বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম

প্রকাশিত: ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম

Manual7 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, সফল কূটনৈতিক আলোচনার পর বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ এবং মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার।

Manual1 Ad Code

 

বুধবার (২৯ জুলাই) দেশটির নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের সিমপাং ডুরিয়ান এলাকায় স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই তথ্য জানান।

 

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “লোকেরা বলে ওদের (রোহিঙ্গা) ফেরত পাঠাও, ওদের ফেরত পাঠাও। কোথায় ফেরত পাঠাব? এতদিন মিয়ানমার তো ওদের নিতে চায়নি। তবে বর্তমান সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও আলোচনার কারণে এখন তারা প্রথমে মালয়েশিয়ায় থাকা ৫ হাজার জনকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে।”

এসময় মালয়েশিয় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে থাকা প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতেও সম্মত হয়েছে মিয়ানমার সরকার’। তবে মিয়ানমার এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঠিক কবে থেকে শুরু করবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি তিনি।

 

মিয়ানমারের এই সিদ্ধান্তকে রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা সমাধানের দিকে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ উল্লেখ করে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খুঁজে বের করতে মালয়েশিয়া সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে, যা এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে’।

 

Manual8 Ad Code

মূলত, গত সোমবার কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ের বাইরে থেকে সাহায্যের জন্য জড়ো হওয়া শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটকের প্রসঙ্গে টেনে এই তথ্য জানালেন মালয়েশিয় প্রধানমন্ত্রী।

 

Manual1 Ad Code

মালয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানিয়েছে, সম্প্রতি পেনাং রাজ্যের কুয়ালা মুদার একটি বসতি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার অভিযোগে শতাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী কুয়ালালামপুরের জালান বুকিতে অবস্থিত ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হন। এসময় ১১৩ জনকে আটক করে দেশটির পুলিশ।

 

কুয়ালালামপুর পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত শরণার্থীদের সবার কাছেই ইউএনএইচসিআর-এর বৈধ কাগজপত্র ছিল। একদিন পুলিশ সদর দপ্তরে অস্থায়ীভাবে আটক রাখার পর গতকাল তাদের তিনটি রাজ্যের জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর নির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থায় নিবন্ধিত ২ লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি শরণার্থী এবং আশ্রয়প্রার্থী বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে মিয়ানমারের নির্যাতিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি সদস্য রয়েছে; যা বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রায়ই দেশটিতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠছে।

 

এ পরিস্থিতিতি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশটির আইন মেনে চলতে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে সম্মান করার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, ‘আমি রোহিঙ্গাদের বলেছি, ঠিকমতো আচরণ করুন। আমরা তাদের থাকার জায়গা দিতে প্রস্তুত। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটাবেন না, যান চলাচলে এবং তাদের বাসস্থানে বিঘ্ন ঘটাবেন না, নইলে মানুষ ক্ষুব্ধ হবে এবং দেশের আইন অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে’।

 

(সুরমামেইল/এমকে)

Manual2 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code