সিলেটে চাহিদার অর্ধেক তেলও পাচ্ছে না পাম্পগুলো

প্রকাশিত: ৭:৪৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

সিলেটে চাহিদার অর্ধেক তেলও পাচ্ছে না পাম্পগুলো

Manual3 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
সিলেটে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার অর্ধেক তেল পাচ্ছেন না পাম্প মালিকরা। এতে করে পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের নিয়ম-নীতি ও অব্যস্থাপনার কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাম্প মালিকরা।

 

তাদের দাবি-সিলেটে সরকারি ৩টি ডিপোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত থাকার পরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভূল নীতির কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

Manual1 Ad Code

 

দেশের অন্যান্য স্থানে যখন জ্বালানি তেলের জন্য পাম্পগুলোতে ছিলো দীর্ঘ লাইন। ঠিক তখন সিলেট ছিলো ব্যতিক্রম। কিন্তু গত দুই-তিনদিন থেকে সিলেটেও দেখা যাচ্ছে একইচিত্র। জ্বালানি তেলের জন্য পাম্পগুলোতে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন, তার কারণ হিসেবে বিপিসি‘কে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।

 

এমন অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের দিকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেন সিলেট বিভাগ পেট্রোল পাম্প অ্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সরকারি ৩টি ডিপোর ডিএম, এডিএমরা।

 

বৈঠক শেষে সিলেট বিভাগ পেট্রোল পাম্প অ্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রিয়াসদ আজিম আদনান সাংবাদিকদের জানান, গত দু‘দিন আগে বিপিসি নতুন একটি নিয়ম চালু করেছে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী পাম্পগুলো নিয়মিত যে পরিমাণ তেল উত্তোলন করে তার দ্বিগুণের বেশি বিক্রি করতে পারবে না। এতে করে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখিন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই আশঙ্কা থেকে ব্যবসায়ীরা তেল উত্তোলন করতে না পারায় পাম্পগুলো তেলশুন্য হয়ে পড়েছে।

 

তিনি জানান, সিলেটে জ্বালানি তেল থাকা সত্বেও আমরা গ্রাহককে তেল দিতে পারছি না, এর চেয়ে কষ্টের কী হতে পারে। জ্বালানি সংশ্লিষ্টদের অব্যস্থাপনার কারণে এই সংকট সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

সিলেট বিভাগ পেট্রোল পাম্প অ্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানান, সিলেটের মানুষ যাতে পর্যাপ্ত জ্বালানি পান, যাতে কৃত্রিম সংকটে পরতে না হয়, এজন্য আজ (বৃহস্পতিবার) সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেছি। এই বৈঠকে সিলেটের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ সরকারি ৩টি ডিপোর ডিএম, এডিএম‘রা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক আমাদের আশ্বস্থ করেছেন সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে এই সমস্যার সমাধান করবেন।

 

সিলেট বিভাগ পেট্রোল পাম্প অ্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের চার জেলায় ১১৪টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে ৪৫টিসহ জেলায় মোট ৭০টি পাম্প রয়েছে। এসব পাম্পে প্রতিদিন পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের প্রায় ১১ লাখ লিটার জ্বালানির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৮ লাখের উপরে চাহিদা ডিজেলের। বাকি আড়াই লাখ হচ্ছে পেট্রোল ও অকটনের। চাহিদার বিপরিতে অর্ধেক জ্বালানি পাচ্ছেন তারা। তারপরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখছেন। বর্তমান সংকটে কোনো অভিযোগ উঠছে না। শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভুল নীতির কারণে ধীরে এই সংকট ঘনিভূত হচ্ছে।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, সিলেটের ডিপোগুলোতে জ্বালানি তেলের কোন সংকট নেই। তবে সরকারের দেয়া রেশনিং পদ্ধতির কারণে ডিপোগুলো পাম্পগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে পারছে না। ব্যবসায়ীদের দাবী রেশনিং পদ্ধতি তোলে নিলে সিলেটে কোন সংকট থাকবে না।

Manual7 Ad Code

 

Manual5 Ad Code

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের। অথচ সিলেটের অনেক পাম্পে ডিজেল থাকলেও টান পড়ে যায় অকটেন ও পেট্রোলের। ডিজেল বাংলাদেশ প্রায় পুরোটাই আমদানি করে।

 

অন্যদিকে, সিলেটের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ৬০০ ব্যারেল অকটেন, সাড়ে ৩ হাজার ব্যারেল পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল কেরোসিন এবং ডিজেল উৎপাদন হচ্ছে।

 

Manual7 Ad Code

এমতাবস্ততায়, দেশে তেলের মজুদ এবং উৎপাদন সক্ষমতা মিলিয়ে পেট্রোল অকটেনের এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। কারণ দেশে পেট্রোল ও অকটেনের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে। তারপরও সংকটের দোহাই দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবী ব্যবসায়ীদের।

 

ব্যবসায়ীদের দাবী, রেশনিংয়ের কারণে সিলেটের ডিপোগুলো থেকে সংশ্লিষ্টরা চাহিদা মতো তেল সরবরাহ করতে পারছে না। একই কথা বলছেন ডিপো সংশ্লিষ্টরা।

 

সিলেটের যমুনা অয়েল লিমিটের সেলস্ অফিসার বেনজির আহমদ জানান, ডিপোতে তেল থাকলেও সরকার নির্ধারিত রেশনিংয়ের বাইরে তেল দেওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code