সিলেট ২০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২০
সুরমা মেইল ডেস্ক : দীর্ঘ ২০ বছর ধরে প্রতারণা করে আসছেন রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিম। ১০ বছর আগে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা হয়। কিন্তু গ্রেফতার হননি তিনি। একের পর এক প্রতারণা করেও পার পেয়ে গেছেন সাহেদ। আর তাকে পার পেতে সহায়তা করেছে সমাজের নানা শ্রেণি পেশার মানুষ।
জানা গেছে, সাহেদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধাও নিয়েছে তারা। কারা তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতো, সাহেদের রঙ মহলে কাদের ছিলো আনাগোনা, কিসের বিনিময়ে তারা সাহেদের অনৈতিক কাজে সহায়তা করতো এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তালিকা হচ্ছে সেইসব ব্যক্তিদের।
এদিকে, গত ২০ বছর ধরে সাহেদ একে একে গড়ে তুলেছেন রিজেন্ট হসপিটাল লিমিটেড (মিরপুর ও উত্তরা), এমএলএম কোম্পানি বিডিএস ক্লিক ওয়ান, ঢাকা সেন্ট্রাল কলেজ, রিজেন্ট ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, হোটেল মিলিনা, করেছেন ঠিকাদারি ব্যবসা। হয়েছেন নতুন কাগজ নামে একটি পত্রিকার সম্পাদকও। কিন্তু সব ব্যবসার মধ্যেই ছিল তার প্রতারণা। তার এতোসব প্রতারণা এবং প্রতারণা করে টিকে থাকার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সামনে চলে আসছে অনেক প্রশ্ন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত বুধবার (১৫ জুলাই) সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর হেলিকপ্টারে সাহেদকে নিয়ে আসা হয় র্যাব হেডকোয়ার্টারে। আসার পথেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় র্যাবের। র্যাব হেডকোয়ার্টারে আসার পরও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত থাকে। পরে তাকে হস্তান্তর করা হয় ডিবি পুলিশের কাছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আদালতে হাজির করা হলে সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
জানা যায়, সাহেদের প্রতারণার অন্যতম কৌশল ছিলো সমাজের উচুঁ তলার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা কিংবা তাদের সংস্পর্শে এসে ছবি তুলে অফিসে ঝুলিয়ে রাখা।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারওয়ার বিন কাশেম এ প্রসঙ্গে বলেন, দুষ্টু লোকেরা নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে প্রভাবশালী লোকজনের সঙ্গে ছবি তোলেন। আবার সুন্দরীদেরও সাহেদ ব্যবহার করতেন প্রতারণার কাজে। মূলত; এসব নারীদের দিয়ে তিনি ব্ল্যাকমেইল করতেন।
প্রতারণার কৌশল হিসেবে সাহেদ গভীর সখ্যতা গড়ে তোলেন মিডিয়া সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী কিছু মানুষের সঙ্গে। তাদের হাত ধরে তিনি পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে তোলেন সমাজের আরো উপর মহলে।
বুধবার গ্রেফতারের পর সাহেদকে নিয়ে র্যাব অভিযান চালায় উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর সড়কে তার একটি অফিসে। সেখান থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। সাহেদ জানায়, পাওনাদারদের তিনি এসব জাল টাকা দিতেন।
এছাড়া ওই অফিসে একটি গোপন কক্ষেরও সন্ধান পায় র্যাব। সাহেদ ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে সেখানে আমোদ-ফুর্তি করতেন। এখানে সমাজের উচুঁ স্থরের অনেকের যাতায়াত ছিলো। কারা সেখানে যেতো তা জানতে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা সেখানকার সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। শুধু উত্তরাতেই নয়, রিজেন্ট হাসপাতালের দুটি শাখাতেও যাতায়াত ছিলো অনেকের।
জানা গেছে, ২০১১ সালে এমএলএম ব্যবসার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন সাহেদ। উত্তরা ও টঙ্গি এলাকায় রিকশার লাইসেন্স বাণিজ্যও করেন তিনি। এক বালু ব্যবসায়ীর প্রায় অর্ধ কোটি টাকা মেরে উল্টো তাকে অফিসে ডেকে বেদম মেরেছিলেন সাহেদ। ভুয়া সেনা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ঋণ নিয়েছিলেন ব্যাংক থেকে। আবার স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা ছিলো সাহেদের। যার ফলে লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে করোনা টেস্ট ও চিকিৎসার জন্য চুক্তি করা হয়। কাদের সাহায্যে এই অনিয়ম করা হয়েছে সাহেদের কাছে সেটি জানতে চাওয়া হয়। এরকম আরো অনেক প্রশ্নেরই মুখোমুখি হতে হচ্ছে সাহেদকে।
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি