সিলেট ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেবার জন্য। মুজিব কন্যা আপনি আরও কঠিন হোন। শোভন-রাব্বানী অসুস্থ নষ্ট রাজনীতির শিকার। দিনে দিনে অসুস্থ রাজনীতির কলঙ্কের পথে এরা বেপরোয়া দাম্ভিক হয়ে ভুলে গিয়েছিলো সব বাড়াবাড়ির সীমা আছে, দম্ভেরও পতন আছে, পাপেরও শাস্তি আছে। আজ তারা প্রাপ্য শাস্তি সাংগঠনিকভাবে পেয়েছে। অতীতে অনেকে যদিও পার পেয়ে গেছে। এবার ধরা খেয়েছে।
ইতিহাসের ঐতিহ্যের ছাত্রলীগের কোনো সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে এভাবে নানা কেলেংকারি, অনিয়ম, চাঁদাবাজির অভিযোগে বরখাস্ত হতে হয়নি। স্বাধীনতার পর শফিউল আলম প্রধানকে মহসিন হলের বহুল আলোচিত সেভেন মার্ডারের অভিযোগে বহিষ্কার ও কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়েছিলো।
শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এখন কি হবে এটা দেখার বিষয়। রাব্বানীর ডাকসু জিএস পদে থাকারও আর নৈতিক অধিকার নেই। অব্যাহতি দিতে হবে ডাকসুকে।
এদেরকে দল ও প্রশাসনের কারা প্রশ্রয় দিয়েছেন, কারা মদদ দিতেন, সুবিধা নিতেন তাদের মুখোশও গণমাধ্যম ও দলের হাইকমান্ডের উন্মোচন করে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
এদেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাস মহান গৌরব ও ঐতিহ্যের। অনেক গণমুখী রাজনীতিবিদ সমাজের নানা পেশার মেধাবীরা ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন। ছাত্রলীগের ইতিহাস আরো বেশি বর্ণাঢ্য বর্ণময় ঐতিহ্যের। ভাষা আন্দোলন থেকে জাতির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব আদর্শ ও লক্ষ্যে কঠিন সংগ্রামের পথে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার পথে মহান মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য অবদান তার সোনালি অতীত।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরেও কঠিন অন্ধকার সময়ে খেয়ে না খেয়ে সংগঠিত হয়ে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম আত্মদান ত্যাগ-তিতীক্ষায় সংগঠন তার পতাকা উড়িয়েছে সকল সামরিক ও স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে। সেনাশাসকদের, পুলিশের অত্যাচার জেল জুলুম নির্যাতন সয়ে আদর্শিক নেতা হিসেবে গণরাজনীতিতে অভিষেক ঘটেছে কত সহস্র নেতার।
কেউ ছাত্রলীগ করতে গিয়ে সেই গৌরবকালে টেন্ডারবাজি, ঠিকাদারি, চাঁদাবাজি, কমিটি বাণিজ্য, পদবাণিজ্য করেননি! অথচ ক্ষমতার ১০ বছরে ধীরে ধীরে ছাত্রলীগ নেতৃত্বের হাত ধরে সংগঠন ডুবেছে ভোগ বিলাস অর্থ বিত্ত ক্ষমতার অন্ধ মোহে! একদল হাইব্রিড নষ্ট এমপি মন্ত্রী নেতার স্বার্থে কেন্দ্র থেকে তৃনমূলে ব্যবহার হয়েছে। হচ্ছে। এবার যদি শোভন-রাব্বানীর পরিণতির ভয়ে নষ্টরা নিজেদের শোধরান তাহলে বরমাল্য পাবেন, নয় অপমান লজ্জার বিদায়। একদা যে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসা জাতির সোনার সন্তানরা বাসে, ট্রেনে সাংগঠনিক সফর করতেন সেখানে একালের ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের নেতারা যেতেন হেলিকপ্টারে উড়ে, বিমানে দলবল নিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারই নয়, দলবল নিয়ে দখল করে উড়োজাহাজের দরজা পর্যন্ত সেলফি তুলেছেন। এই ছাত্রলীগ তার ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারিত্ব বহন করে না তাই শাস্তি পেতে হয়েছে। মুজিব কন্যাকে অভিনন্দন।
প্রধানমন্ত্রী দলের যারা ক্যাডার রাজনীতি করেন তাদেরও সতর্ক করেছেন। আশা করি ১০ বছরে দলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ক্ষমতার সুবাদে দুর্নীতি তদবির বাণিজ্য করে, কমিশন, মনোনয়ন, কমিটি বাণিজ্য করে আওয়ামী লীগের মতোন গণমুখী আদর্শিক দলকে বিতর্কিত করে নিজেরা বিদেশে, ঢাকায় ও এলাকায় বিত্তবৈভব গড়েছে, সরকারের ইমেজ নষ্ট করেছে তাদের বিরুদ্ধে্ও দলীয় কোর্টমার্শালে ব্যবস্থা নেবেন। আইনি ব্যবস্থা নেবেন। এতে দল সরকার ও তার ইমেজ বাড়বে। মুজিবকন্যার ইমেজের উপর ক্ষমতায় ভর করে দলবাজি করে যারা অর্থবিত্তের মোহে আজ অন্ধ, তাদের শাস্তি প্রাপ্য।
স্কুল জীবন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষদিন পর্যন্ত ছাত্রলীগ করেছি। এক সময় এ নিয়ে বড় গর্ব করতাম। একালে লজ্জায় বলতামওনা। বড় ভাই ৭৫পরে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক, পরে দুই সম্মেলনে সেই দুঃসময়ে সভাপতি, কী গৌরব অহংকার সম্মানের ছিলো তাদের, আমাদের ও পূর্বপুরুষদের সময়কার ছাত্রলীগের রাজনীতি। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগের ইতিহাস স্বাধীনতার ইতিহাস, ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস’। আজ যারা গৌরবের পতাকা বহন করছো, কাল যারা করবে, এই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারিত্ব বহন করবে। ফেসবুক স্ট্যাটাস
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি