এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণে একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২৬

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণে একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের মুরারি চাঁদ (এমসি) কলেজে ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

Manual3 Ad Code

 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

 

ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি-পিপি আবুল হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

Manual7 Ad Code

 

মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে মামলার মূল আসামি সাইফুর রহমানকে (২৮)। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে- মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), অর্জুন লস্করকে (২৬)।

Manual5 Ad Code

 

পাশাপাশি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তিনজনকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানান পিপি আবুল হোসেন।

 

এছাড়া পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে, রবিউল ইসলাম (২৫), মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল (২৬) এবং মিজবাউল ইসলাম রাজনকে (২৭)।

 

মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামীর সঙ্গে সিলেটের এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। তাকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে ধর্ষণ করেন কয়েকজন।

 

পরদিন সকালে গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।

 

ঘটনাটি দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। প্রতিবাদে সরব হয় বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও অধিকার সংগঠন। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র‌্যাব।

 

মামলার নথি থেকে আরও জানা গেছে, ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তারা। প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি এবং অর্জুন লস্কর ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন।

 

এছাড়া রবিউল ও মাহফুজুর ধর্ষণে সহায়তার কথা স্বীকার করেন। সন্দেহভাজন দুই আসামিও জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।

 

ঘটনার মাত্র দুই মাস আট দিন পর ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর আটজনের বিরুদ্ধে ১৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

 

পরে মামলাটি নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে গত বছরের মে মাসে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

 

মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক, ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন।

 

এছাড়া ঘটনার রাতে ছাত্রাবাসে সাইফুর রহমানের কক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আলাদা মামলা করা হয়। পরে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনিকে ওই মামলায় আসামি করা হয়।

 

আর ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর কাছে চাঁদা দাবি ও গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করে।

 

২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ গঠন করে আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দেয় সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। পরে দুটি মামলার বিচারকাজ একই আদালতে করার নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করে বাদীপক্ষ।

 

Manual2 Ad Code

এদিকে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামি পক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষ্য দেয়নি। ভিকটিমও আসামিদের শনাক্ত করেননি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code