সিলেটে ঈদের শুভেচ্ছার আড়ালে প্রচারে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা

প্রকাশিত: ২:৩৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২৬

সিলেটে ঈদের শুভেচ্ছার আড়ালে প্রচারে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা

Manual1 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচন নিয়ে আলোচনা। ক্ষমতাসীন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও তৎপর হয়ে ওঠেন। তবে মাঝখানে সিসিকে প্রশাসক নিয়োগের ফলে এই তৎটরতায় কিছুটা ভাটা পড়ে।

 

এবার আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে ওঠেছেন মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নগরজুড়ে বড় বড় বিলবোর্ড, পোস্টার, ফেস্টুন লাগিয়েছেন তারা। ঈদ শুভেচ্ছার আড়ালে কৌশলে ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন এই নেতারা।

Manual8 Ad Code

 

Manual6 Ad Code

তবে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়ে নগরের সৌন্দর্য নষ্ট না করতে অনুরোধ জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

 

গত বৃহস্পতিবার সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এই অনুরোধ জানান। তবে কাইয়ুম চৌধুরীও মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে জানা গেছে।

 

এদিকে কবে নাগাদ সিলেট সিটি নির্বাচন হতে পারে তা এখনও নিশ্চিত নয়।

Manual5 Ad Code

 

তবে সম্প্রতি সিলেট সফরে এসে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে কী না সংসদে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর নির্বাচনের তারিখ ঠিক করা হবে।

 

তবে এতে বসে নেই সিলেটের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। নানান কৌশলে প্রচার চালাচ্ছেন তারা। এখন ঈদের মৌসুমে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর নামে প্রচার চালাচ্ছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

 

নগর ঘুরে দেখা গেছে, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকীর নামে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও পোস্টার লাগানো হয়েছে।

 

এরই কজন ছাড়াও সিলেট সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিলেট জেলা তাঁতীদলের আহ্বায়ক ফয়েজ আহমদ দৌলত, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহ-সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম।

 

তবে সিসিকের মেয়র প্রার্থী হিসেবে এই আলোচনায় এতোদিন ছিলো না সিলেট জেলা বিএনপির সভপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর নাম। তবে আলোচনার বাইরে থাকা কাইয়ুম চৌধুীকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সিসিকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামী সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ফলে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে জোড়েসোরেই আলোচিত হচ্ছে কাইয়ুম চৌধুরীর নাম।

 

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ১৯ আসনের মধ্যে ১৮টিতেই জয় পায় বিএনপি। এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাই সিটি নির্বাচনেও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চান তারা।

 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কোনোভাবেই সিটি করপোরেশন হাতছাড়া করতে নারাজ তারা। এজন্য যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থী দেওয়ার আহ্বান তৃণমূল নেতাদের। যোগ্য প্রার্থী না দিলে হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।

 

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সিসিক নির্বাচনে কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

নগর বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে জামায়াতের সঙ্গে তাদের শক্ত পরীক্ষা দিতে হয়েছে। বলতে গেলে ঘাম ঝরানো বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন তারা। তাই প্রার্থী নির্ধারণে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সিটি নির্বাচনে জামায়াত যে প্রার্থী দেবে, তাঁকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে যে হারাতে পারবেন, তাঁকে যেন কেন্দ্র মনোনয়ন দেয়।

 

ওই নেতা জানান, জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে খন্দকার মুক্তাদীর ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬টি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩টি। ওই আসনে ভালো লড়াই হয় দুই প্রার্থীর মধ্যে। অথচ, আসনটি ২০১৮ সালের সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের পান ১১ হাজার ভোট। এদিক থেকে ৭ বছরে জামায়াতের ভোট অনেকটাই বেড়েছে। সিলেট-১ আসনে জামায়াতের ভোটের উত্থান হয়েছে।

 

আগামী সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে সম্প্রতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দল একটি সুপরিকল্পিত কর্মসূচির অংশ হিসেবেই আমাকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। বলা যায়, এটি একটি ড্রেস রিহার্সেল। সিলেট সিটির সার্বিক অবস্থা বোঝা এবং নগরবাসীর সমস্যা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নিতেই আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি সনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

Manual4 Ad Code

 

মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়ে মানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কয়েস লোদী বলেন, আমি কাউন্সিলর ও প্যানলি মেয়র হিসেবে দীর্ঘদিন এই নগরবাসীর সেবা করেছি। নগররে উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত থেকেছি। আগামীতে আমি আমার এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। আশা করি আমার দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।

 

মেয়র পদে প্রাথী হওয়ার আগ্রহের কথা সম্প্রতি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জানিয়েছেন মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী। নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীও সম্প্রতি মেয়র প্রতি প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের কথা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।

 

সিলেট বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, আমি ১৯৯৫ সাল থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। ২০১৮ সালে সিসিকে নির্বাচনে প্রার্থী হই। দলের স্বার্থে সরে যাই। এবার সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী ছিলাম। দল এখানে আরিফুল হক চৌধুরীকে মনোয়ন দিল। আমি সরে দাঁড়ালাম। তাই আগামী সিসিক নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী।

 

(সুরমামেইল/এমকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code