যে ১০ কারণে মানুষ কখনো অসুস্থ হন না

প্রকাশিত: ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৪, ২০১৬

যে ১০ কারণে মানুষ কখনো অসুস্থ হন না

Manual7 Ad Code

healthh_35168

স্বাস্থ্য ডেস্ক : সুস্থতাই সকল সুখের মূল, সুস্থ দেহ মানে সুস্থ মন এই কথাগুলো আমরা সকলেই জানি। প্রতিটি মানুষই তার জীবনে কম বেশি অসুস্থ হয়ে থাকেন নানা কারণে। আবার কিছু কিছু মানুষ তার পুরো জীবনে কবে কখন অসুস্থ হয়েছিলেন বলতেও পারবেন না।

Manual6 Ad Code

মানুষ বিশেষ করে অসুস্থ হয়ে থাকে অস্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলের জন্য। এবং অন্য দিকে কিছু কিছু মানুষ তাঁদের সুস্থ জীবন-যাপনের জন্য কখনো সামান্য জ্বরেও ভোগেন না। তাই সর্বদা সুস্থ থাকতে জেনে রাখুন ১০ টি বিষয়।
এক্সারসাইজ: আমরা সকলেই জানি সুস্থ থাকতে এক্সারসাইজ এর বিকল্প নেই। এক্সারসাইজের কারণে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং আরও অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়।
যদি আপনার এক্সারসাইজ করার সময় বা জিমে গিয়ে এক্সারসাইজ করার টাকা না থাকে তাহলে হাঁটা শুরু করুন, দৌড়ান, জগিং ভা সাইকেলিং করুন প্রতিদিন অন্তত আধঘন্টা।
বিভিন্ন গবেষণায় বের হয়েছে যে প্রিতিদিন এক্সারসাইজ করার কারণে ক্যানসার, হার্ট অ্যাটাক, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, বুদ্ধিবৈকল্য, বিষণ্ণতা ইত্যাদি সমস্যা রোধ হয়।
মানুষ কখনো অসুস্থ হন না যে ১০ কারণে
Manual6 Ad Code

তাজা ফল ও সবজি খাওয়া: সুস্থ থাকতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া বিশেষ করে তাজা ফল ও সবজি খাওয়া। বিশেষ করে নানা রঙের ফল ও সবজিতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান যা আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সবধরনের দৈহিক অসুস্থতা হতে দেহকে রক্ষা করে।
তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই বেশি করে ফল ও সবজি খান, বিশেষ করে আপেল, বাঁধাকপি, লাল ও হলুদ ক্যাপসিকাম, পালং শাক, পেঁপে, টমেটো ইত্যাদি।
সুস্থ ও সঠিক মনোভাব: সুস্থ থাকার আরেকটি গোপন তথ্য হল সুস্থ ও সঠিক মনোভাব নিজের প্রতি , জীবনের প্রতি, এবং আশেপাশে সকলের প্রতি। আমরা জীবনে বিভিন্ন সময় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকি, এই সমস্যাগুলোর সময় হতাশ না হয়ে বিষয় গুলোকে সঠিক ভাবে গ্রহণ করা, বুদ্ধি ও চিন্তাশক্তি দিয়ে সারিয়ে তুলতে পারাটাই একজন সুস্থ মানুষের কাজ।
কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় এসেছে যেসকল মানুষেরা সবসময় সুস্থ ও সঠিক মনোভাব ধারণ করেন তারা অসুস্থ কম হন।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা: আমেরিকার দি সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্য অনুযায়ী বলা হয়েছে সুস্থ থাকাতে হলে অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। প্রিতিদিন আপনার হাত ভালো সাবান হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড পরিষ্কার করুন।
এই সাধারণ অভ্যাসটি আপনাকে কঠিন ঠাণ্ডা ও ফ্লু রোগ হতে দূরে রাখবে। প্রতিদিন খুব ভালো করে নিজের দেহের প্রতিটি অঙ্গ পরিষ্কার করুন। প্রতিদিন হাতের নখ পরিষ্কার করুন কারণ সেখানে অনেক ময়লা জমে থাকে এবং আপনার ঘরদোরও সবসময় পরিষ্কার রাখুন।
সুস্থ সামাজিক জীবনযাপন করুন: গবেষণায় বলা হয়েছে যারা সমাজে সুস্থভাবে বসবাস করেন তারা অন্যান্য অসুস্থ মানুষ থেকেও দ্বিগুণ সুস্থ থাকেন ও তাঁদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব ভালো থাকে।
২০০৮ সালের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে যারা সমাজে সকলের সাথে সুস্থ ভাবে বসবাস করেন তাঁদের স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া এবং অন্যান্য জ্ঞানীয় রোগ কম হয়ে থাকে।
দেহে pH এর মাত্রা ঠিক রাখা: দেহ তখনই সুস্থ থাকে যখন শরীরের এসিডিক ও এলকালাইন সিস্টেম সঠিক ভাবে কজ করে এর মানে দেহে pH এর মাত্রা ঠিক আছে। যখন দেহে pH এর মাত্রা কমে যায় তখন acidosis নামের সমস্যা দেখা দেয় শরীরে।
এই সমস্যাটি তখনই দেখা দিয়ে থাকে যখন মাংস ও চিনি বেশি খাওয়া হয়। তাই দেহের pH মাত্রা ঠিক রাখতে ও সুস্থ থাকতে বেশি করে ফল ও সবজি খেতে হবে।
স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করা: সুখী ও সুস্থ মানুষেরা খুব সহজেই নিজের স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং সুস্থ থাকে। Duke University এর একটি গবেষণায় বলা হয়েছে স্ট্রেস দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে ও হার্টের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। আরও কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে যে স্ট্রেসের কারণে দেহে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রামন হতে পারে যার কারণে যক্ষ্মা হতে পারে।
তাই অবশ্যই নিজের স্ট্রেসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে জানতে হবে। যখনই আপ্নি স্ট্রেসে ভুগবেন তখন আধঘণ্টা হাঁটুন এর মাধ্যমে আপনি রিলেক্স হতে পারবেন। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ফল ও সবজি রাখুন, প্রতিদিন অন্তত ৭/৮ ঘণ্টা ঘুমান এবং বেশি করে হাসুন। এইসবের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই স্ট্রেসমুক্ত থাকতে পারবেন।
পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিন ও ঘুমান: পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম ও ঘুম দেহকে সুস্থ রাখে। যখন আপনি দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা ঘুমাবেন তখন আপনি নিজেই দেহের সুস্থতা অনুভব করবেন। প্রতিদিন ৬/৮ ঘণ্টা ঘুমালে এটি আপনার দেহকে নান ধরণের সমস্যা থেকে দূরে রাখে।
যেমন- স্ট্রেস কমিয়ে দেয়, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হয়, উচ্চ রক্তচাপ ও কলেস্টোরলের মাত্রা ঠিক থাকে, দেহের জ্বালা-পোড়া সমস্যা রোধ হয়, বিষণ্ণতা দূর হয়, দেহের ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখে, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
প্রচুর পানি পান করুন: সুস্থ থাকতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। দেহ পানিশুন্য থাকলে নানা ধরণের অসুখ দেখা দিতে পারে। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার ফলে দেহ হতে টক্সিন বের হয়ে যায়, দেহে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং দেহের বিভিন্ন অংশে পুষ্টি যোগায়। তাই সুস্থ থাকতে প্রতিদিন ১০/১২ গ্লাস পানি পান করতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে তাজা ফল ও সবজি খেতে হবে যেগুলোতে পানির মাত্রা বেশি থাকে।
ডায়েটে সুষম জাতীয় খাবার রাখতে হবে: সুস্থ থাকতে দেহের খাদ্যের প্রয়োজন। তাই আপনার প্রতিদিনের ডায়েটের তালিকায় সুষম জাতীয় খাবার রাখুন যা আপনাকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে।
খাদ্য তালিকায় এমন কিছু খাবার রাখুন যাতে আছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি, ভিটামিন এ, সি, প্রোটিন, কার্বহাইড্রেট, আয়রন, প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড ইত্যাদি। তাজা ফলমূল ও সবজি খান এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ খাবার হতে দূরে থাকুন।
গবেষণায় বলা হয়েছে যে রসুন, পেঁয়াজ, আদা, মধুর antimicrobial ও antiviral উপাদান আমাদের দেহকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই এই খাবারগুলোও খাদ্য তালিকায় রাখুন।
সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code