সিলেটে ‘স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’ অনুষ্ঠিত, জাতীয় পর্বে যাচ্ছে ৩ উদ্ভাবন

প্রকাশিত: ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

সিলেটে ‘স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’ অনুষ্ঠিত, জাতীয় পর্বে যাচ্ছে ৩ উদ্ভাবন

Manual4 Ad Code

প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা তাঁদের উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীন উপস্থাপন করেন।


মেইল ডেস্ক:
কারিগরি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী দক্ষতা তুলে ধরতে আয়োজিত ‘স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’-এর সিলেট আঞ্চলিক পর্ব শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সিলেট অঞ্চলের ১৪টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৪২টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করেন।

Manual8 Ad Code

 

Manual8 Ad Code

এসব প্রকল্পের মধ্য থেকে সেরা তিনটি উদ্ভাবন ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পর্বে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচিত প্রকল্পগুলো হলো- সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ‘স্মার্ট হোম ইকো সিস্টেম’, মৌলভীবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ‘ফেস ডিটেক্টর’ এবং হবিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘স্মোক অ্যান্ড ফিউম কন্ট্রোলিং ওয়েল্ডিং হেলমেট’।

 

কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ এবং তাঁদের নতুন নতুন উদ্ভাবন ও আবিষ্কার সবার সামনে তুলে ধরার অনন্য এ প্রতিযোগিতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসাশিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন Accelerating and Strengthening Skills for Economic Transformation (ASSET) প্রকল্প আয়োজন করে।

 

দিনব্যাপী আয়োজিত স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনের অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মো. দাউদ মিয়া এনডিসি, সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসাশিক্ষা বিভাগ।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী। স্বাগত বক্তব্য দেন সামসুর রহমান খান, প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), অ্যাসেট (ASSET) প্রকল্প। অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ রিহান উদ্দিন, অধ্যক্ষ, সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। এ ছাড়া প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাসেট প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রবীন্দ্রনাথ মাহাত।

 

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে দক্ষ কর্মীর প্রচুর চাহিদা আছে। আমাদের তত কর্মী নাই। বিশ্ব শ্রমবাজারে আমরা কর্মীর জোগান দিতে পারছি না। যে সকল কর্মী আমাদের আছে, তাদের দক্ষতা নাই।’ তিনি কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আরও বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষা নিয়ে আজ আর তেমন লাভ হচ্ছে না। কারিগরি শিক্ষা নিতে হবে। আমাদের দক্ষ হতে হবে।’

 

Manual4 Ad Code

স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনের সাফল্য কামনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নতুন নতুন উদ্ভাবনে পারদর্শী হতে হবে। নিজ নিজ অঞ্চলের বৈজ্ঞানিক সমস্যা নিজেদেরই সমাধান করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এ জন্য কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’ তিনি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সে লক্ষ্য পূরণে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

Manual8 Ad Code

 

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় কারিগরি ও মাদ্রাসাশিক্ষা বিভাগের সচিব বলেন, কারিগরি শিক্ষা এখন আর কোনো বিকল্প ধারা নয়। এ শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ‘একটাই লক্ষ্য, হতে হবে দক্ষ’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য রালি, কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাবিষয়ক একটি সেমিনার এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এবং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এ প্রতিযোগিতায় কারিগরি ও মাদ্রাসাশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং সিলেট বিভাগ ও জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি এই অঞ্চলের কারিগরি, মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, শিল্পকারখানা, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, অভিভাবকসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশ নেন।

 

এর আগে স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনের প্রাতিষ্ঠানিক পর্ব গত ২৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী ২১১টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩ হাজার ২০৯টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করেন।

 

এভাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্য থেকে তিনটি করে প্রকল্প আঞ্চলিক পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বাছাই করা হয়। আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা শেষে স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনের জাতীয় পর্ব আগামী মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এবং আটটি অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা থেকে নির্বাচিত প্রায় ৫০টি উদ্ভাবনী প্রকল্প এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। চূড়ান্ত বা জাতীয় পর্বে বিজয়ী তিনটি উদ্ভাবনী প্রকল্পের উদ্ভাবকদের দেওয়া হবে আকর্ষণীয় পুরস্কার।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code