পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৬:১৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০২৬

পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ

Manual8 Ad Code

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু


মেইল ডেস্ক:
দেশের ইতিহাসের এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা হলো। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে রিঅ্যাক্টর ফুয়েল বা পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করল।

 

Manual3 Ad Code

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে তিনটায় রূপপুর প্রকল্প এলাকায় এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা শেষে আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। শুরুর দিকে প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হবে। পরবর্তী ৮ থেকে ১০ মাসের মধ্যে এই ইউনিট থেকে পূর্ণ ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সম্ভব হবে।

 

Manual4 Ad Code

উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এই কাজ সম্পন্ন করেছি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আমাদের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। এটি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনই করবে না, বরং আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও শিল্পায়নকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’

Manual4 Ad Code

 

মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবময় দিন। এই অর্জন আমাদের জাতীয় সক্ষমতার বাস্তব প্রতিফলন।’

 

অনুষ্ঠানে রোসাটমের মহাপরিচালক এলক্সি লিখাচভ উপস্থিত ছিলেন এবং আইএইএ (IAEA) প্রধান রাফায়েল গ্রসি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অভিনন্দন জানান।

Manual5 Ad Code

 

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করে। কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে ৫২ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ লাইসেন্স অর্জন করেছেন, যারা রাশিয়ার অপারেটরদের সঙ্গে মিলে এটি পরিচালনা করবেন।

 

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এখানে দুটি ‘ভিভিইআর-১২০০’ রিয়্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এখান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করবে।

 

(সুরমামেইল/এমকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code