নববধূ নিয়ে ফেরার দুর্ঘটনা: বর-কনেসহ সড়কে ঝরলো ১৪ প্রাণ

প্রকাশিত: ১২:১২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০২৬

নববধূ নিয়ে ফেরার দুর্ঘটনা: বর-কনেসহ সড়কে ঝরলো ১৪ প্রাণ

Manual7 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বরের পরিবারের ১০ জন ও কনের পরিবারের তিন জন এবং মাইক্রোবাসের চালক রয়েছেন।

 

খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশায় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে নববধূ নিয়ে মোংলার শেলাবুনিয়ার আসার পথে বরযাত্রীদের মাইক্রোবাসটি দুর্ঘটনায় পড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। মাইক্রোবাসটিতে ১৫ জন ছিলেন; তাদের মধ্যে ১৪ জনই মারা গেছেন।

 

Manual2 Ad Code

নিহতদের মধ্যে চার জনের লাশ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ১০ জনের লাশ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আছে। আহত একজনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

নিহত বর ও কনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে সাব্বিরের সঙ্গে কয়রার নাকশা এলাকার মার্জিয়া আক্তার মিতুর বিয়ে হয়। দুপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে মিতুর শ্বশুরবাড়ি মোংলার শেলাবুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় বরযাত্রীদের মাইক্রোবাস। রামপালের কাছাকাছি এলাকায় দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হন। মাক্রোবাসে বর-কনে, পরিবারের সদস্য ও চালকসহ ১৫ জন ছিলেন। এর মধ্যে বরের পরিবারের ১১ জন, কনের পরিবারের তিন জন এবং চালক একজন। তাদের মধ্যে বরের পরিবারের বরসহ ১০ জন, কনের পরিবারের তিন জন ও চালক নিহত হন।

 

কাটাখালী হাইওয়ে থানা পুলিশের সার্জেন্ট তারেক আহমেদ রুদ্র বলেন, ‘রাত পৌনে ৮টা পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বর সাব্বির, তার মা, বরের এক ভাই, বরের দুই ভাবি, বরের তিন ভাগিনা-ভাগনে, বরের দাদিসহ ১০ জন, আর নববধূ মিতু, তার বোন লামিয়া ও নানি এবং গাড়িচালক মারা গেছেন।’

 

নিহত মিতুর মামা আবু তাহের জানিয়েছেন, কয়রা উপজেলার নাকশায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তার ভাগনি মিতুর বিয়ে হয়। তার শ্বশুরবাড়ি মোংলার শেলাবুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় বরযাত্রীদের মাইক্রোবাসটি। রামপালের কাছাকাছি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মিতু, তার বোন লামিয়া ও নানি মারা গেছে। আর বরসহ মারা গেছেন ১০ জন।

 

Manual8 Ad Code

মোংলা পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম বলেন, ‘মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে সাব্বিরের বিয়ে হয়েছিল। তিনি ছেলে-পুত্রবধূ নিয়ে মোংলায় বাড়িতে আসছিলেন। পথে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দুই পরিবারের ১৩ জন ও চালকের মৃত্যু হয়।’

 

Manual1 Ad Code

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দুর্ঘটনার সময় বেলাই ব্রিজের তিনটি লেনে নৌবাহিনীর দুটি বাস, একটি ট্রাক ছিল। মাঝের লেনে দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি ব্রিজে উঠতেছিল। বিপরীত দিক থেকে মাইক্রোবাসটি ট্রাক ও নৌবাহিনীর একটি বাসের মাঝ দিয়ে ব্রিজ পার হচ্ছিল। এ অবস্থায় মাঝের লেনে নৌবাহিনীর বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। নৌবাহিনীর বাসটিতেও যাত্রী ছিল। তারাও সবাই কম-বেশি আহত হন। নৌবাহিনীর অপর বাসটি এসে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মাইক্রোবাসের যাত্রীরা। উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের কয়েকজন নিহত হন ও বাকিরা আহত হন।

Manual8 Ad Code

 

কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান বলেন, ‘নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল। আর যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি ছিল মোংলা অভিমুখে। পথিমধ্যে বেলাই ব্রিজ এলাকায় দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। হতাহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহত চার জনের লাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছে। আহতদের খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

 

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নারী-শিশুসহ ১০ জনের লাশ আমাদের হাসপাতালে আছে।’

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code