কানাইঘাটে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় চোরাচালান ও মাদক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা

প্রকাশিত: ১০:০৩ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২৬

কানাইঘাটে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় চোরাচালান ও মাদক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা

Manual6 Ad Code

কানাইঘাট প্রতিনিধি:
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় চোরাচালান ও মাদক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় উপজেলা সভা কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

Manual7 Ad Code

কমিটির সভাপতি নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান শাকিলের সভাপতিত্বে সভায় কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী সুরইঘাট ও বড়বন্দ এলাকায় সম্প্রতি সময়ে ব্যাপকহারে চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে বলেন, চোরাকারবারীরা দিন-রাতে ভারত থেকে অবৈধভাবে চিনি, জিরা, চা-পাতা, কসমেটিক্স, কাপড়, নাসির বিড়ি, মাদকদ্রব্য ইত্যাদি নিয়ে আসছে। এতে করে বিজিবির ভ‚মিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। প্রকাশ্যে চোরাচালান হলেও বিজিবি চোরাই পণ্য আটক করলেও থানায় চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন না, যার কারনে চোরাকারবারীরা সীমান্ত এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত সীমান্ত এলাকার প্রধান রাস্তাগুলোতে চেকপোস্ট বসানো, টাক্সফোর্সের অভিযান জোরদার এবং নিয়মিত মামলা দায়ের সহ বিজিবিকে আরো সক্রীয় হওয়ার জন্য সভায় বলা হয়।

 

নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান শাকিল বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কোন কথা শুনা হবে না। যে জনবল রয়েছে তা দিয়ে চোরাচালান প্রতিরোধ করতে হবে, আগে চোরাচালান প্রতিরোধ করা হলে এখন কেন সম্ভব নয় বিষয়টি তিনি বিজিবির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে উল্লেখ করে সুরইঘাট বিজিবি ক্যাম্প অন্যান্য ক্যাম্পের কর্মকর্তাদের বলেন, চোরাচালানের মালামাল ধরার পর অবশ্যই থানায় চোরাকারবারীদের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে হবে।

 

চোরাচালান প্রতিরোধে সমন্বিত টাক্সফোর্সের অভিযান আরো জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান। তাছাড়া নির্বাহী কর্মকর্তা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ সহ গরুর বাজারে নিরাপত্তা জোরদার, নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে থানা-পুলিশ ও বিজিবিকে আরো নজরদারী জোরদারে নির্দেশনা প্রদান করেন।

 

থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশের চোরাচালান ও মাদক-বিরোধী অভিযান নিয়মিত রয়েছে এবং চোরাচালানী পণ্য ইয়াবা, মাদক উদ্ধারে পুলিশ অনেকটা সফল হয়েছে এবং চোরাচালান অপরাধ দমনে পুলিশের সার্বক্ষণিক চেকপোস্টও রয়েছে। বিজিবি চোরাচালান পণ্য আটক করলেও অনেক ক্ষেত্রে থানায় চোরাকারবারীদের মামলা দিচ্ছে না। এক্ষেত্রে নিয়মিত বিজিবি মামলা দিলে চোরাচালান অনেকটা কমে আসবে বলে জানান।

 

তিনি মাদকের আগ্রাসন প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেন।

 

Manual4 Ad Code

সুরইঘাট বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার জাফর আলী সুরইঘাট ও বড়বন্দ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ করতে বিজিবি হিমশিম খাচ্ছে স্বীকার করে বলেন, সম্প্রতি কয়েকদিন থেকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি’র সদস্যের সংখ্যা বাড়ানো সহ ২৪ ঘন্টা টহল জোরদার করা হয়েছে।

 

চোরাচালান প্রতিরোধে কেউ সেভাবে সহযোগিতা করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি ক্যাম্পে যোগদান করার পর ২৭ দিনে ৯১ লক্ষ টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্য আটক করেছেন।

Manual6 Ad Code

 

সভায় ব্যাপকহারে উপজেলায় মাদকের আগ্রাসন বেড়ে যাওয়ায় প্রতিটি ইউনিয়নে মাদক-ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকা করে তাদেরকে গ্রেফতার এবং মাদক-বিরোধী সচেতনতা বাড়ানোর জন্য থানা পুলিশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া লোভাছড়া পাথর কোয়ারী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে এবং পাথর পরিবহনের কারনে রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থার কথা তুলে ধরা হয়।

Manual3 Ad Code

 

সভায় বক্তব্য রাখেন, দিঘীরপাড় পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী, সাতবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান আবু তায়্যিব শামীম, বড়চতুল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক চৌধুরী, সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আফসার উদ্দিন চৌধুরী, দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ, কানাইঘাট প্রেস-ক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন।

 

(সুরমামেইল/এমআর)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code