বন বিভাগের সীমানায় অবৈধ সমিলের ছড়াছড়ি, ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ!

প্রকাশিত: ২:১৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২৬

বন বিভাগের সীমানায় অবৈধ সমিলের ছড়াছড়ি, ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ!

Manual1 Ad Code

নবীগঞ্জের বরাগাঁও এলাকায় সাবেক সেনা সদস্য লুৎফুর রহমানের অনুমোদনহীন স’মিল।


নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: 
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে বন বিভাগের সীমানার ভিতরে দিন দিন বাড়ছে অবৈধ স’মিলের সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নবীগঞ্জ ও বাহুবল এই দুটি উপজেলাতে মহাসড়কের পাশে ঘেষা অবস্থায় ৪১টির মধ্যে বৈধ স’মিল রয়েছে মাত্র ৩টি, বাকিগুলো অবৈধ স’মিল। এগুলো ২০০৮ সালের পর থেকে অবৈধ ভাবে চলে আসছে।

 

সমিল মালিকরা জানান, কখনও রাজনৈতিক প্রভাব, কখনও বন বিভাগকে মাসিক চাঁদা দিয়ে চলছে অবৈধ স’মিলগুলো।

 

“ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এসব স’মিলগুলো উচ্ছেদের জন্য বন বিভাগ রহস্যময় কারনে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।”

Manual4 Ad Code

বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী তাদের বন বিভাগের জায়গা থেকে ১০ কিলো মিটার দুরে স’মিল গুলোর অবস্থান হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এসব স’মিল তাদের নির্দিষ্ট সীমানার ভিতরে কিভাবে চলছে এই প্রশ্ন এখন জনমনে।

 

২০০৮ সাল থেকে সরকার নিয়ম চালু করে বন বিভাগের ১০ কিলো মিটার সীমানার ভিতরে কোন করাত কল বা স’মিল থাকবে না। সরকারের এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মহাসড়কের পাশেই দিবারাত্রি করাত কলগুলো চলছে।

Manual4 Ad Code

 

প্রশাসনের নাকের ডগায় গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স’মিল বন ধ্বংসের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে পরিচালিত এসব স’মিলে প্রতিদিন গোপনে কাটা হচ্ছে সরকারি বনাঞ্চলের শত শত গাছ, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘এসব অবৈধ স’মিল রাতের আঁধারে বন থেকে গোপনে গাছ এনে কাঠে রূপান্তর করছে। প্রশাসনের চোখের সামনেই স’মিলগুলো চলছে, অথচ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।’

 

এলাকাবাসী বলেন, ‘যেখানে বৈধ মিল ৩টা, সেখানে অবৈধ ৩৭টা এটা কীভাবে সম্ভব? এটা বোঝায় প্রশাসনের ব্যর্থতা কিংবা মদত।’

 

“প্রশাসনকে মাসোহারা দিয়ে এসব অবৈধ সমিলগুলো নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে এমন অভিযোগও রয়েছে।”

 

Manual1 Ad Code

পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব বনাঞ্চলের এই লাগাতার উজাড়ে নবীগঞ্জ ও বাহুবলে দেখা দিচ্ছে পরিবেশগত বিপর্যয়ের লক্ষণ। দিন দিন কমে যাচ্ছে গাছপালা, বাড়ছে উষ্ণতা এবং হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র। মাটি হচ্ছে অনুর্বর, হুমকিতে পড়ছে কৃষি জমির ফসল।

 

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে যেসব অবৈধ করাত কল রয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, নবীগঞ্জের দেবপাড়া ইউনিয়নের আনগাঁও এলাকায় তিনটি, গজনাইপুর ইউনিয়নে দেওপাড়া, জনতার বাজার, সাতাইহাল এলাকায় তিনটি, কুড়াগাঁও আমিন উদ্দিন একটি, পানিউমদা বড়াগাঁও এলাকার সাবেক সেনা সদস্য লুৎফুর রহমানের একটি, পানিউমদা বাজারে আজিজ সমিল, বড়চর এলাকায় ইমাম চাবাগানের প্রবেশ মুখে শাহ জাহেদ আলীর একটি, শামসুল হকের একটি, ডুবারাই বাজারে নানু মিয়ার একটি, রোকনপুর গ্রামের আমির হোসেনের একটি, রড়চর শাহ নেয়াজ মিয়ার একটি, পুটিজুরির চেয়ারম্যান মুদ্দতের একটি, রিসোর্ট দি প্যালেলের সামনে ভিআইপি এলাকার সিরাজ মিয়ার একটি, গাংদার বাজার সংকর বাবুর একটি, ডুবাই বাজার সুহেল মিয়ার একটি, আজিজুল মেম্বারে ২টি করাত কল বা সমিল রয়েছে। এছাড়াও আরও অনেক সমিল রয়েছে।

 

এসব করাত কলের সামনে কোন সাইন বোর্ড লাগানো নেই। শুধু মাত্র পানিউমদা বড়াগাঁও এলাকার সাবেক সেনা সদস্য লুৎফুর রহমানের করাত কলের মধ্যে একটি সাইনবোর্ড রয়েছে তার নাম ও মোবাইল নাম্বার। তবে তিনি সাংবাদিকদের কাছে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

 

এদিকে তথ্য নিয়ে জানা গেছে, তিনটি বৈধ করাত কলের মালিক হলেন- বিএনপির নেতা মুখলেছুর রহমান, বাহুবল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আকাদ্দছ মিয়া বাবুল ও মীরপুরে আব্দুল আলী।

 

এ বিষয়ে বিএনপির নেতা মুখলেছুর রহমান বলেন, আমরা বৈধতা নিয়ে করাত কলগুলো চালু করলেও গণহারে বন বিভাগের সাথে সন্ধি করে অবৈধ করাত কলগুলো চলছে, এটা আসলেই দুঃখজনক।

 

এ বিষয়ে বাহুবলের ডুবারাই বাজারে সমিল মালিক নানু মিয়া ও রুহুল আমিন বলেন, আমরা নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে সমিল পরিচালনা করছি। তাই প্রশাসন আমাদেরকে কোন ডিস্টার্ব (বিরক্ত) করে না। বন বিভাগের শায়েস্থাগঞ্জ অফিসের রেঞ্জার তোফায়েল স্যার সব সময় আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন।

 

করাত কল মালিক শামসুল হক বলেন, আমরা ২০০৮ সাল থেকে লাইসেন্স আনার চেষ্টা করেছি কিন্তু সরকার দিচ্ছে না। আমরা হাইকোর্টের রিট নিয়ে সমিল পরিচালনা করছি।

 

Manual6 Ad Code

সমিলে আসা আতাউর রহমান খান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কোন সমিলের কাগজ পত্র নেই। সবগুলো মাসোহারা দিয়ে চলছে, এটা লিখে কোন কাজ হবে না ভাই!’

 

এ ব্যাপারে বন বিভাগের শায়েস্থাগঞ্জের রেঞ্জার তোফায়েল চৌধুরী সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

 

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগের সাপ্তাহে এসব করাত কলগুলো উচ্ছেদ করি। নতুন সরকার আসার পরে আবারও এসব করাত কল চালু করা হয়েছে।

 

২০০৮ সাল থেকে লাইসেন্স বন্ধ প্রসঙ্গে বলেন, এটা সরকার বন্ধ করলেও করাত কল মালিকরা একটি নতুন আবেদন করে হাইকোর্টে গিয়ে রিট করে আসেন। এই জন্য আমরা উচ্ছেদ করতে পারি না।

 

বন বিভাগের শায়েস্থাগঞ্জের রেঞ্জার তোফায়েল চৌধুরীর মাসোহারা নেওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, এই বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আমরা যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

(সুরমামেইল/এমএএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code