সিলেট ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:২৮ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০২৬
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
জেলায় টানা বৃষ্টিপাত কমলেও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে সুতাং, খোয়াই, কুশিয়ারা, কালনী, ধল ও করাঙ্গী নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে খোয়াাই ও কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমলেও সুতাং নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এদিকে বিগত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও আগাম বন্যায় হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। জেলার বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই ও নবীগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে তলিয়ে গেছে বোরো ধান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে। এতে হবিগঞ্জ জেলায় ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪৩ কোটি টাকা।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়েদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ৯টা থেকে বুধবার (৬ মে) সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় বৃষ্টিপাত কম হলেও উজানের পানির প্রবাহে সুতাং নদীর পানি বেড়ে চলেছে৷ সুতাং নদীর শায়েস্তাগঞ্জ ও লাখাই অংশে বর্তমানে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে৷
খোয়াই ও কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমে স্থিতিশীল অবস্থায় আছে৷ কুশিয়ারা নদীর মার্কুলী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০৩ সেন্টিমিটার ও নবীগঞ্জের শেরপুরে বিপৎসীমার ১৭৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে৷ একইসঙ্গে খোয়াই নদীর চুনারুঘাটের বাল্লা সীমান্তের পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে তিনি জানান৷
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এই মুহূর্তে উজানে বৃষ্টিপাত কম থাকায় হবিগঞ্জের নদ নদীর পানি আর না বাড়ার সম্ভাবনা বেশি৷ আগামী এক সপ্তাহ বিপদমুক্ত আছি আমরা৷ তবে বৃষ্টিপাত বাড়লে সুতাং, খোয়াই, কশিয়ারা ও কালনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে৷
তিনি বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে। যদি বৃষ্টিপাত আরও বৃদ্ধি পায় এবং উজানের ঢল অব্যাহত থাকে, তাহলে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। অপরদিকে জেলার বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই ও নবীগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে৷ এতে বেশিরভাগ বোরো ধানের জমিই তলিয়ে গেছে৷ এমনকি ধান শুকানোর বেশিরভাগ খলাও তলিয়ে গেছে পানির নিচে। মাঠভর্তি সোনালি ধান কাটা শেষ হওয়ার আগেই পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
এদিকে, গত ৩ মে থেকে জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্যে ধান চাল কেনার কার্যক্রম শুরু করলেও বাস্তবে তা এগোচ্ছে ধীরগতিতে।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকার শুধুমাত্র শুকনো ধান ক্রয় করছে। কিন্তু বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তারা ধান শুকাতে পারছেন না। ফলে সরকারি এই উদ্যোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জ্যেতিবিকাশ ত্রিপুরা বলেন, চলতি মৌসুমে ৯টি উপজেলায় একযোগে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কেবল বানিয়াচং উপজেলায় সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ৮ হাজার ৯০ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে৷
প্রতি কেজি ধানের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৬ টাকা, যা প্রতি মণে ১ হাজার ৪৪০ টাকা হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে৷ নীতিমালা অনুযায়ী একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ টন করে ধান সরবরাহ করতে পারবেন। সরকারের এ কর্মসূচির মাধ্যমে হবিগঞ্জের হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে তাদের উৎপাদিত ধান বিক্রির সুযোগ পাবেন৷
তিনি আরও জানান, জেলার ৫৮টি রাইস মিল থেকে চলতি বোরো মৌসুমে মোট ১৭ হাজার ২২০ টন চাল সংগ্রহ করা হবে। এরমধ্যে ১০ হাজার ২৪ টন সেদ্ধ চাল এবং ৭ হাজার ১৭৮ টন আতপ চাল রয়েছে৷ সেদ্ধ চাল প্রতি কেজি ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল প্রতি কেজি ৪৮ টাকা দরে ক্রয় করা হবে। গত ৩ মে থেকে শুরু হওয়া এ সংগ্রহ কার্যক্রম আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ দীপক কুমার পাল বলেন, হবিগঞ্জ জেলার হাওরগুলোতে চলতি মৌসুমে আগাম বন্যার জলাবদ্ধতায় ২০৯ কোটি টাকার ধানের ক্ষতি হয়েছে৷ একইসঙ্গে টানা বর্ষণের ফলে কাটা ধান রোদে শুকাতে না পারায় আরও ১৩৪ কোটি টাকার বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে৷ সবমিলিয়ে এবার জেলায় ৩৪৩ কোটি টাকার ধানের ক্ষতি হয়েছে৷
তিনি বলেন, জেলায় ২১ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার৷
(সুরমামেইল/এমএকে)
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি