বড়পুকুরিয়ায় কয়লা কেলেঙ্কারি : ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: ৮:২৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০১৮

বড়পুকুরিয়ায় কয়লা কেলেঙ্কারি : ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Manual7 Ad Code

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেছে খনি কর্তৃপক্ষ। যার আর্থিক মূল্য ধরা হয়েছে ২৩০ কোটি টাকা।

Manual4 Ad Code

মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) রাত ১২টায় পার্বতীপুর মডেল থানায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে এই মামলা করেন। মামলা নং-৩০।

মামলার আসামিরা হলেন- সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ, সাময়িক বরখাস্তকৃত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নুর-উজ-জামান চৌধুরী, উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) একেএম খালেদুল ইসলাম, সদ্য বিদায়ী কোম্পানি সচিব ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানীয়া, ব্যবস্থাপক (এক্সপ্লোরেশন) মোশাররফ হোসেন সরকার, ব্যবস্থাপক (জেনারেল সার্ভিসেস) মাসুদুর রহমান হাওলাদার, ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) অশোক কুমার হালদার, ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) আরিফুর রহমান, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কন্সট্রাকশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স) জাহিদুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক (সেফটি ম্যানেজমেন্ট) একরামুল হক, উপ-ব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট) মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) মোর্শেদুজ্জামান, উপ-ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) হাবিবুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট) জাহেদুর রহমান, সহকারী ব্যবস্থাপক (ভেল্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট) সত্যেন্দ্রনাথ বর্মন, ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) সৈয়দ ইমাম হাসান, উপ-মহাব্যবস্থাপক (মাইন প্লানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) জোবায়ের আলী, প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী এবং মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) গোপাল চন্দ্র সাহা।

Manual7 Ad Code

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সাময়িক বরখাস্তকৃত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নুর-উজ-জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) একেএম খালেদুল ইসলাম, সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ, সদ্য বিদায়ী কোম্পানি সচিব ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানীয়াসহ তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে ওই কয়লা চুরি বা ঘাটতির ঘটনার সঙ্গে ১৯ জন সংশ্লিষ্ট।

Manual2 Ad Code

অভিযোগে মজুদকৃত কয়লার হিসাবের গড়মিলের বিষয়টি দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) এবং ৪০৯ ধারা অনুযায়ী এজাহারভুক্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।

Manual3 Ad Code

পার্বতীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফকরুল ইসলাম জানান, মামলাটি দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলাটি দুদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার খনি পরিদর্শন শেষে দিনাজপুর দুদক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন,“কয়লার মজুদ সংক্রান্ত কাগজপত্রে দেখলাম এক লাখ ৪৬ হাজার টন কয়লা মজুদ থাকার কথা। কিন্তু ইয়ার্ডে মজুদ দেখলাম প্রায় দুই হাজার টন। সেখানে এক লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লার ঘাটতি রয়েছে।”

কয়লা সরবরাহ না পাওয়ায় বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন গত রোববার রাত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে রংপুর বিভাগের আট জেলা বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনি থেকে উত্তোলন করে রাখা ১ লাখ ৪৬ হাজার টন কয়লা ‘গায়েব’হওয়ার দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। এসব প্রতিবেদন আমলে নিয়ে কমিশন সোমবার বিশেষ বৈঠক করে। বৈঠকে এ দুর্নীতি অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপ-পরিচালক শামসুল আলমের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করে। এই টিমের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় দুদকের সহকারী পরিচালক এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন ও উপ-সহকারী পরিচালক এ এস এম তাজুল ইসলামকে। অনুসন্ধান টিমের তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয় দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল আলমকে। কমিশনের তদন্ত দলকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code