হিন্দুমতে মৃতদেহ পোড়াবার ৩ কারণ

প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০১৮

হিন্দুমতে মৃতদেহ পোড়াবার ৩ কারণ

Manual8 Ad Code

মৃতদেহ সৎকার সনাতন ধর্মে মৃতদেহ পোড়াবার তিনটি কারণ আছে।

Manual6 Ad Code

আধ্যাত্মিক কারণ : হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা পুনর্জন্মে বিশ্বাসী। এই ত্রিতাপদগ্ধ সংসারে পুনরায় জন্মগ্রহণ করে মানুষ দুঃখজ্বালা ভোগ করুক এটা কেউ চায় না। যে দেহে তিনি এতদিন বাস করেছেন, তাকে সাজিয়ে গুছিয়ে রেখেছেন, পৃথিবীর যাবতীয় সুখের স্বাদ তাকে দিয়েছেন সে দেহের প্রতি আকর্ষণও মায়া থাকা স্বাভাবিক। দেহের প্রতি আকর্ষণে পুনঃ দেহ ধারণে তার আকাঙ্ক্ষা জাগতে পারে, ঐ আকাঙ্ক্ষা দূর করার উদ্দেশেই আকর্ষণের বস্তু দেহটিকে পোড়ানো হয়।

Manual2 Ad Code

সামাজিক কারণ : আর্যঋষিদের ভবিষ্যৎ চিন্তা এতে প্রতিফলিত হয়েছে। মানুষ সৃষ্টি হবে এবং এমন একদিন আসতে পারে যখন স্থানাভাব দেখা দেবে।মানুষের দেহ না পুড়িয়ে মাটিতে পুঁতে রেখে দিলে ক্রমশ মাটিতে রাখার জায়গার অভাব দেখা দিতে পারে। এই কারণেই দেহ পোড়াবার ব্যবস্থা।

Manual6 Ad Code

বৈজ্ঞানিক কারণ : মানুষ বিভিন্ন কারণে মৃত্যুবরণ করে। এর মধ্য রোগে মৃত্যুই সর্বাধিক। এই সকল মৃতদেহে পচন ধরলে পরিবেশে বিভিন্ন রোগ জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এসব চিন্তা থেকেই আর্য ঋষিগণ শব পোড়াবার বিধি দিয়েছে।

Manual3 Ad Code

মুখাগ্নি করার কারণ : হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা বিশ্বাস করে, মানুষমৃত্যুর পর স্বর্গবাসী হয় অথ্যাৎ দেবলোকে যায়। কিন্তু, তিনি স্বর্গে বা দেবলোকে যাবেন কিভাবে? বৈদিক নিয়ম অনুসারে দেবলোকে বা স্বর্গলোকে পাঠাতে হলে দেবতাদের পুরোহিত অগ্নিতে আহুতি দিতে হয়। অগ্নিদেবই সে অর্চনা বা আহুতি দেবলোকে নিয়ে যান। তাই যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন তার প্রাণবায়ু অগ্নিদেবকে আহুতি না দিলে তিনিকি করে স্বর্গবাসী হবেন? প্রাণবায়ু মুখ দিয়ে বের হয় বলে মুখে অগ্নি সংযোগ করে মন্ত্র পাঠ করতে হয়- “ওঁ কৃত্বা তু দুষ্কৃতং কর্মং জানতা বাপ্য জানতা। মৃত্যুকাল বশং প্রাপ্যনরং পঞ্চত্বমাগতম্ ধর্মাধর্ম সমাযুক্তং লোভ মোহ সমাবৃতম্ দহেয়ং সর্বগাত্রানি দিব্যান্ লোকান্ স গচ্ছতু”।

অনুবাদ : তিনি জেনে বা না জেনে অনেক দুষ্কর্ম করে থাকতে পারেন। কালবশে মানুষ মৃত্যুবরণ করে থাকে। এ দেহ ধর্ম, অধর্ম, লোভ, মোহ প্রভিতি দ্বারা আচ্ছাদিত ছিল। হে অগ্নিদেব, আপনি তার সকল দেহ দগ্ধ করে দিব্যলোকে নিয়ে যান।

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code