রমিক পরিবার

Manual6 Ad Code

চা বাগান এলাকায় অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল’র বেড। ছবি: সংগৃহীত


মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগান এলাকায় অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল টানা ১৬ দিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম চিকিৎসাসঙ্কট তৈরি হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, “প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।”

Manual3 Ad Code

 

স্থানীয় চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন জানান, হাসপাতাল বন্ধ থাকার ফলে পালকিছড়া, কানিহাটি ও আলীনগর চা বাগানের কয়েকজন শ্রমিক সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন। তিনি দ্রুত হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়ে বলেন, অতীতের মতো সব ধরনের চিকিৎসা ও অপারেশন সেবা পুনরায় চালু করতে হবে এবং সাম্প্রতিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।

Manual5 Ad Code

চা বাগান এলাকায় অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত


জানা যায়, গত ২৬ মার্চ ঐশি রবিদাস নামে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে জেলা সদরে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরিবারের অনিচ্ছার কারণে তাকে হাসপাতালে রাখা হয় এবং পরদিন তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজিত জনতা হাসপাতালে হামলা চালায় এবং চিকিৎসকদের হেনস্তা করে। এতে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে চিকিৎসক ও কর্মচারীরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন এবং হাসপাতালের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

 

Manual5 Ad Code

নব্বইয়ের দশকে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি চা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

 

স্থানীয় নারী শ্রমিকরা জানান, এটি ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা সম্পূর্ণ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

 

এদিকে একই ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত ‘লংলা ক্যামেলিয়া স্কুল’-এর কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে চা শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য- উভয় ক্ষেত্রেই মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যে অবস্থিত ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশনা ছাড়া হাসপাতালটি পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়। যদিও ঘটনার তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে, তবুও সেবা চালুর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত হাসপাতালটি চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

Manual4 Ad Code

 

(সুরমামেইল/এমবিএন)


 

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code