রাখাল থেকে শীর্ষ মানবপাচারকারী ‘শাহিন-আজিজ-এনাম’

প্রকাশিত: ১:২১ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬

রাখাল থেকে শীর্ষ মানবপাচারকারী ‘শাহিন-আজিজ-এনাম’

Manual4 Ad Code

হেলাল আহমেদ (সুনামগঞ্জ) দিরাই:
​সুনামগঞ্জের দিরাই, জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ১২ জন তরুণ-যুবকের স্বপ্ন এখন ভূমধ্যসাগরের নোনা জলে বিলীন। ইউরোপের উন্নত জীবনের মরীচিকা দেখিয়ে তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে এক নৃশংস মানবপাচারকারী চক্র।

 

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে লিবিয়ায় অবস্থানরত তিন কুখ্যাত দালাল- শাহিন, আজিজ ও এনামের নাম, যাদের অতীত ছিল অতি সাধারণ, কিন্তু বর্তমানে তারা লাশের কারবারী।

Manual3 Ad Code



“লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে নৌযানে থাকা অবস্থায় ভূমধ্যসাগরে দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুর উপজেলার নিহত পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার একজন প্রাণ হারিয়েছেন।

 

Manual1 Ad Code

দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের আবু সরদারের ছেলে মো. নূরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), আব্দুল গনির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), মৃত কারি ইসলাম উদ্দিনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া (৩৫) ও একই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮), করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়ানপুর গ্রামের তায়েক মিয়া ও বাসুরি গ্রামের সোহাস মিয়া।

 

জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া গ্রামের দুলন মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়া (২৪), একই গ্রামের শামছুল হকের ছেলে ইজাজুল হক (২৩), রানীগঞ্জ ইউনিয়নের টিয়ারগাঁও গ্রামের আখলুছ মিয়ার ছেলে শায়েক আহমদ (২৫), ইছাগাঁও গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে আলী আহমদ (২২) ও পাইলগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (২৬)।
দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিম (২০) ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন।

 

ইউরোপের উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে সুনামগঞ্জের ৩ উপজেলার ১২ জন তরুণ ও যুবককে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে একদল নৃশংস মানবপাচারকারী। সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে তরুণ ও যুবকদের সলিলসমাধির ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনায় লিবিয়াভিত্তিক একটি শক্তিশালী পাচারকারী চক্রের নাম উঠে এসেছে, যাদের নেতৃত্বে রয়েছে শাহিন, আজিজ এবং এনাম নামের তিন কুখ্যাত দালাল।

 

​রাখাল থেকে ‘মাফিয়া’ বনে যাওয়া তিন হোতা
​অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রের হোতারা একসময় এলাকায় অতি সাধারণ ও অভাবী জীবন-যাপন করত। আজ তারা বিদেশের মাটিতে বসে লাশের বাণিজ্য করছে।​

 

শাহিন (জগন্নাথপুর): পাড়ারগাঁও গ্রামের এই শাহিন একসময় অন্যের দোকানে চাকরি করত এবং বিভিন্ন এলাকায় হাঁস রাখালি করে জীবিকা চালাতো, একদিন সিলেটস্থ বন্দর বাজার মধুবন মার্কেটে তার চাচাতো ভাইয়ের দোকানে চুরির দায়ে ধরা পড়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে লিবিয়ায় আশ্রয় নেয়। সেখান থেকেই শুরু করে দালালি সাম্রাজ্য।

 

আজিজ (জগ্ননাথপুর): অন্যের বাড়িতে কাজ করা আজিজ ধারদেনা করে লিবিয়া গিয়ে এখন মানবপাচারের অন্যতম কারিগর। আজিজের মা তার বাবার দ্বীতিয় স্ত্রী।অভাবের সংসার ছিলো, আজ সে লাখপতি, বেশির ভাগ সময় আজিজ তার মা কে তার বোনের বাড়ি নবীগঞ্জ রাখে, সে কুমিল্লার দাউদকান্দির ওয়ান্টেড আসামি এবং লিবিয়ার ‘মাফিয়া কিং’ শরিফ ও দালাল তোতার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কাজ করে।

 

Manual2 Ad Code

এনাম (শান্তগঞ্জ): একসময় গরু রাখাল হিসেবে কাজ করা এনাম আত্মীয়দের সহায়তায় লিবিয়া পৌঁছায় এবং বর্তমানে বড় ধরনের পাচারকারী চক্র পরিচালনা করছে।

 

​দেশীয় এজেন্টদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক
​লিবিয়ায় বসে এই তিন হোতা তাদের দেশীয় সহযোগীদের মাধ্যমে সহজ-সরল তরুণদের প্রলুব্ধ করে। তাদের প্রধান এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে:​ জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের বালিকান্দি গ্রামের আবুল কালাম, পাড়ারগাঁওয়ের মহিম ও রোকন,​ দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের ছোট মিয়া ও সালেহ আহমেদ। দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের মুজিবুর রহমান।

 

Manual4 Ad Code

​নিখোঁজ ও মৃত তরুণদের পরিবারে এখন শুধুই আহাজারি। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে গ্রামে গ্রামে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দেশীয় এজেন্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পারলেই দালালদের দৌরাত্ম্য কমানো সম্ভব। পাচারকারীদের এই সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দিরাই ও জগন্নাথপুরসহ পুরো জেলায় তোলপাড় চলছে।

 

​ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, সরকার যেন দ্রুত ইন্টারপোলের মাধ্যমে লিবিয়ায় অবস্থানরত শাহিন, আজিজ ও এনামকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের ব্যবস্থা করে এবং তাদের দেশীয় সহযোগীদের গ্রেফতার করে।এই নরপশুরা আমাদের ছেলেদের জীবন নিয়ে খেলছে। এদের শিকড় উপড়ে না ফেললে আরও অনেক মায়ের বুক খালি হবে।- ক্ষুব্ধ এক এলাকাবাসী।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code