নিজ জেলায় আবেগাপ্লুত রাষ্ট্রপতি বললেন, ‘আমি তোমাদেরই লোক’

প্রকাশিত: ১১:৫৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬

নিজ জেলায় আবেগাপ্লুত রাষ্ট্রপতি বললেন, ‘আমি তোমাদেরই লোক’

Manual3 Ad Code

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
নিজ জেলার মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা, উচ্ছ্বাস ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নাগরিক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁকে এই সম্মাননা জানানো হয়।

 

সংবর্ধনার মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি। উপস্থিত লাখো জনতার উদ্দেশে তিনি বিশ্বকবির ভাষায় উচ্চারণ করেন- “মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।”

 

এই একটি বাক্যেই যেন প্রকাশ পায় নিজের জন্মভূমি ও জেলার মানুষের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও আত্মিক সম্পর্ক।

 

নিজ জেলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আপনারা আমাকে যা দিয়েছেন, তার ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না। তবে আপনাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করতে চাই- আল্লাহ যেন আমাকে তৌফিক দান করেন, আমি যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে পারি।”

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী যেসব উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার বাস্তবায়ন এখন দৃশ্যমান। ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু ও কৃষিভিত্তিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠার কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

 

এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলার পাঁচটি উপজেলা এবং আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হন। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে নিজ জেলার সন্তানকে একনজর দেখতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। পুরো শহরজুড়ে বিরাজ করে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

 

Manual7 Ad Code

ঠাকুরগাঁও নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির বলেন, আমাদের ঘরের সন্তান দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েছেন- এটি ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই গৌরবের সাক্ষী হতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।

Manual7 Ad Code

 

এরআগে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার দুপুর ১টার দিকে তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টার ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন এবং পরে শহরের সেনুয়া এলাকায় বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন।

 

রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে পুরো জেলায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। শহরের বিভিন্ন সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রবেশপথ বর্ণিল তোরণ, আলোকসজ্জা, ব্যানার ও ফেস্টুনে সজ্জিত করা হয়।

Manual7 Ad Code

 

দুই দিনের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। এদিন তিনি শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে জামালপুর এলাকায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

 

রাষ্ট্রপতির আগমন ও যাতায়াতের পথজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। অনুষ্ঠানস্থল ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয়।

 

নিজ জেলার সন্তানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাছে পেয়ে ঠাকুরগাঁওবাসীর হৃদয়ে সৃষ্টি হয়েছে গর্ব, আনন্দ ও আবেগের এক অনন্য আবহ। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকল এই দিন, উৎসবের শহরে পরিণত হলো প্রিয় ঠাকুরগাঁও।

 

নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান, রাষ্ট্রপতির বাল্যবন্ধু প্রফেসর মনতোষ কুমার দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন প্রধান প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইএসডিও’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ-জামান।

Manual8 Ad Code

 

(সুরমামেইল/এমআই)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code