একটি ফোন কলে লিবিয়ায় আটক রায়হানের পরিবারে কান্নার রোল

প্রকাশিত: ৯:৫৮ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২৬

একটি ফোন কলে লিবিয়ায় আটক রায়হানের পরিবারে কান্নার রোল

Manual1 Ad Code

লালবৃত্তে লিবিয়ায় আটক রায়হান, ডানে রায়হান ফাইল ছবি ও ইনসেটে বাড়ির বাড়ান্দায় বসে কান্না করছেন পিতা।


নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
একটি ফোন কলে এখন লিবিয়ায় আটক ও পরে নিখোঁজ রায়হানের বাড়িতে পরিবারে কান্নার রোল। তারা বলছে- এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করার জন্য। শামীমের বাবা নজরুলের জামিনে বাঁধা না দিতে। অন্যতায় “রায়হানকে হত্যা করে লাশ সাগরে ভাসিয়ে দিবো।”

 

সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় লিবিয়ায় আটক রায়হান চৌধুরীর বাবা আবু তাহের চৌধুরীকে ফোন করেন মানবপাচার চক্রের সদস্য শামীম ও রাকিব। তারা বলেন, ‘তোমার পুত্রকে পেতে চাইলে আগামী ১১ মে মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি নজরুল ইসলামের জামিন শুনানি হবে হবিগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদালতে। ওই শুনানিতে বাধা প্রদান না করতে তাকে বলা হয়েছে।’

সোমবার সকালে হবিগঞ্জ জেলা জজ আদালত থেকে প্রধান প্রশানিক কর্মকর্তা মামলার বাদী আবু তাহের চৌধুরীকে জামিন শুনানিতে থাকার জন্য চিঠি প্রেরণ করা হয়।

 

Manual3 Ad Code

চিঠিতে বলা হয়েছে- আসামির জামিনে যেতে তার কোন আপত্তি থাকলে আদালতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদান করার জন্য। এই চিঠি পাওয়ার পরেই ফোন কল আসে সোমবার সন্ধ্যায়। ফোন কলে অপারের কথা শুনার পরপরই পরিবারে কান্নার রোল পড়ে যায়।

Manual1 Ad Code

 

নবীগঞ্জের যুবক রায়হান চৌধুরীকে (৩০) ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় আটকে রেখে ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপন আদায়ের পরও ছেড়ে দেওয়া হয়নি, বরং আবারও ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেয়ার জন্য মারপিট করে হাতের আঙ্গুল কেটে দেওয়ার পর হাতের কবজি কেটে ফেলার হুমকি প্রদান করা হয়েছে। নির্যাতনের পর গত দুইমাস ধরে সে নিখোঁজ রয়েছে। এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। ঐ দালাল চক্রের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন এমন অভিযোগও ভুক্তভোগি পরিবারটির।

 

রোববার (৩ মে) মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি গোপনে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

 

এ বিষয়ে মামলার বাদী আবু তাহের চৌধুরী বলেন, আমি মামলা করে বিপাকে পড়েছি। এখন আমার ছেলের কোন সন্ধান পাচ্ছি না। সোমবার আদালতের চিঠি পাওয়ার পরই দালাল ও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা ফোন করে আমি বাড়াবাড়ি না করতে বলেছে।

 

তারা বলছে- এনিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করার জন্য। শামীমের বাবা নজরুলের জামিনে বাঁধা না দিতে। অন্যতায় “রায়হানকে তাকে হত্যা করে লাশ সাগরে ভাসিয়ে দিবো।”

 

তারা বলেন, তোমার পুত্রকে পেতে চাইলে আগামী ১১ মে মানব পাচার মামলার প্রধান আসামি নজরুল ইসলামের জামিন শুনানি হবে হবিগঞ্জ চীফ জুটিশিয়াল আদালতে। ঐ জামিন শুনানিতে বাধা প্রদান না করতে বলেছে। এখন দুই মাস ধরে সে নিখোঁজ রয়েছে। আমাকে মামলা তোলার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।



তিনি আরও বলেন, রোববার জাতীয় দৈনিক সমকাল ও অনলাইণ নিউজ পোর্টাল সুরমামেইল.কমসহ দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় রায়হানের নিউজ প্রকাশের পর দালাল রাকিব ও শামীম আবারও ফোন করেছে। বলছে- এসব বিষয়ে মিডিয়ায় কেন প্রচার করলাম, পরিণাম ভালো হবে না বলে হুমকি দিয়েছে।

 

এদিকে মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গঠিত ‘মানবপাচার মনিটরিং সেল’ থেকে সোমবার ফোন কল করেন এসপি কাওসার আহমদ। বিষয়টি নিয়ে তিনি মামলার বাদী আবু তাহের চৌধুরীর সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

Manual2 Ad Code

 

তিনি জানান, আমরা এখনও মামলার নথিপত্র পাইনি। তবে, আমরা অবগত আছি- এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপও শুরু করা হয়েছে। আসামিরা যাতে দেশের বাহিরে পালিয়ে না যায় এবং যারা বিদেশে দালালদের হেফাজতে রয়েছে তাদের ব্যাপারেও কাজ করছি।

 

(সুরমামেইল/এমএএ)

Manual2 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code